আনোয়ারায় দুর্ধর্ষ ডাকাত মো. আলী গ্রেপ্তার

আনোয়ারায় অস্ত্র, চুরি, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাই ও ডাকাতির ১১টি মামলার আসামি এবং ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক দুর্ধর্ষ ডাকাত মোহাম্মদ আলীকে (৬৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজিগাঁও এলাকা থেকে আনোয়ারা থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মোহাম্মদ আলী স্থানীয় মৃত জালাল আহমদের ছেলে।
গত শনিবার উপজেলার খিলপাড়া এলাকায় ‘মোহছেন আউলিয়া ট্রেডার্স’ নামক একটি স্ক্র্যাপের দোকান থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ মোহাম্মদ আলীকে শনাক্তের পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী এহছানুল করিম (৪৯) বলেন, “আনোয়ারা থানার খিলপাড়া এলাকায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মোহছেন আউলিয়া ট্রেডার্স নামের একটি স্ক্র্যাপ মালামালের দোকান থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল চুরি হলে আমি সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মো. আলীকে শনাক্ত করি। পরে মো. আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনকে আসামি করে আনোয়ারা থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ডাকাত মো. আলীর কারণে আমরা অতিষ্ঠ।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমগীর বলেন, “ডাকাত মো. আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। শনিবার একটি স্ক্র্যাপ দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় অভিযান চালিয়ে হাজিগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
আনোয়ারা থানা সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে আনোয়ারাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ইয়াবা, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্রসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। দেয়াং পাহাড়ে তাঁর একটি সক্রিয় ডাকাত দল ও নিজস্ব অস্ত্রভান্ডার রয়েছে। বিভিন্ন সময় তাকে গ্রেপ্তার করে দেশীয় তৈরি অস্ত্র, কার্তুজ ও রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধারও করেছে পুলিশ। ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার মো. আলীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধ ও সমাবেশ করেছেন।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “মো. আলী একজন দুর্ধর্ষ ডাকাত, তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। সে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিও। সম্প্রতি একটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”











