করপোরেট কর কমছে, হিসাব খুলতে লাগবে না ই-টিআইএন
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন

করপোরেট কর কমছে, হিসাব খুলতে লাগবে না ই-টিআইএন

করপোরেট কর কমছে, হিসাব খুলতে লাগবে না ই-টিআইএন
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখলেও মূল বাজেটে তা কমানো হচ্ছে। শর্ত সাপেক্ষে আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য করপোরেট করহারে আড়াই শতাংশ হারে ছাড় দেওয়া হতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র বলছে, মূলত বিনিয়োগ উৎসাহিত, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর জিডিপি বাড়াতে ব্যবসার ক্ষেত্রে এই ছাড় দেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়ালে করহার ছাড় দেওয়া হতে পারে ৫ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হতে পারে।

একই সঙ্গে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের স্বর্ণ বিক্রিতে গেইন ট্যাক্স ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট বসানো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে সরকার। ব্যাংক হিসাব খুলতে ই-টিআইএন-এর বাধ্যবাধকতা বাতিল হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই ধরনের ছোট-খাটো আরও কিছু পরিবর্তন এনে ৩০ জুন বাজেট পাস করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

করপোরেট কর কমছে আড়াই শতাংশ

এনবিআর সূত্র বলছে, প্রকৃত বাজেটে আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে শর্ত সাপেক্ষে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানো হতে পারে। বিনিয়োগ উৎসাহিত, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর জিডিপি বাড়াতে করপোরেট করে এই ছাড় দেওয়া হতে পারে। যদিও প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়নি।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান, যাদের পরিশোধিত মূলধনের অন্যূন ১০ শতাংশের নিচে, তাদের করহার সাড়ে ২২ শতাংশ রয়েছে। তবে ক্যাশলেস বা ব্যাংকে লেনদেনের শর্ত পরিপালনে ২০ শতাংশ বহাল রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে যাদের ১০ শতাংশের নিচে, তাদের করহার শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ করা হচ্ছে। বাকিদের করপোরেট করহার অপরিবর্তিত থাকবে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ছাড়লে কর হার ২০ শতাংশ। সাধারণ কোম্পানির কর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ, তালিকাবহির্ভূত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর ৪০ শতাংশ, তামাক প্রস্তুতকারক কোম্পানি কর ৪৫ শতাংশ, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটরের কর ৪০ শতাংশ, তালিকাবহির্ভূত মোবাইল অপারেটর ৪৫ শতাংশ, ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও ফার্মের করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ, সমবায় সমিতি ২০ শতাংশ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে আগের মতোই করপোরেট করহার বহাল রাখা হয়েছিল।

ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগবে না ই-টিআইএন

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদ দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়। যদিও শিক্ষার্থী ও বিশেষ কিছু শ্রেণির হিসাবধারীদের জন্য এই নিয়মে ছাড় দেওয়া হয়। তবে ৩০ জুন পাশ হতে যাওয়া এমন বাধ্যবাধকতা থেকে সরে আসতে পারে সরকার। অর্থাৎ ব্যাংক হিসাব খুলতে ই-টিআইএন-এর বাধ্যবাধকতা বাতিল হতে পারে।

স্বর্ণ বিক্রিতে গেইন ট্যাক্স হ্রাস করে ৫ শতাংশ হচ্ছে

প্রস্তাবিত বাজেটে করদাতাদের স্বর্ণ বিক্রিতে ‘গেইন ট্যাক্স’ চালুরা ঘোষণা এসেছে। যার পরিমাণ ১৫ শতাংশ। তবে চূড়ান্ত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার আয়কর ফাইলে থাকা স্বর্ণ বিক্রির গেইন ট্যাক্স কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। অর্থাৎ স্বর্ণ বা স্বর্ণালংকার বিক্রি থেকে আয় দেখালে তার ক্যাপিটাল গেইন বা মুনাফার উপর ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

