ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি সংগৃহীত।

কাতার ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে জব্দ করে রাখা ইরানের সম্পদ মুক্ত করে দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (১১ এপ্রিল) ইরানের এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত ছিল আলোচনার আগে তাদের ‘সদিচ্ছার পরীক্ষা’। এছাড়া মার্কিনিরা এ আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে এটি সেটিরও একটি ইঙ্গিত বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেছেন, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি ‘হরমুজে জাহাজ চলাচলের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ ইরান হরমুজে কোনো বাধা ছাড়া জাহাজ চলতে দেবে এমন শর্তে তাদের জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দিচ্ছে মার্কিনিরা।

গতকাল ইরানের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে জানান, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা ততক্ষণ আলোচনা শুরু করবেন না, যতক্ষণ লেবাননে ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করবে এবং তাদের জব্দকৃত সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে না দেবে।

মার্কিনিদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের পণ্য বিক্রির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকে আছে।

এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর টানা ৪০ দিন তাদের মধ্যে যুদ্ধ হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ থামলেও; এ যুদ্ধবিরতি প্রথম থেকেই বেশ ভঙ্গুর। ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল হুমকি দিয়েছেন, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় তাহলে ইরানে আবারও হামলা শুরু হবে। এরজন্য জাহাজকে অস্ত্রেসজ্জিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সূত্র: রয়টার্স




বাংলাদেশে ভ্রমণে ‘উচ্চমাত্রার সতর্কতা’ কানাডার

বাংলাদেশে ভ্রমণে ‘উচ্চমাত্রার সতর্কতা’ কানাডার
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে কানাডা সরকার। নতুন সতর্কবার্তায় বাংলাদেশকে এখনও ‘উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বন’ পর্যায়ে রেখেছে দেশটি। তবে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে সেখানে ‘সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলা’ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কানাডা সরকারের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে গত সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত হালনাগাদ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিচারিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোনও সময় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও জনঅস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে যান চলাচল ব্যাহত হওয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সহিংসতার মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কানাডা সরকার।

এ কারণে বাংলাদেশে অবস্থানরত বা সফররত কানাডীয় নাগরিকদের বড় ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে সতর্কবার্তায় আরও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা, অপহরণ ও সংঘর্ষের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কানাডা সরকার।

বাংলাদেশ নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে দুই দফা ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছিল কানাডা সরকার। সর্বশেষ হালনাগাদের মাধ্যমে সেই সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে।




কলম্বিয়ায় ভূমিকম্প : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্প : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০
ছবি সংগৃহীত।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় গত কাল মঙ্গলবার ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন ভবনের ধ্বংস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ ধ্বংস্তূপের তলায় এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। তবে অপর একটি সূত্রে জানা গেছে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত) মোট ২৫৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে। নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পশ্চিমাঞ্চলীয় পার্বত্য শহর পেরেইরাতে— ১০১ জন। তার পরে দ্বিতীয় স্থানে আছে দেশটির অন্যতম বৃহৎ শহর কালি।

গত কাল সোমবার কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারে, ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে বলেও বলা হয়েছে ইউএসজিএসের বিবৃতিতে।

গত শুক্রবার কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা শপথ নিয়েছেন। তার শপথ গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় হলো এ ভূমিকম্প। প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলার্দো অবশ্য ইতোমধ্যে ভূমিকম্পে সবচেয়ে বিধ্বস্ত চোকো প্রদেশ সফর করেছেন। ভূমিকম্প দুর্গতদের জন্য ১ হাজার ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি সহায়তা বাজেটও ঘোষণা করেছেন তিনি।

কলম্বিয়া কফি উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশ। ভূমিকম্পের পর  উদ্ধারকাজে সরকারি দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি দেশটির কফি উৎপাদনকারীদের জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল কফি ফেডারেশনের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও এগিয়ে এসেছে।

রোসা গঞ্জালেস নামের এক নারী রয়টার্সকে জানান, তিনি তার স্বামী ও ১০ মাসের শিশুসন্তানসহ পেরেইরা শহরে ঘুরতে গিয়েছিলেন। ভূমিকম্পে নিতান্তই সৌভাগ্যের কারণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি।

“আমরা যে গেস্ট হাউসে ছিলাম, সোমবার সকালে হঠাৎ গোটা গেস্ট হাউস দুলতে শুরু করল এবং আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে বের হয়ে আসি। আমরা গেস্ট হাউস থেকে বের হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সেটি ধসে পড়ে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার জোসে গাল্লেগো ভূমিকম্পের সময় পেরেইরা ছিলেন এবং এ ঘটনার লাইভ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, “লাইভ ভিডিওর জন্য আমি পায়ে হেঁটে পেরেইরা শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে গিয়েছি। আমি দেখেছি যে বহু মানুষ আহত হয়েছে, তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে, তারা ব্যাথায়-আতঙ্কে আর্তনাদ করছে এবং পরিবারের সদস্যদের খুঁজছে।”  

ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত অপর শহর কালিতে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়িঘর ভেঙে পড়ায় বাস্তুহারা হওয়া অনেকেই সড়কে থাকছেন, রান্না করছেন এবং ধ্বংসস্তূপে মূল্যবান জিনিসপত্রের সন্ধান করছেন।

কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম এ শহর প্রশাসনের স্বাস্থ্য সচিব গেরমান এস্কোবার জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের শহরের প্রধান মর্গ লাশে পূর্ণ হয়ে গেছে।




মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল

মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল
ছবি সংগৃহীত।

হাজার হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে অভিবাসন দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসন সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসা লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপকহারে ভিসা বাতিল গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর শুরু হওয়া অভিবাসন দমন অভিযানেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীন সংখ্যক মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ফলস্বরূপ এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যাতে তাঁদের ভিসার শর্তাবলি মেনে চলেন এবং আমেরিকানদের বিপদে ফেলেন না, সেটি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজমের’ জন্য ১০০ জনেরও বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। তারা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবে, তাদের ভিসা বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। ওই সময় এটি একটি রেকর্ড ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা