আদালতের রায় উপেক্ষা করে জমি জবরদখলের অভিযোগে ম্যাক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে মানববন্ধন
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

আদালতের রায় উপেক্ষা করে জমি জবরদখলের অভিযোগে ম্যাক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

আদালতের রায় উপেক্ষা করে জমি জবরদখলের অভিযোগে ম্যাক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে মানববন্ধন
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের পালাকাটা মৌজায় সড়ক নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ, উচ্ছেদ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। আদালতের রায় ও প্রকৃত মালিকদের দাবি উপেক্ষা করে সরকারি অধিগ্রহণের বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে মাটি কাটা ও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে।


এর প্রতিবাদে বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জমির মালিক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তারা অবিলম্বে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ, প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।


ভুক্তভোগীদের দাবি, চট্টগ্রাম পার্টিশন স্যুট নং-৭/৫৩ এবং কক্সবাজার পার্টিশন স্যুট নং-৩৮/৮৯ এর চূড়ান্ত রায় ও ডিক্রির মাধ্যমে পালাকাটা মৌজার প্রায় ২৬ দশমিক ০১ একর জমির মালিকানা নির্ধারিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসলেও সম্প্রতি প্রকল্পের কাজের অজুহাতে সেখানে মাটি কাটা ও খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুন সকালে ম্যাক্স গ্রুপের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে স্কেভেটর দিয়ে জমি কেটে বড় আকারের জলাধার তৈরির কাজ শুরু করেন। জমির মালিকপক্ষ বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। পরে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।


ক্ষতিগ্রস্ত মাষ্টার মুজিবুল হক অভিযোগ করে বলেন, আদালতের রায়ে স্বীকৃত প্রকৃত মালিকদের পরিবর্তে ভুল বিএস রেকর্ডধারীদের নামে ক্ষতিপূরণের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত মালিকরা ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।


মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক ভুক্তভোগী জানান, আদালতের ডিক্রিধারী মালিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা উন্নয়নের বিরোধী নন, তবে তাদের বৈধ অধিকার রক্ষার দাবি জানান।


স্থানীয়দের মতে, নির্বিচারে মাটি কাটা ও বড় আকারের জলাধার খননের কারণে কৃষিজমি, পরিবেশ এবং জলপ্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ম্যাক্স গ্রুপের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এদিকে মানববন্ধন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেন, জমি ফেরত চাওয়ার জন্য ম্যাক্স গ্রুপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তারা বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের চূড়ান্ত রায় ও ডিক্রি কার্যকর থাকা কোনো জমিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের অধিকার যাচাই ছাড়া উচ্ছেদ বা দখলমূলক কার্যক্রম পরিচালনা নতুন আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রেও প্রকৃত মালিকানা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।