আলীকদমে পাড়ার মাঝখানে পর্যটন স্পট গড়ে তোলার অভিযোগ,অতিষ্ঠ শীলবনিয়া মার্মা পাড়াবাসী
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

আলীকদমে পাড়ার মাঝখানে পর্যটন স্পট গড়ে তোলার অভিযোগ,অতিষ্ঠ শীলবনিয়া মার্মা পাড়াবাসী

আলীকদমে পাড়ার মাঝখানে পর্যটন স্পট গড়ে তোলার অভিযোগ,অতিষ্ঠ শীলবনিয়া মার্মা পাড়াবাসী
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের শীলবনিয়া মার্মা পাড়ার মাঝখানে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পর্যটন স্পট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা চাইশেমং মার্মা নামের এক ব্যক্তির উঠানে গড়ে ওঠা এই স্পটটিকে কেন্দ্র করে পাড়ার পরিবেশ ও নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীলবনিয়া পাড়াবাসী।

​লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ঈদুল আজহার পর থেকে হঠাৎ করেই পাড়ার মাঝখানে উন্মুক্ত জায়গায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এই ট্যুরিস্ট স্পটটি বসানো হয়। এর পর থেকেই প্রতিদিন দিন-রাত সেখানে পর্যটকদের বেপরোয়া চলাফেরা, অসংলগ্ন আচরণ ও বিভিন্ন বিরক্তিকর কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।

অভিযোগপত্রে পাড়ার শান্তপ্রিয় বাসিন্দারা তাদের দৈনন্দিন জীবনে নেমে আসা নানা ভোগান্তির কথা তুলে ধরেছেন।
​পর্যটকদের অতিরিক্ত সমাগম এবং তাদের অশালীন আচরণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশেষ করে পাড়ার যুবতী ও মায়েরা পর্যটকদের আপত্তিকর আচরণের কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।
উন্মুক্ত স্থানে প্রকাশ্যে ধূমপান, গাঁজা এবং বাংলা মদ সেবনের মতো অসামাজিক কার্যকলাপ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া উচ্চশব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে নাচ-গান করার কারণে এলাকার শান্ত পরিবেশ বিনষ্ট ও তীব্র শব্দদূষণ হচ্ছে।
​রান্নার যাবতীয় কাজ মার্মা সম্প্রদায়ের মানুষ দিয়ে করানোর কারণে সেখানে আগত মুসলিম পর্যটকদের জন্য হালাল খাবারের নিশ্চয়তা থাকছে না। অনেক সময় অসচেতনভাবে নিজেদের হাতে মুরগি জবাই করার ঘটনাও ঘটছে, যা মুসলিম পর্যটকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে।
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি পাবলিক টয়লেট অভিযুক্ত চাইশেমং মার্মার উঠানের বাউন্ডারির ভেতরে পড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ সেটি ব্যবহার করতে পারছে না। টয়লেটটি বাউন্ডারি থেকে মুক্ত করে সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

​আবেদনকারীরা জানান, তারা ভয়ে নাম প্রকাশ করতে পারছেন না, তবে পাড়ার শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা চরমভাবে উদগ্রীব। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে এবং পাড়ার সামাজিক পরিবেশ রক্ষার্থে আলীকদম থানা পুলিশকে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন শীলবনিয়া পাড়াবাসী।

​আলীকদম থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক উপন বড়ুয়া বলেন, পাড়ার মাঝে টুরিস্ট স্পট করে জনভোগান্তি তৈরি করার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি ওসি সাহেব বলতে পারবেন। তিনি ছুটিতে আছেন তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।