কক্সবাজার-১ আসনে দুই জোটের দুই প্রার্থী চূড়ান্ত, ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি তুঙ্গে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে ২৩৭টি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় কক্সবাজার-১ আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বৈরাচার সরকারের রোষানলে পড়ে একসময় তিনি গুম হন এবং পরবর্তীতে ভারতের শিলংয়ে দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবনযাপন করেন। চকরিয়া-পেকুয়া থেকে তিনি একাধারে সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
অপরদিকে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, যিনি কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির। ইতোমধ্যে তিনি চকরিয়া-পেকুয়ার গ্রামগঞ্জে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, প্রচারণায় মাঠে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ও এগিয়ে রয়েছেন আবদুল্লাহ আল ফারুক।
চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল বশর বলেন, "আমাদের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক জুলাই আন্দোলনে কক্সবাজারে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ৩০টিরও বেশি মামলার আসামি ছিলেন, যা কক্সবাজার জেলায় সর্বোচ্চ।"
অন্যদিকে, সালাহউদ্দিন আহমদের নাম ঘোষণার পর রাতে চকরিয়া পৌর শহরের ছিদ্দিক ফিলিং স্টেশনের সামনে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "সালাহউদ্দিন আহমদ বা হাসিনা আহমদ, বিএনপির প্রার্থী যেই হোক, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করব।"
চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলে এখন নির্বাচনী হাওয়া বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টার, ব্যানার ও প্রচারণায় দুই প্রার্থীর মধ্যে দেখা যাচ্ছে সরব প্রতিযোগিতা। ইতিমধ্যে দুই দলের প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করেছেন নেতা-কর্মীরা। এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর একসাথে মাঠে নামার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।