এ বিষয় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, অঘোষিত সম্পদ বৈধ করতে কর ফাইলে বাড়তি স্বর্ণের মজুত দেখানোর যে প্রবণতা রয়েছে, তা ঠেকাতেই মূলত এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি করদাতার করফাইলে স্বর্ণ হলো একটি ভৌতিক সম্পদ। অনেকেই ২০–৪০ ভরি স্বর্ণ দেখালেও মূল্য অজানা দেখায়। অথচ বাস্তবে ওই করদাতার স্বর্ণ ১–২ ভরিও নেই। ভবিষ্যতে অজানা উৎস থেকে আসা অর্থ বা সম্পদ কর না দিয়ে কর ফাইলে দেখানোর সুযোগ রাখতেই অনেকে এভাবে স্বর্ণের মজুত দেখান। পরে সেই অর্থকে স্বর্ণালংকার বিক্রির আয় হিসেবে দেখানো হয়।

কর্মকর্তা বলেন, একজন করদাতা যেদিন থেকে আয়কর ফাইল খুলেছেন, সে সময় স্বর্ণের দাম যা ছিলো, বর্তমানে বিক্রির সময় যে দাম পাবেন, করফাইল খোলার দামের থেকে বিক্রির দাম বাদ দিলে যে লাভ বা গেইন হবেন, তার ওপর ৫ শতাংশ কর দিতে হবে। অর্থবিল, ২০২৬-করদাতার রিটার্নে ঘোষিত স্বর্ণ, রুপা, গহনা, মূল্যবান পাথর, হীরা, মুদ্রা, ডিজিটাল মুদ্রা, শিল্পকর্ম, পুরাকীর্তি ও ক্লাবের সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে অর্জিত মুনাফাকে মূলধনি মুনাফা হিসেবে গণ্য করে ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

কমছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর

আগামী অর্থবছর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করহারও কমানো হতে পারে। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে করহার ১০ শতাংশ রয়েছে, তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। মূলত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ আরো উন্নত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার এই করহার কমিয়ে আনছে। তবে আগামী অর্থবছর করহার কমাতে কোনো শর্ত দেওয়া হচ্ছে না। ভবিষ্যতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই করহার বহাল রাখার ক্ষেত্রে সরকার শর্তারোপ করতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ইউজিসি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৬টি। তবে চালু রয়েছে ১০৩টি। এছাড়া ৬৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ২৬টি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, ২০টি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ রয়েছে।

করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ হচ্ছে

বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রয়েছে, চূড়ান্ত বাজেটে তা বেড়ে ৪ লাখ টাকা করা হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য করদাতাদের ২৫ হাজার টাকা করে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হতে পারে। যদিও প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬–২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছর করমুক্ত আয়সীমা বহাল রাখা অর্থাৎ ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছর ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছর ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এনবিআর সূত্র বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর ৪ লাখ এবং ২০২৭-২৮, ২০২৮-২৯ অর্থবছর সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছর পাঁচ লাখ টাকা করা হতে পারে। তবে রেয়াতের সীমা কমানো এবং সঞ্চয়পত্র, সরকারি সিকিউরিটিজ, এফডিআর-এর সুদ থেকে কেটে নেওয়া উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায়ের বদলে অগ্রিম কর হিসাবে গণ্য করায় করদাতাদের ওপর করের বোঝা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এছাড়া শেয়ারবাজারের স্বার্থে লভ্যাংশ কর আগের মতোই ২০ শতাংশ রাখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থবিল সংশোধনের মাধ্যমে লভ্যাংশের এই করহার বিলুপ্ত করা হয়। ফলে লভ্যাংশ আয়ের ওপর নিয়মিত করপোরেট করহার প্রযোজ্য হয়।




৪২ শীর্ষ ঋণখেলাপির পাচারের অর্থ উদ্ধারে মাঠে নামছে ৮ আন্তর্জাতিক সংস্থা

৪২ শীর্ষ ঋণখেলাপির পাচারের অর্থ উদ্ধারে মাঠে নামছে ৮ আন্তর্জাতিক সংস্থা
ছবি সংগৃহীত।

