কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা জোরদারে কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রামের মতবিনিময়

কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টিয়ান হাসপাতাল এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিল ফ্লাওয়ারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রামের কার্যক্রম বিষয়ে এক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের টং ইকো রিসোর্টে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টিয়ান হাসপাতাল ও খ্রীস্টিয়ান কুষ্ঠ চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই সহকারী তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রকল্পের সামগ্রিক কার্যক্রম অবহিত করেন চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টিয়ান হাসপাতালের কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিজয় মারমা। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন হিল ফ্লাওয়ারের ব্যবস্থাপক (অর্থ ও প্রশাসন) সনজিৎ তনচংগ্যা। সভাপতির বক্তব্যে ডা. প্রবীর খিয়াং বলেন, দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জন্য কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, গর্ভবতী ও প্রসূতি মা এবং শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, জেন্ডার সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে এসব কার্যক্রম টেকসই হলে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য সচেতনতা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সরকারি টিকাদান কার্যক্রমে সহায়তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এ ধরনের কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলা এবং রাঙামাটি জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কম্প্রিহেনসিভ কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রামের আওতায় মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, গর্ভবতী ও প্রসূতি মা এবং শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে শিক্ষা, জেন্ডার সচেতনতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা এবং সরকারি টিকাদান কার্যক্রমে সহায়তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।











