আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র: শিক্ষামন্ত্রী
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র: শিক্ষামন্ত্রী

আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে আগামী বছর থেকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সব আবশ্যিক ও সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে অভিন্ন (একক) প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, বুধবার (২৪ জুন) সকালে রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে চার শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একটি রাষ্ট্র, একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একই সিলেবাস থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বোর্ডে আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই। আমরা এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডকে এক সুতোয় বেঁধে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রেও বাংলা, ইংরেজির মতো সাধারণ বিষয়গুলোর পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।’


চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় একক প্রশ্নপত্র চালুর চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘বিজি প্রেস থেকে সঠিক নিয়মে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কোড অনুযায়ী সঠিক প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। প্রশ্ন বিতরণে কোনও ভুল বা কোড বিভ্রাট ঘটলে “সরি” বা দুঃখ প্রকাশ করে পার পাওয়া যাবে না। যার ভুল, তাকেই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

শিক্ষা খাতে নিয়োগ জট ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নয় মাসের পিটিআই প্রশিক্ষণ, পিএসসির ব্যাকলগ কিংবা এনটিআরসিএ’র শিক্ষক নিয়োগ—সব জায়গায় মামলা দিয়ে স্থবিরতা তৈরি করা হচ্ছে। ১৫ হাজার শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পরও মামলা করে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। একটি গ্রুপ ও অ্যাসোসিয়েশনের কিছু লোক এসব মামলার সঙ্গে জড়িত। আমি তাদের চিহ্নিত করছি। যারা জাতি গঠনের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে, তারা রাষ্ট্রের শত্রু, দেশের শত্রু। এ বিষয়ে মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সরকারও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’


এনটিআরসিএ’র প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে অতিরিক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যত্রতত্র স্কুল-কলেজ খোলা বন্ধ করতে আমি এনটিআরসিএ গঠন করেছিলাম। এর উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসকদের পিএমডিসি বা আইনজীবীদের বার কাউন্সিলের মতো শিক্ষকদের যোগ্যতার একটি রাষ্ট্রীয় সনদ দেওয়া, সরাসরি চাকরি দেওয়া নয়। কিন্তু বিগত সরকার একে ডাল-খিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছে। ফলে উত্তীর্ণ শিক্ষকেরা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরির জন্য ঘুরছেন।’

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে কোনও নিয়ম না মেনে প্রতি তিন কিলোমিটারের মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে স্কুল ও মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। ২৩ থেকে ২৬ শতক জমির ওপর ঘর তুলে নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের যোগ্যতার যথাযথ যাচাই হয়নি।

মন্ত্রী জানান, ইবতেদায়ী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় এবং লাগামহীনভাবে গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মো. আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।

এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।




শিক্ষক নিয়োগ ইস্যুর আন্দোলন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী: ‘চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কানে হাত দিয়ে দেখছে না’

শিক্ষক নিয়োগ ইস্যুর আন্দোলন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী: ‘চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কানে হাত দিয়ে দেখছে না’
ছবি সংগৃহীত।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, “চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কানে হাত দিয়ে দেখছে না কানটি রয়েছে কি না। একটি সভার সিদ্ধান্তের (রেজোলিউশন) আলোচনার অংশবিশেষ কেটে প্রচার করা হয়েছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। মন্ত্রীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা থাকলেও সেই অংশ বাদ দিয়ে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।”

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে ‘সমৃদ্ধ অর্থনীতির বিনির্মাণে শিক্ষা: দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা ও বৈশ্বিক গতিশীলতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না। গতকাল রাতে শুনলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল হচ্ছে। একটি মিটিংয়ের সিদ্ধান্তের আলোচনার জায়গাটি কেটে কোনো এক গুপ্ত ব্যক্তি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট অংশটি দেখিয়েছে। কিন্তু তার নিচে যে অংশ রয়েছে—মন্ত্রী সেটি দেখবেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন, তারপর সেটির প্রজ্ঞাপন জারি হবে। সেই বিষয়টি কিন্তু ওই প্রজ্ঞাপন বা চিঠির মধ্যেই রয়েছে। সেটুকু বাদ দিয়ে পত্রিকায় ছাপিয়ে দিল, আর তা নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা মিছিল শুরু করে দিল।”

সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা আলোচনার টেবিলে আলোচনা করা হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত হয়ে আমার কাছে আসবে। সেই খসড়া সিদ্ধান্তই কি মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটি কি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত? এটি কি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটি কি দলীয় সিদ্ধান্ত? একবারও ভেবে দেখল না! চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কিন্তু কানে হাত দিয়ে দেখছে না নিজের কানটি আছে কি না।”

এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “২০০৪ সালে আমি নিজে শিক্ষকদের মর্যাদা দেওয়ার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করে এই এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার এসে এনটিআরসিএ থেকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া শুরু করে। তারা ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ দিতে পারছে না, কারণ তাদের বয়স পার হয়ে গেছে। আমি রাস্তায় গাড়ি দিয়ে যাওয়ার সময় তারা আমার গাড়ির নিচে এসে মাথা দিয়ে দেয়—তাদের বয়স নেই। ১৮তম নিবন্ধনে প্রায় ১ লাখ শিক্ষককে এনটিআরসিএর লাইসেন্স ও সনদ দিয়েছে, কিন্তু চাকরি দেয়নি। তাদেরও বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ৭৭ হাজার পদ শূন্য হয়ে রয়েছে।”

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “তারা যেভাবে নিয়োগগুলো দিয়েছিল—নোয়াখালীর শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কুষ্টিয়ায়, রংপুরের শিক্ষককে খাগড়াছড়িতে, আর খাগড়াছড়ির শিক্ষককে লালমনিরহাটে। এই বদলি প্রক্রিয়া যে কতটা জটিল কাজ!”

৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “৯ হাজার শিক্ষককে নিয়োগ দিতে হবে। ৭৭ হাজার থেকে ৯ হাজার চলে গেলে বাকিদের আবার নথি বের করতে হবে এবং তাদের পরীক্ষা নিতে হবে।”

শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না জানিয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “একজন ছাত্র যখন শিক্ষকের সনদ পাবে, তাকে নিয়োগ দিতেই হবে। এখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি চলবে না।”




চট্টগ্রাম বোর্ডে শতভাগ পাস ২১ বিদ্যালয়ে, ৮টিতে কেউ পাস করেনি

চট্টগ্রাম বোর্ডে শতভাগ পাস ২১ বিদ্যালয়ে, ৮টিতে কেউ পাস করেনি
ছবি সংগৃহীত।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ২১টি বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে আটটি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ফলাফল ঘোষণা করেন।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ২১৮টি বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে শূন্য থেকে ১০ শতাংশ পাস করেছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০টি। ১১ থেকে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে ৪৬৮টি বিদ্যালয়ে। আর ৫১ থেকে ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে ৬৯৩টি বিদ্যালয়ে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২১৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। তাদের মধ্যে মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। 
এর আগে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।

এবার বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৪ হাজার ১২৩ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ২৭৫ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে।

এদিকে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে বান্দরবান। এ জেলায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং রাঙামাটিতে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ, মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং মহানগরসহ চট্টগ্রাম জেলায় ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।




পাসের হারে ৩ পার্বত্য জেলায় এগিয়ে বান্দরবান

পাসের হারে ৩ পার্বত্য জেলায় এগিয়ে বান্দরবান
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফলে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে বান্দরবান।

এ জেলায় ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলায় ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং রাঙামাটি জেলায় ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ফলাফল ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এছাড়া মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং মহানগরসহ জেলার পাসের হার ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। এর বাইরে বোর্ডের অধীন কক্সবাজার জেলার পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

ফলাফলে দেখা গেছে, এবার সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। এর আগে ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩, ২০২৪ সালে ১০ হাজার ৮২৩, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৫০ এবং ২০২২ সালে ১৮ হাজার ৬৬৪ জন।

এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২১৮টি কেন্দ্রে ১ হাজার ২১৮টি বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। এবার ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ১২৩ জন ছাত্র এবং ৫ হাজার ২৭৫ জন ছাত্রী।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে, আটটি বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি। এছাড়া শূন্য থেকে ১০ শতাংশ পাস করেছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০টি, ১১ থেকে ৫০ শতাংশ পাস করেছে ৪৬৮টি এবং ৫১ থেকে ৯৯ শতাংশ পাস করেছে ৬৯৩টি বিদ্যালয়।