কালবৈশাখীর বেপরোয়া তাণ্ডবে লন্ডভন্ড টেকনাফ: লবন ও পান চাষিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিহীন ২০ ঘন্টা
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন

কালবৈশাখীর বেপরোয়া তাণ্ডবে লন্ডভন্ড টেকনাফ: লবন ও পান চাষিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিহীন ২০ ঘন্টা

কালবৈশাখীর বেপরোয়া তাণ্ডবে লন্ডভন্ড টেকনাফ: লবন ও পান চাষিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিহীন ২০ ঘন্টা
ছবি সংগৃহীত।

​কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের বেপরোয়া তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনপদ। প্রায় ২০ ঘন্টা একটানা বিদ্যুৎ বিহীন ছিল গোটা টেকনাফ।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে আকস্মিক শুরু হওয়া এই ঝড়ে উপজেলার হ্নীলা, হোয়াইক্যং, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া, সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও টেকনাফ পৌর এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাতাসের প্রচণ্ড বেগে অনেক ঘরবাড়ির টিনের চালা ও ঘেরা-বেড়া উড়ে গেছে।

​ঝড়ের আঘাতে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে লবন ও কৃষি খাতে। উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন এবং সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপের শত শত একর লবণের মাঠ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। মৌসুমের এই শেষ সময়ে মাঠে মজুত করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে থাকা বিপুল পরিমাণ লবন গলে যাওয়ায় চাষিরা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। লবণের পাশাপাশি বাহারছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পানবরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তোড়ে অসংখ্য পানবরজ ভেঙে পড়েছে এবং গাছ থেকে প্রচুর কাঁচা আম ঝরে পড়ায় বাগান মালিক ও ঘরোয়া মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন।

​বিশেষ করে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের দরগার ছড়া গ্রামে ঝড়ের আঘাতে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলামের (জিয়াউল সওদাগর) মুদি সামগ্রীর পাইকারি দোকানটি ঝড়ে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জানান, তার দোকানের প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মালামাল ও কাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

​যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবস্থাও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে প্রধান প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ উপ-সড়কগুলোতে পড়ে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। বিশেষ করে টেকনাফ-শাপলাপুর সড়কে গাছ পড়ে থাকায় যোগাযোগ প্রায় বন্ধের পথে। এছাড়া পুরো এলাকায় টানা প্রায় ২০ ঘন্টা ধরে বিদ্যুৎ বিহীন ছিল। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে এবং ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভেঙে পড়া গাছ সরিয়ে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার চেষ্টা চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটার দিকে সচল করা হয়েছে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।