ওসি-ইউএনওকে চকরিয়া বিএনপির সভাপতির প্রকাশ্যে হুমকি! ‘কথা না শুনলে রাতে গাট্টি গোল করে রাখো’
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন

ওসি-ইউএনওকে চকরিয়া বিএনপির সভাপতির প্রকাশ্যে হুমকি! ‘কথা না শুনলে রাতে গাট্টি গোল করে রাখো’

ওসি-ইউএনওকে চকরিয়া বিএনপির সভাপতির প্রকাশ্যে হুমকি! ‘কথা না শুনলে রাতে গাট্টি গোল করে রাখো’
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় থানা-পুলিশের ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের বিরুদ্ধে। তাঁর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (১০ মে) রাতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আজিজনগর চেয়ারম্যান লেক এলাকায় আয়োজিত পিকনিক অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এনামুল হক। সেখানে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, “চকরিয়া থানা সবকিছু দেবে না, চকরিয়া থানা থেকে সবকিছু আমাদের আদায় করে নিতে হবে। আমাদেরটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাদেরটা কয়লামন্ত্রী না, পানিমন্ত্রী না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “ওসি, তুই যদি আমার কথা না শুনিস, তাহলে রাতে গাট্টি গোল করে রাখবি।” একইভাবে ইউএনও অফিসের কর্মকর্তাদের উদ্দেশেও বলেন, “আমাদের কথা না শুনলে রাতেই কাপড়চোপড় গুছিয়ে রাখার প্রস্তুতি নাও।”

এনামুল হক আরও বলেন, “আরও বড় বড় কর্মকর্তা যাঁরা আছেন—অফিসার, পিয়ন—সবাইকে আলটিমেটাম দেবেন। বলবেন, এই কাজটা করে দিতে হবে। ১৫ দিনের সময় দেবেন। এর মধ্যে কাজ না হলে মসজিদ থেকে খাটিয়া এনে সেখানে শুইয়ে দেব। এরপর হয় আমিরাবাদ, না হয় কক্সবাজার পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এখানে আর থাকতে দেওয়া হবে না।”

তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি নেতাকর্মীদের অবৈধভাবে মাছের ঘেরে না যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বৈধ কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দীন ফরায়েজী, পৌর বিএনপির সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন, নুরুল আমিন কাউন্সিলর, বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন, আবুল হাশেমসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে এনামুল হক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা। জনগণই তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছেন। তাই বৈধ কোনো কাজ প্রশাসন না করলে, সে প্রেক্ষাপটেই আমি এ ধরনের কথা বলেছি।”

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের আগে এক বক্তব্যে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “কিছুদিনের জন্য আমাদের লোভ সামলাতে হবে। আমরা কিছুদিন দখলবাজি, চাঁদাবাজি, বালুমহাল দখল করব না।”

এ প্রসঙ্গে এনামুল হক বলেন, “আমি শুধু কিছুদিনের জন্য নয়, সারাজীবনের জন্য চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।