আমাল ফাউন্ডেশনের ক্লাইমেট হ্যাকাথন: বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তরুণী ও নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ অত্যন্ত জরুরি
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন

আমাল ফাউন্ডেশনের ক্লাইমেট হ্যাকাথন: বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তরুণী ও নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ অত্যন্ত জরুরি

আমাল ফাউন্ডেশনের ক্লাইমেট হ্যাকাথন: বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তরুণী ও নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ অত্যন্ত জরুরি
ছবি সংগৃহীত।

তরুণীদের জলবায়ু নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও সামাজিক অংশগ্রহণকে এগিয়ে নিতে আমাল ফাউন্ডেশনের “ক্লাইমেট ক্যাটালিস্ট ফেলোশিপ ফর গার্লস” কর্মসূচির আওতায় কক্সবাজারে “ক্লাইমেট হ্যাকাথন” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২১ মে “ফিউচার রুটস: ক্লাইমেট হাব ফর ইয়ুথ” উদ্যোগে পর্যটন শহরের একটি আবাসিক হোটেলের কনফারেন্স হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত তরুণীরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তাঁদের উদ্ভাবনী ও সমাধানমূলক প্রকল্প উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আমাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইশরাত করিম।

তিনি বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তরুণী ও নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, সচেতন ও মানবিক নেতৃত্বে গড়ে তুলতে এখন থেকেই কার্যকর বিনিয়োগ প্রয়োজন।"

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি আমাল ফাউন্ডেশনকে মানবিক ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এনজিও সেল) মো. আজাহার উদ্দিন এবং ইউএন উইমেন কক্সবাজার সাব-অফিসের হেড সিলিয়া রাজেন্দার।

অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে তরুণদের সম্পৃক্ততা, নারীর নেতৃত্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সামিরা মেহনাজ ও লামিয়া মাইশা।

হ্যাকাথনে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন প্রধান ড. রাহুল ম্যাথিউ, ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর (লজিক প্রকল্প) এ. কে. এম. আজাদ রহমান, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ডিরেক্টর ইনক্লুশন ও ইন্টিগ্রেশন অ্যালিসা ম্যারি রুসো, অক্সফামের হেড অব ইকোনমিক ইনক্লুশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাতেমা তুজ জোহরা এবং বিডার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর তামান্না রাব্বানী।

অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও ও আইএনজিও) এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিচারকদের সামনে অংশগ্রহণকারী ফেলোরা পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, টেকসই জীবিকায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স বিষয়ে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প তুলে ধরেন।

তরুণীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতা ও সৃজনশীলতার ইতিবাচক দিক ফুটে ওঠে। প্রকল্পের কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বিচারকমণ্ডলী পাঁচটি প্রকল্পকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে সহায়তা দিতে আমাল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এ সময় বিজয়ীদের হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন বিচারকমণ্ডলীর সদস্যরা।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ইশরাত করিম ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, "তরুণদের সৃজনশীলতা, উদ্যম এবং নেতৃত্বের সক্ষমতাই ভবিষ্যতের জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।" তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে “ক্লাইমেট হ্যাকাথন”-এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।