ইরান-মার্কিন চুক্তিতে কেন আলোচনায় ৩ হাজার কোটি ডলার
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন

ইরান-মার্কিন চুক্তিতে কেন আলোচনায় ৩ হাজার কোটি ডলার

ইরান-মার্কিন চুক্তিতে কেন আলোচনায় ৩ হাজার কোটি ডলার
ছবি সংগৃহীত।

আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, তার অংশ হিসেবে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) মার্কিন ডলারের একটি বিশাল বিনিয়োগ তহবিল গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক বাজার ওলটপালট করে দেওয়া এই যুদ্ধাবসানের সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

রবিবার উভয় পক্ষ এই চুক্তিতে ডিজিটালভাবে স্বাক্ষর করার পর, সোমবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সিবিএস নিউজকে জানান, এই আর্থিক সুযোগ চুক্তির শর্ত পালনে ইরানের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করবে।


ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে দাবি করতেন যে, ওই চুক্তি তেহরানকে বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়েছিল। ফলে এই রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে জনসাধারণের ধারণা নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বলে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা ভুয়া খবর।


অন্যদিকে ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন যে, এই অর্থ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনও সরাসরি অর্থপ্রদান নয়।

সিবিএস মর্নিং অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, মানুষ যখন বলছে যে শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা হবে, তখন তা সত্যি নয়। সত্যটা হলো, ইরান যদি এই চুক্তিতে করা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করে, তবে তাদের ভবিষ্যৎ আরও অনেক ভালো ও সমৃদ্ধ হবে।


কী এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিল?

ভ্যান্সের মতে, এই চুক্তিটি মূলত ইরানের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলছে, দেখো, তোমরা যদি তোমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে রাজি থাকো এবং পারমাণবিক কর্মসূচিতে প্রকৃত পরিদর্শনের অনুমতি দাও, তবে আমরা তোমাদের বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বাগত জানাব।

ভ্যান্স জানান, এই তহবিলটি যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগার থেকে যাবে না, বরং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জোট এর অর্থায়ন করবে, যদি ইরান তাদের শর্ত পূরণ করে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই তহবিল কোনও দেশের সরকার দেবে না, বরং ইরানে বিনিয়োগ করতে উদগ্রীব বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির সমন্বয়ে এটি গঠিত হবে। মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো মুহানাদ সেলুম বলেন, এই কাঠামোটি ওয়াশিংটনের জন্য একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি। তিনি বলেন, ইরান যদি নিজেকে সংশোধন করে, তবে এই শান্তির কৃতিত্ব পাবে ট্রাম্প প্রশাসন; আর যদি তারা তা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ক্ষতি নেই, কারণ সব ঝুঁকি বহন করবে উপসাগরীয় দেশগুলো।

ইরানের অবমুক্ত তহবিল নিয়ে ধোঁয়াশা

বিশ্লেষক মুহানাদ সেলুমের মতে, মূলত ইরানের অবরুদ্ধ করা অর্থ সরাসরি ছেড়ে দেওয়ার নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রচার এড়াতেই এই বিনিয়োগ তহবিলের ধারণাটি সাজানো হয়েছে। ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদের সঠিক পরিমাণ স্পষ্ট না হলেও, ইরানি সরকারি প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞদের মতে এর পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এবং পরবর্তীতে পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের দেওয়া বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়েছে। এর ফলে তেহরান বিদেশে থাকা তাদের নিজস্ব সম্পদ, যেমন তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহারের অধিকার হারিয়েছে। ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের আমলে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির পর ইরান কিছু নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেলেও, ২০১৮ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প সেই চুক্তিটি বাতিল করে দেন।

গত রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি দাবি করেছিল যে, ১৪ দফার খসড়া সমঝোতা স্মারকে ২৪ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে সিবিএস নিউজের প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ইরানিদের সঙ্গে আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি, তার কোনও অনুলিপিতে এই ২৪ বিলিয়ন ডলারের সংখ্যার কোনও অস্তিত্বই নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি যে আমরা সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে কথা বলতে রাজি, তবে আরও বড় বিষয় হলো তাদের অর্থনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যদি তারা পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দেয়।

