উখিয়ায় ছাত্রলীগের সমাবেশ ডেকে সরকারকে হুঁশিয়ারি, ১১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দল নিষিদ্ধের এই অবস্থাতেই উখিয়ার পালংখালীতে সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। আর ওই সমাবেশ থেকে সরকারকে হুঁশিয়ারি ও হুংকার দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন—এমন অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে আরও অন্তত ৬০ জন।
রবিবার (২৬ জুলাই) উখিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ বড়ুয়া।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৫ জুলাই দুপুরে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে, পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলবুনিয়া এলাকায় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের বাড়িতে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছে।
পুলিশের দাবি, ওই বৈঠকে সরকার ও রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
সংবাদ পেয়ে উখিয়া থানা-পুলিশের একাধিক টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া (৪২) এবং আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরান (২৪) নামে দুজনকে আটক করা হয়।
নাশকতার মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সহসভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তারেক হোসেন মানিক, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার কামালের নাম রয়েছে।
ওই মামলায় কক্সবাজার সরকারি কলেজের স্নাতক পাস কোর্সের বিবিএস তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার পরীক্ষার্থী ইমরান নামে এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তবে ইমরানের সহপাঠীদের দাবি, সে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।
ইমরানের বন্ধু তাওহীদুল ইসলাম রাফী বলেন, “পালংখালীতে যে দিন ছাত্রলীগ কর্মসূচিটি পালন করে, সে দিন আমরা পরীক্ষার হলে ইংরেজি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। আমি যতটুকু জানি ইমরান রাজনীতি করে না।”










