কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগ আরও জোরদার, যুক্ত হচ্ছে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন: রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগ আরও জোরদার, যুক্ত হচ্ছে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন: রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগ আরও জোরদার, যুক্ত হচ্ছে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন: রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
ছবি সংগৃহীত।

পর্যটননগরী কক্সবাজারের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেলযোগাযোগ আরও জোরদার করতে চলতি মাসেই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও একজোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম আধুনিক কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু এবং উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এটি পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন ও রামু জংশন স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে চলতি মাসেই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও একজোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে।

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনবান্ধব রেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্টেশনের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে এর পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের রেলযোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিক ও সম্প্রসারিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার এবং ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটনশিল্পের বিকাশও ত্বরান্বিত হবে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো, যাত্রীসেবাকেন্দ্র, অপেক্ষমাণ কক্ষ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, টিকিটিং কার্যক্রম এবং চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় যাত্রীবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণ, স্টেশনের অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় আইকনিক রেলস্টেশনটিকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, ডিজিটাল সেবা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবীবিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার জয়নাল আবেদিন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।