অনুমান করা হচ্ছে এই যুদ্ধে ইরানের প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দেশের মানুষ ১৯৪২ সালের পর সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ধুঁকছে। এই পরিস্থিতিতে এই বিনিয়োগ তহবিল দেশটির জন্য একটি বড় লাইফলাইন হতে পারে। তবে মুহানাদ সেলুমের মতে, এটি ইরানের জন্য এক ধরনের ‘মর্যাদার সংকট’ তৈরি করবে। কারণ, তেহরান এটিকে কোনও সার্বভৌম আর্থিক স্বস্তি হিসেবে দেখবে না, বরং দেখবে তাদের ওপর শর্তযুক্ত অর্থ হিসেবে।

চুক্তি সইয়ের পর যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তাদের কাছে থাকা ৪৪০ কেজিরও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে পশ্চিমাদের উদ্বেগ দূর করা। বর্তমান চুক্তিটি চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদকে আরও ৬০ দিন বাড়িয়ে দেবে, যে সময়ের মধ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা সরিয়ে ফেলার মতো বিষয়ে দুই পক্ষ পরবর্তী আলোচনা করবে।

ভ্যান্স দাবি করেছেন যে তেহরান তাদের মজুত সমর্পণ করতে, নিয়মিত পরিদর্শনের মুখোমুখি হতে এবং পারমাণবিক অস্ত্র কেনা বা তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয়েছে। তবে সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক রয়ে গেছে। ট্রাম্প গত রবিবার ‘তেল প্রবাহিত হতে দিন’ বলে প্রণালি খোলার ইঙ্গিত দিলেও, সিএনবিসি-র সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে এই নৌপথের সব জটিলতা এখনও কাটেনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা হলো এই প্রণালিটি দীর্ঘমেয়াদে শুল্ক-মুক্ত উপায়ে খোলা থাকবে এবং এই প্রযুক্তিগত আলোচনাগুলোর মাধ্যমেই আমরা বিষয়টি চূড়ান্ত করব।

পাশাপাশি, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে। কারণ ইরান শুরু থেকেই জোর দিয়ে আসছে যে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে তাদের মিত্র দেশ লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত এমন কোনও শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে যা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তাদের হাত বেঁধে দেয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ শুক্রবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তেহরানের সঙ্গে কোনও চুক্তি হোক বা না হোক, লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চুক্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই সমঝোতা স্মারক ইরানের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে, তবে তেহরান তাদের সব প্রয়োজনের জন্য কেবল এই সুবিধার ওপরই নির্ভর করবে না। প্রেস টিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী সোমবার আরাঘচি বলেন, ‘আমাদের সামনে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, চুক্তি অমান্য এবং চুক্তি ছিঁড়ে ফেলার অতীত ইতিহাস রয়েছে।’ তিনি জানান, আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে ট্রাম্পের জন্মদিনের দিনে এই চুক্তির ঘোষণা আসায় কিছু ইরানি পর্যবেক্ষক তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। এই যুদ্ধের শুরুতে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে রক্ষণশীল সাংবাদিক পারিসা নাসর এক্স-এ লিখেছেন,  ‘শহীদ নেতার হত্যাকারীকে জন্মদিনের উপহার দেওয়াও কি এই চুক্তির কোনও অলিখিত শর্ত ছিল?’

অবশ্য ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এই চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে যাতে ইরানি জাতির অধিকারের প্রতি আমেরিকার প্রকৃত প্রতিশ্রুতির বিষয়টি বাস্তবে পরীক্ষা করা যায়।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিটিকে ‘ন্যায্য’ ও ‘ভালো’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে কঠোর ভাষায় তিনি মনে করিয়ে দেন, এই চুক্তির অধীনে ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং তা করলে তাদের উড়িয়ে দেওয়া হবে।

সম্মেলনে উপস্থিত কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেন, এই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এই অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে। ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি, এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। তবে আমরা যদি এই গতি ধরে রাখতে পারি, তবে আমি বিশ্বাস করি আমরা এই অঞ্চলে দারুণ কিছু অর্জন করতে পারব।’

