উদ্বোধনের তিন মাসেই অচল জলবায়ু সহনশীল লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

উদ্বোধনের তিন মাসেই অচল জলবায়ু সহনশীল লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট

উদ্বোধনের তিন মাসেই অচল জলবায়ু সহনশীল লজিক প্রকল্পের পানির প্লান্ট
ছবি সংগৃহীত।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের দিংতে পাড়ায় স্থাপন করা হয়েছিল সৌরচালিত ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধন প্লান্ট ও সরবরাহ ব্যবস্থা। প্রকল্পের আওতায় ঝিরি থেকে জিএফএস পানির লাইন, ১০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার সুপেয় পানির ব্যবস্থা, খাবার পানির জন্য দুটি সংগ্রহ পয়েন্ট, গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য চারটি পয়েন্ট, শক্তিশালী সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, তিনতলা ফাউন্ডেশনের একটি পাকা ঘর এবং একটি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়।

কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মাথায় অচল হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই পানি পরিশোধন ব্যবস্থা। বর্তমানে প্রায় নয় মাস ধরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৩৩টি পরিবারের ২০৫ জন মানুষ আবারও সুপেয় পানির সংকটে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের বারবার জানানো সত্ত্বেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে পাড়াবাসীদের মধ্যে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ (LoGIC) প্রকল্পের জলবায়ু সহনশীল স্কিমের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের নাম— “জিএফএস-ভিত্তিক সৌরচালিত ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধন প্লান্ট স্থাপন ও সরবরাহ ব্যবস্থা।”

প্রকল্পের মোট বাজেট ৪৮ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৬ টাকা। এর মধ্যে লজিক প্রকল্পের পিবিসিআরজি বরাদ্দ ৪১ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৬ টাকা এবং কমিউনিটি কন্ট্রিবিউশন (জনগণের অংশগ্রহণ) ৭ লাখ টাকা। পিবিসিআরজি-এর বরাদ্দকাল ছিল ২০২৩-২৪ এবং বাস্তবায়নকাল ২০২৫-২৬ অর্থবছর। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর প্রকল্পটির শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।

এত বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প কেন চালুর মাত্র তিন মাসের মধ্যে অচল হয়ে গেল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্গম এলাকার মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সুপেয় পানির সংকট দূর করাই যেখানে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল, সেখানে এত অল্প সময়ে প্লান্টটি অচল হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের নির্মাণমান, যন্ত্রপাতির গুণগত মান, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ও বাস্তবায়ন-পরবর্তী দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর প্রথম দিকে তাঁরা স্বস্তি পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট কিছুটা দূর হয়েছিল। কিন্তু মাত্র তিন মাস পর প্লান্টটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে আবার আগের মতো দূরবর্তী উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

দিংতে পাড়ার বাসিন্দা পারাও ম্রো বলেন, “প্রকল্প চালু হওয়ার সময় মনে হয়েছিল আমাদের পানির কষ্ট শেষ হয়েছে। কিন্তু তিন মাস যেতে না যেতেই প্লান্ট বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, তাঁরা মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

পাড়ার আরেক বাসিন্দা লংঙান ম্রো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত টাকা খরচ করে প্রকল্প করা হলো, অথচ কয়েক মাসও টিকল না। আমরা যদি আবারও পাহাড়ি ঝিরি বা দূরের উৎস থেকেই পানি সংগ্রহ করি, তাহলে এত টাকা ব্যয়ে প্রকল্প করার প্রয়োজন কী ছিল?”

লজিক প্রকল্পের উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকেন্দু ত্রিপুরা বলেন, “প্রকল্পটি অচল থাকার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। মূলত ইনভার্টার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পানি ফিল্টার করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। দ্রুত প্লান্টটি সচল করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রকল্পের উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিস্তারিত বলতে পারবেন উল্লেখ করে লজিক প্রকল্পের প্রকৌশলী করুণাময় চাকমা বলেন, “আমি এখন রাঙামাটিতে আছি, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। পানি নিয়ে সমস্যা হয়ে থাকলে তার সমাধান করা হবে।” তবে উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মধ্যে এমন ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণ এবং নির্মাণ ও যন্ত্রপাতির মান যথাযথ ছিল কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন—‘চেষ্টা চলছে’ বা ‘দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে’—এ ধরনের আশ্বাস আর কতদিন শুনবেন তাঁরা? প্রকল্পটি সত্যি মানুষের পানি সংকট নিরসনের জন্য হয়ে থাকলে দীর্ঘদিন অচল থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে এত বিলম্ব কেন?

