কক্সবাজার-১ আসনে দুই জোটের দুই প্রার্থী চূড়ান্ত, ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি তুঙ্গে
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

কক্সবাজার-১ আসনে দুই জোটের দুই প্রার্থী চূড়ান্ত, ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি তুঙ্গে

কক্সবাজার-১ আসনে দুই জোটের দুই প্রার্থী চূড়ান্ত, ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি তুঙ্গে
ছবি সংগৃহীত।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে ২৩৭টি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় কক্সবাজার-১ আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বৈরাচার সরকারের রোষানলে পড়ে একসময় তিনি গুম হন এবং পরবর্তীতে ভারতের শিলংয়ে দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবনযাপন করেন। চকরিয়া-পেকুয়া থেকে তিনি একাধারে সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

অপরদিকে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, যিনি কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির। ইতোমধ্যে তিনি চকরিয়া-পেকুয়ার গ্রামগঞ্জে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, প্রচারণায় মাঠে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ও এগিয়ে রয়েছেন আবদুল্লাহ আল ফারুক।

চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল বশর বলেন, "আমাদের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক জুলাই আন্দোলনে কক্সবাজারে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ৩০টিরও বেশি মামলার আসামি ছিলেন, যা কক্সবাজার জেলায় সর্বোচ্চ।"

অন্যদিকে, সালাহউদ্দিন আহমদের নাম ঘোষণার পর রাতে চকরিয়া পৌর শহরের ছিদ্দিক ফিলিং স্টেশনের সামনে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "সালাহউদ্দিন আহমদ বা হাসিনা আহমদ, বিএনপির প্রার্থী যেই হোক, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করব।"

চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলে এখন নির্বাচনী হাওয়া বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টার, ব্যানার ও প্রচারণায় দুই প্রার্থীর মধ্যে দেখা যাচ্ছে সরব প্রতিযোগিতা। ইতিমধ্যে দুই দলের প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করেছেন নেতা-কর্মীরা। এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর একসাথে মাঠে নামার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।