ব্যাংক খাত থেকে লুটে নেওয়া ও বিদেশে পাচার করা হাজার হাজার কোটি টাকা ফেরত আনতে এবার বড় ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শীর্ষ ১১টি শিল্পগোষ্ঠীর পর দেশের আরও ৪২টি বড় ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত, জব্দ ও দেশে ফিরিয়ে আনতে মাঠে নামছে বিশ্বখ্যাত আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও তদন্তকারী সংস্থা।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১২টি দেশে গোপনে গড়ে তোলা সম্পদের অবস্থান চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ উদ্ধারে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে চুক্তি ও কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ওই সব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া ৩৮টি ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। বিদেশে সম্পদ উদ্ধারে যেসব ব্যাংক এখনো ওই আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেনি, তাদের দ্রুত তা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) ডাটাবেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খেলাপির তালিকায় থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিদেশে অর্থ পাচারের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে এসবি এক্সিম গ্রুপ, হাবিব গ্রুপ, ইয়াসীর গ্রুপ, এডব্লিউআর গ্রুপ, লিবার্টি গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, লস্কর গ্রুপ ও সাদ মুসা গ্রুপের মতো বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের পাচার করা সম্পদ মূলত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে রয়েছে।

অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের এ তৎপরতায় যুক্ত হওয়া আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো হলো– গ্র্যান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রোল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেলি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।

সম্পদ পুনরুদ্ধারের এই কার্যক্রমে কোনো ব্যাংককে আগাম কোনো অর্থ দিতে হবে না। পুরো বিষয়টি পরিচালিত হবে ‘নো উইন, নো পে’ নীতিতে। অর্থাৎ বিদেশি পরামর্শক সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে সম্পদ অনুসন্ধান করবে ও আইনি লড়াই চালাবে। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হওয়া সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ তারা পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে।
সম্পদ উদ্ধারের পুরো আইনি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, প্রথম ধাপে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সংস্থাগুলো বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান ও আর্থিক পরিমাণ চিহ্নিত করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রথমে সেই সম্পত্তি ফ্রিজ বা জব্দ করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে আদালতের নির্দেশে এসব সম্পত্তি বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বাংলাদেশে ফেরত এনে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ সমন্বয় করা হবে।

বৈঠক শেষে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাইরে চলে গেছে এবং তা ফেরত আনতে ব্যাংকগুলো একযোগে কাজ শুরু করেছে। অর্থ উদ্ধার ছাড়াও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যেন এমন লুটপাট না ঘটে, সে বিষয়টিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দফায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার এবং শীর্ষ ১০টি বিতর্কিত শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে যৌথ তদন্ত শুরু হয়। এনবিআরের সিআইসি, সিআইডি ও দুদকের যৌথ প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে তাদের প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এবার দ্বিতীয় দফায় এই ৪২ খেলাপির বিরুদ্ধে একই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
 




ট্যুর অপারেটরদের বড় সুবিধা: বিদেশে ঘুরতে ডলারের ঝামেলা শেষ, টাকায় মিলবে ভ্রমণ প্যাকেজ

ট্যুর অপারেটরদের বড় সুবিধা: বিদেশে ঘুরতে ডলারের ঝামেলা শেষ, টাকায় মিলবে ভ্রমণ প্যাকেজ
ছবি সংগৃহীত।

বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ কিনতে এখন আর সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে ভাবতে হবে না বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের। ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এখন থেকে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) নিবন্ধিত সদস্য ট্যুর অপারেটররা ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে টাকায় অর্থ গ্রহণ করে বিদেশে প্যাকেজ বিক্রি করতে পারবেন। সংগৃহীত অর্থের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সরাসরি বিদেশে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারীদের কাছে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব টোয়াব সদস্য ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির বৈধ চুক্তি কিংবা ব্যবসায়িক সমঝোতা রয়েছে, তারা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। তাদের আবেদনক্রমে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশে আবাসন, পরিবহনসহ প্রকৃত ভ্রমণসেবার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে পারবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়মিত বার্ষিক ভ্রমণ কোটার বাইরে একজন ভ্রমণকারীর জন্য প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। এ ক্ষেত্রে ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে ট্যুর অপারেটরকে।