এ বিষয়ে থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। প্রকল্পটি কেন অচল হয়েছে এবং বর্তমানে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার ওপর রয়েছে, তা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জেনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের সুপেয় পানির মতো মৌলিক চাহিদার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।”

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের সাফল্য শুধু উদ্বোধন বা অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করে না; বরং তা কত বছর কার্যকর থাকছে এবং উপকারভোগীরা কতদিন সেবা পাচ্ছেন—তার ওপরই প্রকল্পের মূল সফলতা নির্ভর করে।

তাই ৪৮ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৬ টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি কেন মাত্র তিন মাসেই অচল হলো, কার গাফিলতিতে রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ রয়েছে, প্লান্টের যন্ত্রপাতি ও নির্মাণকাজের মান কেমন ছিল এবং প্রকল্পটির স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে কে রয়েছে—এসব বিষয় দ্রুত তদন্ত করে দেখা জরুরি।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্লান্টটি মেরামত করে সচল করার পাশাপাশি অচল হওয়ার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জলবায়ু সহনশীলতার নামে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করলেও পাহাড়ি মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর হবে না, বরং তা অচল অবকাঠামো তৈরি ও সরকারি অর্থ অপচয়ের আরেকটি দৃষ্টান্তে পরিণত হবে।




মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকায় অবস্থিত ‘মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ জোরপূর্বক দখল, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) লামার স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিসোর্টের অংশীদার মো. সুলতান মাহমুদের পক্ষে অপর অংশীদার জাফর মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লামা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলিঙ্গারবিল এলাকার জাফর মিয়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নুনারনবিল পাড়ার বাসিন্দা মো. সুলতান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে “মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট” অংশীদারির ভিত্তিতে পরিচালনা করে আসছিলেন। পূর্বে জমির মূল মালিক দুলাল মিয়ার সঙ্গে জটিলতা নিরসন করে মো. রাসেল চৌধুরী নামক বিবাদী টাকা বুঝে নিয়ে অংশীদারত্ব থেকে সরে যান এবং বাদী শেয়ার বুঝে নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাসেল চৌধুরীসহ একটি চক্র রিসোর্টের অংশীদারত্ব দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি শুরু করে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টায মো. রাসেল চৌধুরীর (সাবেক যুবলীগ নেতা) নেতৃত্বে শিশির স্বপন চাকমা, সঞ্জিতা চাকমা, মো. আরিফুল ইসলাম (ছাত্রলীগ নেতা), শাহাব উদ্দিন ও আলা উদ্দিনসহ ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী দল অবৈধভাবে রিসোর্টে প্রবেশ করে। তারা পূর্বে দাবিকৃত ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং আনুমানিক ১০,০০,০০০ (দশ লাখ) টাকার ক্ষতিসাধন করে।

হামলায় বাধা দিলে তারা মো. সুলতান মাহমুদ ও জাফর মিয়াকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা ঘটনাস্থل থেকে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল (মূল্য ৪৫,০০০ টাকা), একটি অপো মোবাইল (মূল্য ৩৫,০০০ টাকা), নগদ ৭৫,০০০ টাকা এবং আধা ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি (মূল্য ১,০৭,০০০ টাকা) লুট করে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বিবাদী রাসেল চৌধুরী রিসোর্টের ক্যাবল কেটে গলায় পেঁচিয়ে সুলতান মাহমুদকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাঁদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বিতীয় দফায় পুনরায় রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তা জোরপূর্বক দখল করে নেয় এবং হুমকি দেয় যে চাঁদার টাকা না দিলে রিসোর্ট ফেরত দেওয়া হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ৩টি দাবি জানানো হয়:

  • এজাহারভুক্ত প্রধান বিবাদী মো. রাসেল চৌধুরী ও শিশির স্বপন চাকমাসহ সব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।

  • জোরপূর্বক দখলকৃত ‘মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করা।

  • ভুক্তভোগী ও তাঁদের সহযোগীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মো. রাসেল চৌধুরী (৩৫), শিশির স্বপন চাকমা (৫০) ও সঞ্জিতা চাকমাসহ (৪৫) ১২ জনের নাম উল্লেখ করে লামা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও রিসোর্টটি পুনরুদ্ধারে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ জানান, দোষী ও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে ১০ হাজার ইয়াবা ও টমটমসহ ১ জন আটক

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে ১০ হাজার ইয়াবা ও টমটমসহ ১ জন আটক
ছবি সংগৃহীত।

১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ুয়াপাড়া এলাকায় (ঘুমধুম পুলিশ তদন্তকেন্দ্র সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়) মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযানকালে একটি সন্দেহজনক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১ জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তি: কামাল উদ্দিন (৩০), পিতা: মৃত জাহেদ হোসেন, ঠিকানা: ক্যাম্প-২/ইস্ট, ব্লক-বি, এফসিএম-১৪১৯৪৬, উখিয়া, কুতুপালং, কক্সবাজার।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক ব্যক্তি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার দিকে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশের তল্লাশিতে তিনি আটক হন।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।




গুইমারা রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী

গুইমারা রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার রামসু বাজারে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গুইমারা রিজিয়নের সার্বিক সহায়তায় এবং সিন্দুকছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মাসব্যাপী যৌথ চিকিৎসাসেবা ও বহুমুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আজ সফল সমাপ্তি ঘটেছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী, গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সব জোন কমান্ডার এবং সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্য নিয়ে প্রধান অতিথি চারজন ব্যবসায়ীকে নতুন তৈরি দোকানঘর হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি রামসু বাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত এক রোগীকে দোকানসামগ্রী ও চলাচলের সুবিধার্থে একটি হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

শিক্ষার প্রসারে এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিতে গুইমারা ও মানিকছড়ি উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া এলাকার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে সোলার ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

যুবসমাজকে কর্মমুখী করার প্রয়াসে বেকার যুবকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করাসহ মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এলাকার প্রায় ১,২০০ জন সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মানবিক ও সর্বাত্মক পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে বিশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।