ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা পর্যায়ে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা পর্যায়ে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা পর্যায়ে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন
ছবি সংগৃহীত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা পর্যায়ে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে।

৪ মে দুপুরে ইফা জেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় জেলার ৯ উপজেলা থেকে ১৮টি মাদ্রাসার ৭০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।

পৃথক তিন গ্রুপে (১০ পারা, ২০ পারা ও ৩০ পারা) অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় প্রত্যেক গ্রুপ থেকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়সহ সর্বমোট ৯ জন প্রতিযোগী আগামী ৭ মে, বৃহস্পতিবার বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য উত্তীর্ণ হয়েছে।

বিজয়ীরা হলেন- ৩০ পারা গ্রুপ : কক্সবাজার সাওতুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদরাসার মনিরুজ্জামান সিকদার প্রথম, তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসার ইফতেখার উদ্দিন আলিফ দ্বিতীয় এবং চকরিয়া আজিজিয়া মদিনাতুল উলুম হিফজ মাদ্রাসার মোঃ তাজনুর তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। 
২০ পারা গ্রুপ : কক্সবাজার সাওতুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদরাসার লাবিব হাসান প্রথম, তানযীমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসার আরিয়ান তাহমিদ রাইয়ান দ্বিতীয় এবং চকরিয়া সাইরাখালী আজিজিয়া মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসার মো. হোবাইব তৃতীয় হয়েছে। 
১০ পারা গ্রুপ : পেকুয়ার বারবাকিয়া রহমানিয়া হিফজখানার মো. আবু সাঈদ সিয়াম প্রথম, মাদরাসা এ তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়ার শাহ নেওয়াজ দ্বিতীয় এবং উখিয়ার তাহসীনুল উম্মাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার আবরার ফয়সাল সাকিব তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: শাহিদুল আলম।

তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর ঐশী বাণী। এই মহাগ্রন্থের প্রচার এবং প্রসার সবার নৈতিক দায়িত্ব। হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কুরআনের মহান বাণী ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন কক্সবাজার এর উপপরিচালক মুহাম্মদ সরওয়ার আকবর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বদর মোকাম জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল খালেক নেজামী বিশেষ অতিথি ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন কক্সবাজারের ফিল্ড অফিসার ফজলুল করিম।

সিনিয়র ফিল্ড সুপারভাইজার মো: সাইফুদ্দিন খালেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মডেল মসজিদের সহকারী ইমাম মাওলানা ওসমান গনি, ইফার মাস্টার ট্রেইনার মো: আমান উল্লাহ, পেশকারপাড়া নূরানী মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা রুহুল মতিন ও খুনিয়া পালং হিফজ মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মোবারক আলীসহ সংশ্লিষ্ঠরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আগামী ৭ মে, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামস্থ হাজী ক্যাম্পে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিজয়ী প্রতিযোগীদের সনদ ও নগদ অর্থসহ পুরস্কার দেওয়া হবে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।