উখিয়ায় রাস্তা নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধনের হুঁশিয়ারি এলাকাবাসীর
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন

উখিয়ায় রাস্তা নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধনের হুঁশিয়ারি এলাকাবাসীর

উখিয়ায় রাস্তা নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধনের হুঁশিয়ারি এলাকাবাসীর
ছবি সংগৃহীত।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-র অর্থায়নে পরিচালিত ডিগলিয়া-চাকবৈঠা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে গুরুতর অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকল্পের শর্ত ও কার্যবিধি উপেক্ষা করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাস্তার বেস ও সাব-বেস তৈরিতে নির্ধারিত মানের পরিবর্তে নিম্নমানের খোয়া এবং বালুর পরিবর্তে পাহাড়ি লাল মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় নির্ধারিত পুরুত্ব বজায় রাখা হয়নি। প্রকল্পের নীতিমালা উপেক্ষা করে অপর্যাপ্ত কম্প্যাকশনের মাধ্যমে কাজ শেষ করা হচ্ছে।

ডিগলিয়া এলাকার বাসিন্দা মাহামুদুল হক জানান, নির্মাণকাজ চলাকালেই নিম্নমানের ইট, কংক্রিট ও বালুর পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে সরাসরি পাহাড়ি মাটি। এসব অনিয়মের কারণে দীর্ঘমেয়াদি ও ভারী যান চলাচলের জন্য রাস্তাটি উপযোগী হবে না এবং এর স্থায়িত্ব হবে না। আমরা এই অনিয়মের প্রতিকার চাই।

উখিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আহসান উল্লাহ মনি বলেন, জাইকার মতো আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার প্রকল্পে যেখানে কাজের মান শতভাগ নিশ্চিত থাকার কথা, সেখানে চলছে প্রকাশ্য অনিয়ম ও প্রতারণা। কাগজে-কলমে নিয়ম মানার নাটক দেখানো হলেও বাস্তবে হচ্ছে তার সম্পূর্ণ উল্টো। বছরের পর বছর ঠিকাদারির অভিজ্ঞতায় তিনি এমন নিম্নমানের, দায়িত্বহীন ও লজ্জাজনক কাজ আগে কোথাও দেখেননি। এটি স্পষ্টতই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং দাতা সংস্থার বিশ্বাসের সঙ্গে তামাশা। অবিলম্বে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর শাহেদুল ইসলাম রোমান রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের কথা স্বীকার করলেও সংবাদ না ছাপানোর অনুরোধ করেন।

অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মেসার্স তৌহিদ অ্যান্ড ব্রাদার্স-এর মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কাজের ক্ষেত্রে অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, জাইকা প্রকল্পের প্রতিটি কাজ নির্ধারিত নকশা ও মানদণ্ড অনুসরণ করেই বাস্তবায়ন করা হবে। কাজের অনিয়ম হলে ঠিকাদারকে দায়ী করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, অনিয়মের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৪৩৩ মিটার রাস্তার এই প্রকল্পটি কার্যত লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে। নিম্নমানের কাজের কারণে প্রকল্পটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। অবিলম্বে কাজ বন্ধ করে স্বাধীনভাবে গুণগত মান পরীক্ষা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তারা মানববন্ধনসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

সচেতন মহল মনে করেন, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম শুধু অবকাঠামোর ক্ষতি নয়, দেশের ভাবমূর্তির জন্যও হুমকি।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।