ই-পাসপোর্টের জন্য এনআইডির বায়োমেট্রিক ছাপ দিয়ে হবে পরিচয় যাচাই
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন

ই-পাসপোর্টের জন্য এনআইডির বায়োমেট্রিক ছাপ দিয়ে হবে পরিচয় যাচাই

ই-পাসপোর্টের জন্য এনআইডির বায়োমেট্রিক ছাপ দিয়ে হবে পরিচয় যাচাই
ছবি সংগৃহীত।

ই-পাসপোর্ট প্রদান প্রক্রিয়ায় সরকার বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। পাসপোর্টের সঙ্গে সরাসরি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বায়োমেট্রিক তথ্য যুক্ত করে স্বয়ংক্রিয় উপায়ে পরিচয় নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতি চালু হলে পাসপোর্ট করা বা নবায়নের ক্ষেত্রে পুলিশি যাচাই 'কার্যত' বন্ধ হয়ে যাবে এবং জাল পাসপোর্ট তৈরি ঠেকানো সম্ভব হবে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই নতুন পদ্ধতি দ্রুত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নতুন পদ্ধতি যেভাবে কাজ করবে:

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এই প্রস্তাব কার্যকর হলে, এনরোলমেন্ট কাউন্টারে আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে তা সরাসরি এনআইডিতে সংরক্ষিত আঙুলের ছাপের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা হবে। মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তিও (ফেস ভেরিফিকেশন) এনআইডির ছবির সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করবে। কোনো অমিল পাওয়া গেলে তা ম্যানুয়াল যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে।

নিরাপত্তার কারণ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশি যাচাই বন্ধ থাকায় পরিচয় নিশ্চিতকরণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, এনআইডির বায়োমেট্রিক তথ্যই তা পূরণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বয়স, আলোর পার্থক্য ও অন্যান্য কারণে ছবি দেখে মিল যাচাই শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়; তাই স্বয়ংক্রিয় বায়োমেট্রিক মিল অপরিহার্য।

সুবিধা: সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, এতে দুটি বড় সুবিধা হবে—প্রথমত, জাল পরিচয়ে পাসপোর্ট গ্রহণ রোধ হবে এবং দ্বিতীয়ত, এক ব্যক্তি বিভিন্ন নামে একাধিক পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে। তাঁর মতে, এটি সরকারের ব্যয় কমাবে এবং মানুষের ভোগান্তি কমাবে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ভেরিফিকেশনকে কেন্দ্র করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) দীর্ঘদিন ধরে 'বাণিজ্য' করে আসছিল।

বাচ্চাদের জন্য জন্মসনদভিত্তিক যাচাই:

পরিচয় যাচাইয়ে শিশুদের বাদ দিলে নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল হবে— এই বিষয়টি মাথায় রেখে শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের ১৩ বা ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্মসনদ নম্বরকেই মূল পরিচয় শনাক্তকরণ কোড হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এই নম্বর অনলাইনে যাচাইযোগ্য হওয়ায় জাল জন্মসনদ বা ভুল পরিচয়ে পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে।

পুলিশি যাচাই শিথিলের সরকারি সিদ্ধান্ত:

চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার 'পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা শিথিলকরণ' শিরোনামে একটি পরিপত্র জারি করে। এতে বলা হয়: ১. নতুন পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইকৃত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে আবেদনকারীগণকে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট প্রদান করতে হবে। ২. বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইনে থাকা জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট প্রদান করতে হবে। ৩. পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে বিদ্যমান পাসপোর্টের সাথে চাহিত মৌলিক তথ্যের (নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ, জন্ম স্থান) পরিবর্তন হলে জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রদত্ত তথ্য দিয়ে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।

গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ:

নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো ডেটা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে। জবাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডাটাবেইস শেয়ারিং হবে সম্পূর্ণ এনক্রিপশন প্রযুক্তির মাধ্যমে এবং শুধু তাৎক্ষণিক মিল দেখে ফলাফল জানানো হবে, কোনো তথ্য সংরক্ষণ বা অপব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বায়োমেট্রিক মিল–ভিত্তিক যাচাই পদ্ধতি ধাপে ধাপে চালু হতে পারে।




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।