আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ , পাহাড় কেটে সাবাড়
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ , পাহাড় কেটে সাবাড়

আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ , পাহাড় কেটে সাবাড়
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুনিয়া পাহাড়তলী মসজিদ সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দকৃত জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পাশের বনভূমির পাহাড় কেটে আনা মাটি দিয়ে নির্মাণাধীন বাড়ির ভরাট কাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ ঘুনিয়া এলাকায় এহসানের দোকানের সামনে আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন স্থানে একটি বড় আকারের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি সরকারি খাস জমি ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের সংরক্ষিত জায়গা দখল করে ওই ভবন নির্মাণ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানের ১৬৭২ দাগভুক্ত জমিতে প্রায় ২০টি পরিবারকে নিয়ে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছিল। বর্তমানে প্রকল্পটির অস্তিত্ব নামমাত্র থাকলেও উপকারভোগীদের জন্য সংরক্ষিত জায়গার একটি অংশে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনের ভরাট কাজে পাশের বন বিভাগের পাহাড় কেটে আনা মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে পরিবেশ ও বনভূমির ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন আবু তালেব, মমতাজ বেগম, লায়লা বেগম ও বদিউল আলম। তারা দাবি করেন, বিএস ১৬৭২ দাগভুক্ত প্রায় ৮ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র দেখাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যর্থ হয়েছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জমি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে অভিযোগকারীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা প্রশাসনের কাছে জমি পরিমাপ করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং সরকারি ও সংরক্ষিত জমি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিতে স্থাপনা নির্মাণ এবং পাহাড় কেটে মাটি ভরাটের মতো কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে কেন আসেনি।

অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন বলেন, যদি সরকারি জায়গা হয় তাহলে সরকারকে নিয়ে যেতে বলেন।

ফাঁসিয়াখালী বনবিট কর্মকর্তা(ডেপুটি রেঞ্জার) খসরুল আমিন বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে, নিয়মিত তদারকি

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরকারি জমি ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের সংরক্ষিত জায়গা উদ্ধার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।