কাউখালি বিএনপি সভাপতিকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, প্রতিবাদে মাঠে নামলেন নেতাকর্মীরা

রাঙ্গামাটি কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে নিয়ে কথিত মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপি।
বুধবার বিকেলে উপজেলার পোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাউখালী উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে শেষ পর্যন্ত উপজেলা সদরের প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।
কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ও বক্তারা সম্প্রতি কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম, আবুল রহমান মেম্বার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নূরুল হুদা, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান, যুব বিষয়ক সম্পাদক মিন্টু কান্তি দে, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মুমিনুল করিম জীবন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তমিজ উদ্দিন, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি শহিদুল আলম, শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. সেকান্দর আলী।
এ ছাড়া সমাবেশে বক্তব্য দেন কাউখালী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ফিরোজ মাহমুদ এবং কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম। সমাবেশে উপজেলা, ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীরাও বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন কর্তৃক কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তারা এসব বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দলের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর বক্তব্য দলীয় নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না। দলের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা সাংগঠনিকভাবে সমাধানের আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ থেকে এ ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা বলেন, বিএনপির দুঃসময়ে যারা মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের নিয়ে অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। তাই ব্যক্তিগত বিরোধ বা রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন কিংবা প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য না দিয়ে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে বিষয়গুলো সমাধান করা প্রয়োজন।
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ভবিষ্যতে দলের যেকোনো পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা দলের বৃহত্তর স্বার্থে সব ধরনের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।










