অনুমোদনহীন রিসোর্ট-হোটেলে সয়লাব কাপ্তাই, বাড়ছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় পর্যটন বিকাশের আড়ালে অধিকাংশ রিসোর্ট ও আবাসিক হোটেল চলছে চরম অনিয়ম ও সরকারি অনুমোদন ছাড়াই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই এসব ব্যবসা পরিচালিত হওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও পর্যটক নিরাপত্তা। সেই সঙ্গে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাপ্তাইয়ের অধিকাংশ রিসোর্ট ও হোটেল নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) বা প্রাথমিক পরিবেশ পরীক্ষা (IEE) সম্পন্ন করা হয়নি। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অগ্নিনিরাপত্তা সনদ, নকশা অনুমোদন কিংবা হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সও নেই। আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের হোটেল-রেস্তোরাঁ পরিচালনার লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও তা মানছেন না অধিকাংশ ব্যবসায়ী।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ‘বনশ্রী রেস্তোরাঁ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, নামের শেষে রেস্তোরাঁ থাকলেও সেখানে খাবার পরিবেশনের বদলে ঘণ্টার বিনিময়ে কক্ষ ভাড়া দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করা হচ্ছে। কাপ্তাই থানা পুলিশ সম্প্রতি সেখান থেকে দুই যুগলকে আটক করার পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এছাড়া সন্ধ্যা হলেই এসব নির্জন স্থানে মাদক সেবনকারীদের আনাগোনা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অধিকাংশ রিসোর্টে নেই সিসিটিভি ক্যামেরা, প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা কর্মী কিংবা অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য সঠিক রেজিস্টার খাতা। ফলে যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "পর্যটন ব্যবসার নামে আইন ও পরিবেশের তোয়াক্কা না করে এসব দাপটে ব্যবসা চলছে, যা আমাদের সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করছে।"
কাপ্তাই থানা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত তদারকির অভাব এবং প্রয়োজনীয় আইনি নথি না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে ও পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে এসব অবৈধ রিসোর্টের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন কাপ্তাইয়ের সচেতন মহল।











