উখিয়ায় জমি দখল নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা: বাবা-ছেলেসহ আহত ৫, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের পূর্ব পারিরবিল এলাকায় জমি জবরদখলকে কেন্দ্র করে এক বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলের এই হামলায় দা ও কিরিচের কোপে অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার উখিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব পারিরবিল এলাকার নুর মোহাম্মদ প্রতিবেশী শামশুদ্দীন গং-এর কাছ থেকে একটি জমি ক্রয় করে সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু ওই জমিতে দালান নির্মাণের কাজ চলাকালীন শামশুদ্দীন ও তার সহযোগীরা প্রভাব খাটিয়ে বারবার বাধা প্রদান করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার দিন বিকেলে সংঘবদ্ধভাবে জমি দখলের উদ্দেশ্যে মৃত জালাল আহমদের পুত্র শামশুদ্দীন, মোহাম্মদ রিদোয়ান, মোহাম্মদ ফারুক ওরফে বাদশা, মোবারক হোসেন মানিক, জসিম উদ্দিন ওরফে সোনা মিয়া ও মোহাম্মদ শাহজাহানসহ অজ্ঞাত আরও ৭–৮ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রথমে সেখানে কাজরত মিস্ত্রিদের ওপর আক্রমণ করে এবং নির্মাণাধীন দালানের ১২টি আরসিসি পিলার, ইটের দেয়াল ও নির্মাণ সামগ্রী ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে জমির মালিক নুর মোহাম্মদ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ছেলে ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র মিছবাহ হাসানকেও কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। এতে মিছবাহর একটি আঙুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে নুর মোহাম্মদ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
এই ঘটনায় গত ২১ ডিসেম্বর রাতে নুর মোহাম্মদের ভাই বশির আহমদ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন। হামলার শিকার নুর মোহাম্মদ পেশায় একজন চিংড়ি ব্যবসায়ী এবং তার পুত্র মিছবাহ হাসান বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ভাঙচুরের ফলে ঘরটির আনুমানিক ৪ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে তিনি মন্তব্য করবেন। এদিকে অভিযুক্ত শামশুদ্দীন ও তার সহযোগীরা ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