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও চুক্তির সব শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। সিনেটর গ্রেগরি মিকস বলেন, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি অবশ্যই স্থায়ী, প্রয়োগযোগ্য ও স্বচ্ছ হতে হবে, এটি যেন কেবল কোনও অস্পষ্ট ঘোষণা বা রাজনৈতিক চাল না হয়।

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম রবিবার চুক্তি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশের পাশাপাশি কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমার মনে হচ্ছে এই চুক্তি নিয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি মার্কিন দলের দাবির চেয়ে আলাদা।

মিডল ইস্ট কাউন্সিলের বিশ্লেষক মুহানাদ সেলুম বলেন, দুই পক্ষের এই ভিন্ন ভিন্ন সুর এটাই প্রমাণ করে যে তারা আসলে একে অপরের সঙ্গে প্রকৃত অর্থে কোনও কথা বলছে না। তিনি বলেন, তারা মূলত নিজেদের দেশের ভেতরের জনগণকে শান্ত করতে একে অপরের ওপর দিয়ে কথা বলছে। কারণ দুই পক্ষকেই নিজ দেশে এটিকে এমন একটি ‘বিজয়’ হিসেবে বিক্রি করতে হচ্ছে, যা তারা সততার সঙ্গে করতে পারছে না।

সূত্র: আল-জাজিরা




মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল

মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল
ছবি সংগৃহীত।

হাজার হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে অভিবাসন দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসন সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসা লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপকহারে ভিসা বাতিল গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর শুরু হওয়া অভিবাসন দমন অভিযানেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীন সংখ্যক মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ফলস্বরূপ এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যাতে তাঁদের ভিসার শর্তাবলি মেনে চলেন এবং আমেরিকানদের বিপদে ফেলেন না, সেটি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজমের’ জন্য ১০০ জনেরও বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। তারা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবে, তাদের ভিসা বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। ওই সময় এটি একটি রেকর্ড ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা 




হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত

হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলতে দেয় ভারত সরকার। এ নিয়ে ঢাকা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানায়।

হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের দুইদিন পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত। আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এ সাংবাদিক। জবাবে তিনি প্রথমে দাবি করেন, হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর হাসিনা ওইদিন বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে যা যা বলেছেন সেটিতেও নয়াদিল্লির সমর্থন নেই।

রণধীর বলেন, “একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এতে সরকারের কোনো অবদান নেই। আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখা হাসিনা ও অন্যান্যদের কথার প্রতি ভারতের কোনো সমর্থন নেই উল্লেখ করে এ কূটনীতিক বলেছেন, “ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো কথাকেই (ভারত) সরকার সমর্থন করে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের ব্যাপারে দেওয়া কোনো মন্তব্য তো নয়ই।”

হাসিনাপুত্র সজিব ওয়াজেদ ওইদিন মন্তব্য করেন ভারতের পূর্ব দিকের অঞ্চল (বাংলাদেশ) এখন  পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে। এ ব্যাপারে রণধীরকে অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন জয় যে কথা বলেছে সেটিকে ভারত সমর্থন করে কি না, এ ব্যাপারে তারা কোনো কিছু করছেন কি না।

জবাবে রণধীর বলেন, “আমরা আমাদের একদম পাশের প্রতিবেশীর ওপর গভীর নজর রাখি, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেগুলো সেগুলোর ওপর। আর এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা সেগুলো নেই।”




থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭
ছবি সংগৃহীত।

থাইল্যান্ডে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ওই স্কুলের এক শিক্ষক এবং হামলাকারী নিজেও আছে।

আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলার একটি সুপরিচিত স্কুলে এই ঘটনা। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছিল।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

দেচরাপি কংদি আরও জানান, স্কুলভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে গুলি ছুড়েছিল ওই শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সে নিজে আত্মঘাতী হয়।

গুলি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা স্কুল থেকে সরে পড়েছিলেন।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।

সূত্র : এএফপি