কাউখালীতে ইউএনডিপি-এলভিএমএফের দুই দিনব্যাপী ইয়ুথ ক্যাম্প সম্পন্ন
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

কাউখালীতে ইউএনডিপি-এলভিএমএফের দুই দিনব্যাপী ইয়ুথ ক্যাম্প সম্পন্ন

কাউখালীতে ইউএনডিপি-এলভিএমএফের দুই দিনব্যাপী ইয়ুথ ক্যাম্প সম্পন্ন
ছবি সংগৃহীত।

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা লোকাল ভলান্টিয়ার মেডিয়েটরস ফোরামের (এলভিএমএফ) উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ইয়ুথ ক্যাম্প মঙ্গলবার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেতবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পটির সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে।

সোমবার সকালে ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা রিসোর্স ইন্সট্রাক্টর মো. গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন হোসাইন এবং কাউখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবদুল খালেক।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রথম দিনে রিসোর্স পারসন হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন খাসখালী রেঞ্জ অফিসার মো. আব্দুল জলিল, ইউএনডিপি রাঙামাটির প্রজেক্ট সাপোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট উমাচিং মারমা, মংহ্লা অং, ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যানালিস্ট মিনহাজ মনোয়ার এবং সাংবাদিক মো. ওমর ফারুক। ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিনে সেশন পরিচালনা করেন ফিউচার নেশন ট্রেনিং কো-অর্ডিনেশন অফিসার খন্দকার আবীর হোসেন নূর, ইউএনডিপি ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অফিসার সুমিতা রবি দাস এবং ডিস্ট্রিক্ট এফএফএস অফিসার মো. মেহেদী হাসান।

উপজেলার মোট ৪০ জন যুবক ও যুবতী এই ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেন। প্রথম দিনের সেশন শেষে সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড সংগীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারী ইয়ুথদের হাতে সনদপত্র ও শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে পানির মগ তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আয়োজিত এই ক্যাম্পে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল পিআরএলসি এবং ইআরআরডি-সিএইচটি।




বিজিবির বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগ

বিজিবির বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষা, জনকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সমন্বয়ে ৬-১২ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ক্যচুপাড়া এলাকায় বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে সমন্বিতভাবে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চলমান বিশেষ অভিযানের কার্যক্রম পরিদর্শন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে আজ ক্যচুপাড়া বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিক। এ সময় তিনি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আস্থা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিজিবির অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে জোন অধিনায়ক ক্যচুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পাড়াবাসীর মাঝেও শিক্ষা-সহায়ক সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতির জন্য উৎসাহিত করার পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাড়াবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্থানীয়দের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সীমান্তের নিরাপত্তা থেকে মানুষের কল্যাণ—প্রতিটি প্রয়োজনে বিজিবি পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং মানুষের কল্যাণে মানবিক—এই দ্বৈত অঙ্গীকারকে ধারণ করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।

নিরাপত্তায় অটুট, মানবিকতায় অগ্রণী—জনগণের আস্থার সঙ্গে এগিয়ে চলছে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)।




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে আম্মাজান কমিউনিটি সেন্টারের কাছে সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ধাওয়া করা হলে চালক ও ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি ইজিবাইক এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ইজিবাইকসহ তিন কার্টনে ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও ইজিবাইক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ

এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবানের বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠান 'ফারুক কোচিং হোম' (এফসিএইচ)-এর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এফসিএইচ-এ তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের পর অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে। কেউ কেউ মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে।

এফসিএইচ-এর সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, নিয়মিত পড়াশোনার তদারকি এবং এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম ফারুক বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের দিনে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখার চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। তাদের সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও অর্জন। এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর রহমত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানো নয়; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য যোগ্য, সৎ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তারা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় যেন সফল হতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এফসিএইচ-এর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিচর্যা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় ভালো ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এফসিএইচ-এর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও একাডেমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ফারুক কোচিং হোম।