কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে

কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে
ছবি সংগৃহীত।

দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি ‘বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি, যেসব সমস্যা আমরা ইনহেরিট করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাই হোক না কেন, সবগুলোই সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই, তা কখনোই বলছি না। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল এবং কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।’

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্লোগানকে ধারণ করে বিকেল পৌনে ৪টায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এ সভা শুরু হয়।

সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখবো। গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতাগুলো আপহোল্ড করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।’
দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিশ্রম করেছে। সংকট থেকে ধীরে ধীরে দেশকে বের করেও নিয়ে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘তবে আগামীতে যেন দেশের মানুষকে এই জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয় সেভাবেই বিএনপি তার কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে।’

দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী দলের নাম বিএনপি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষের যে গণতান্ত্রিক অধিকার সেটিকে যদি কেউ নিশ্চিত করে থাকে, সেই রাজনৈতিক দলটির নাম হচ্ছে বিএনপি। সে কারণেই প্রত্যেকটি নির্বাচনে বাংলাদেশের বাংলাদেশ জাতীয়তা দল এই দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এখন আমরা এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র তৈরি করতে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে।’

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্প্রবর্তন, রেমিটেন্স ও তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের বিকাশ এবং নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু-সবকিছুর পেছনেই জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও বিএনপির যুগান্তকারী অবদান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে তাদের দেশ গঠনে সম্পৃক্ত করেন। এছাড়া, তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, যা পরবর্তী সময়ে দেশকে একটি উদীয়মান টাইগার হিসেবে পরিচিতি দেয়।’

সংকট মোচনে বিএনপির অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পর দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন করা এবং ৯০-এর স্বৈরাচার পরবর্তী সময়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে দেশকে মুক্ত করে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বিএনপির ভূমিকা অনস্বীকার্য।’

বিগত ১৬-১৭ বছরে বিরোধী দলের ওপর অন্যায়-অত্যাচার এবং নির্যাতনের পরেও বিএনপি রাজপথে থেকে আন্দোলন পরিচালনা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল “মাস্টারমাইন্ড” এবং সফলতা অর্জনের পূর্ণ কৃতিত্ব এ দেশের আমজনতার, যাদের সঙ্গে থেকে বিএনপি এই লড়াই সফল করেছে।’

প্রতিষ্ঠাবাষিকীর আলোচনা সভার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দলের চেয়ারম্যান খালেদা জিয়াসহ সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনার জাতীয়তাবাদী দলের ওপরে একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ বক্তব্য রাখেন।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠা করেন। দিবসটি পালনের গত মঙ্গলবার পাঁচ দিনের যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শুরু হয়েছিল তা এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শেষ হলো।
 




এমপি পদ থেকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

এমপি পদ থেকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত।

এমপি পদ থেকে ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এ ঘটনার মধ্যেই বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।




যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি (সাবেক র‌্যাব) ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া; যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে প্রতিনিয়ত পরিচালিত হচ্ছে এবং তা ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির একটি সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩.৪২৮ একর (প্রায় ১১ বিঘা) জমি আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বর্তমানে খিলগাঁও থেকে পরিচালিত আনসার সদর দপ্তরের অপরিসর জায়গায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এখানে একটি আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে এখানে ডরমেটরি এবং ব্যারাকে স্থান সংকুলানের জন্য ঢাকার আশুলিয়া এবং শেরেবাংলা নগরে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারো দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কেবল প্রত্যাহার নয়, বরং যথাযথ বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা এবং ক্রিমিনাল অফেন্স মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অটোমেশন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে এবং রাস্তায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। এছাড়া রাস্তা খনন ও নির্মাণ কাজের ফলে যেন যানজট না হয়, সেজন্য পুরো রাস্তা একসাথে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে অবিলম্বে পুনর্নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আরও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বিদায়ী চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, চীনের উদ্যোগ সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সহায়ক হবে। রাষ্ট্রপতি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে আরও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত। মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে তিনি যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তার নিজের এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীনে সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এসব সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রপতি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত, জটিল রক্তের ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।