এ ছাড়া ভ্রমণকারীর কাছ থেকে লিখিত ঘোষণা নিতে হবে যে, অন্য কোনো ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে তিনি নির্ধারিত বার্ষিক সীমা অতিক্রম করেননি। তবে ৩ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের প্যাকেজের ক্ষেত্রেও সুযোগ রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্যাকেজের মূল্য আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় সংগ্রহ করতে হবে। এ ধরনের লেনদেনে এডি ব্যাংকগুলো অ্যাকোয়ারিং সেবা দিতে পারবে।

বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ইনভয়েস, চুক্তি, বিস্তারিত ভ্রমণসূচি, ভ্রমণকারীদের তালিকা এবং টাকায় অর্থ গ্রহণের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে হবে এডি ব্যাংকগুলোকে। বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর সাত দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত বিবরণীও জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নীতিগত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা। তারা মনে করছেন, টাকায় বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ কেনার সুযোগ চালু হওয়ায় গ্রাহকদের জন্য লেনদেন আরও সহজ হবে এবং এতে স্বচ্ছতা আসবে। এটি দেশের আউটবাউন্ড ট্যুরিজম খাতের বিকাশ ঘটাতে এবং ট্যুর অপারেটিং ব্যবসাকে আরও গতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




বাংলা কিউআর ব্যবহারে চাঁদাবাজি ও জাল নোটের ঝুঁকি কমবে : গভর্নর

বাংলা কিউআর ব্যবহারে চাঁদাবাজি ও জাল নোটের ঝুঁকি কমবে : গভর্নর
ছবি সংগৃহীত।

বাংলা কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো গেলে চাঁদাবাজি ও জাল নোটের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি নগদ টাকা পরিবহনের ঝুঁকিও কমবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

শনিবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে বাংলা কিউআর লেনদেন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থার (আইএফসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় পরিচালিত ‘ক্যাশলেস ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে ২০ জন নারী মার্চেন্টসহ প্রায় ১২০ জন বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী মার্চেন্ট অংশ নেন।

গভর্নর বলেন, বর্তমানে দেশে মাসে এক কোটি লেনদেন হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে দৈনিক এক কোটি লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি বলেন, বর্তমানে ছয় কোটি মানুষ বাটন ফোন ব্যবহার করেন। তাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকাকে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত হলে ব্যবসায়ীরা কর্মচারীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। এতে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, জাল নোটের ঝুঁকি কমবে এবং নগদ টাকা পরিবহনের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।

তিনি আরও বলেন, টাকা ছাপাতে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন বাড়ানো গেলে এই ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিমূলক পেমেন্ট ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাংলা কিউআর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ২৪ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন। প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। কর ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত বাড়াতেও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থার (আইএফসি) প্রতিনিধি হাসান শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল মাসে ২০ লাখ লেনদেন। বর্তমানে মাসে এক কোটি লেনদেন হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি। বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের অগ্রযাত্রায় আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বাংলা কিউআরের ব্যবহার পদ্ধতি, সুবিধা, প্রয়োজনীয়তা ও সচেতনতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ-১-এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. পারওয়েজ আনজাম মুনির, যুগ্মপরিচালক জুয়েল মজুমদার ও মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন তিনটি অধিবেশন পরিচালনা করেন।

পরে বাংলা কিউআর ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, আন্তঃসীমান্ত লেনদেন ব্যবস্থা চালু, লেনদেনের খরচ কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে মার্চেন্টদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন গভর্নর।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক (প্রশাসন) স্বরূপ কুমার চৌধুরী, পরিচালক (পরিদর্শন) মো. নুরুল আলম, পরিচালক (ব্যাংকিং) ইয়াসমিন রহমান বুলা, পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা) মাহবুবুল রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।