উখিয়ায় জমি দখল নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা: বাবা-ছেলেসহ আহত ৫, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন

উখিয়ায় জমি দখল নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা: বাবা-ছেলেসহ আহত ৫, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

উখিয়ায় জমি দখল নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা: বাবা-ছেলেসহ আহত ৫, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের পূর্ব পারিরবিল এলাকায় জমি জবরদখলকে কেন্দ্র করে এক বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলের এই হামলায় দা ও কিরিচের কোপে অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার উখিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব পারিরবিল এলাকার নুর মোহাম্মদ প্রতিবেশী শামশুদ্দীন গং-এর কাছ থেকে একটি জমি ক্রয় করে সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু ওই জমিতে দালান নির্মাণের কাজ চলাকালীন শামশুদ্দীন ও তার সহযোগীরা প্রভাব খাটিয়ে বারবার বাধা প্রদান করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার দিন বিকেলে সংঘবদ্ধভাবে জমি দখলের উদ্দেশ্যে মৃত জালাল আহমদের পুত্র শামশুদ্দীন, মোহাম্মদ রিদোয়ান, মোহাম্মদ ফারুক ওরফে বাদশা, মোবারক হোসেন মানিক, জসিম উদ্দিন ওরফে সোনা মিয়া ও মোহাম্মদ শাহজাহানসহ অজ্ঞাত আরও ৭–৮ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা প্রথমে সেখানে কাজরত মিস্ত্রিদের ওপর আক্রমণ করে এবং নির্মাণাধীন দালানের ১২টি আরসিসি পিলার, ইটের দেয়াল ও নির্মাণ সামগ্রী ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে জমির মালিক নুর মোহাম্মদ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ছেলে ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র মিছবাহ হাসানকেও কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। এতে মিছবাহর একটি আঙুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে নুর মোহাম্মদ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

এই ঘটনায় গত ২১ ডিসেম্বর রাতে নুর মোহাম্মদের ভাই বশির আহমদ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন। হামলার শিকার নুর মোহাম্মদ পেশায় একজন চিংড়ি ব্যবসায়ী এবং তার পুত্র মিছবাহ হাসান বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ভাঙচুরের ফলে ঘরটির আনুমানিক ৪ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে তিনি মন্তব্য করবেন। এদিকে অভিযুক্ত শামশুদ্দীন ও তার সহযোগীরা ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।