কক্সবাজার-১ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে এখনো প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত ঝুলে আছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিশাল তোরণ। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের প্রচার সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, চকরিয়া পৌর শহর, চিরিঙ্গা বাজার, পেকুয়া সদরসহ দুই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো এখনো রঙিন ব্যানার ও তোরণে ছেয়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু প্রধান সড়ক নয়—সড়ক বিভাজক (ডিভাইডার), পাড়া-মহল্লার অলিগলিতেও যত্রতত্র ঝুলছে এসব প্রচার সামগ্রী, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বড় দল বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কিছু এলাকায় দলীয় নির্দেশনায় স্বেচ্ছায় অপসারণ দেখা গেলেও অধিকাংশ ব্যানার ও পোস্টার এখনো বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের একেবারে কাছেই একাধিক প্রার্থীর বড় ব্যানার ও ফেস্টুন ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। প্রশাসনের চোখের সামনে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা উচ্ছেদ অভিযান চোখে পড়েনি। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—প্রভাবশালী প্রার্থীদের চাপেই কি আইন প্রয়োগে গড়িমসি করা হচ্ছে? সুষ্ঠু নির্বাচন ও সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত হবে কি না—এ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চকরিয়া বাজারের এক ভোটার বলেন, "তফসিল ঘোষণার পরও যদি প্রার্থীরা আইন না মানেন আর প্রশাসন চুপ থাকে, তাহলে ভোটের দিন পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।"
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, "প্রচার সামগ্রী অপসারণের জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের প্রক্রিয়া চলছে।"
তবে বাস্তব চিত্র বলছে, নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। প্রশাসন দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে কক্সবাজার-১ আসনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।












