কোটি টাকা ব্যয়েও চট্টগ্রামে কমেনি মশার উপদ্রব, বাড়ছে ডেঙ্গু
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন

কোটি টাকা ব্যয়েও চট্টগ্রামে কমেনি মশার উপদ্রব, বাড়ছে ডেঙ্গু

কোটি টাকা ব্যয়েও চট্টগ্রামে কমেনি মশার উপদ্রব, বাড়ছে ডেঙ্গু
ছবি সংগৃহীত।

মশক নিধনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও চট্টগ্রাম নগরীতে কমছে না মশার উপদ্রব। বরং বর্ষা মৌসুমে বাড়ছে এডিস মশার বিস্তার, সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বও পাওয়া গেছে উদ্বেগজনক মাত্রায়। কোটি টাকা ব্যয় করেও মিলছে না আশানুরূপ সুফল।

আজ ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস। মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি এবং এসব রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালিত হয়।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯৭ জন। মারা গেছেন তিনজন। এর মধ্যে জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩৬ জন। আগস্টের প্রথম ১৯ দিনে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬৩ জন। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।

চট্টগ্রামে সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে। গত কয়েক বছরের তথ্যেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২২ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২ হাজার ৬৪০ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ৩ জনে। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৩৭ এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৬০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।

চলতি বছর জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে মাসে ৩৭ এবং জুনে ১২২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এরপর জুলাইয়ে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ৫৩৬ জনে পৌঁছায়। ওই মাসে দুজনের মৃত্যু হয়।

বিশ্ব মশা দিবসে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর করলে হবে না। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণে নগরবাসীকেও ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জুলাই ও আগস্টের প্রথম দিকের আক্রান্তের সংখ্যা আগের ছয় মাসের মোট আক্রান্তের প্রায় দ্বিগুণ। বর্ষাকালে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়। বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলেও ৯৯ শতাংশের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন। মারা যাওয়া তিনজনই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেরি করেছিলেন।

জরিপে ভয়াবহ চিত্র

চট্টগ্রাম নগরীর ১৮টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক প্রাক-বর্ষা জরিপে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব আশঙ্কাজনক মাত্রায় পাওয়া গেছে।

৮ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৯৯টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। ৩৪৫টি পানির পাত্র পরীক্ষা করে ১১৪টিতে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

জরিপে কনটেইনার ইনডেক্স পাওয়া গেছে ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। নিরাপদ মাত্রা ১০ শতাংশের নিচে। হাউস ইনডেক্স পাওয়া গেছে ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যেখানে নিরাপদ মাত্রা ৫ শতাংশের নিচে। আর ব্রেটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ, যেখানে নিরাপদ মাত্রা ২০ শতাংশের নিচে।

জরিপে উত্তর কাট্টলী, পাঁচলাইশ, জালালাবাদ, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, পাথরঘাটা, আন্দরকিল্লা ও দক্ষিণ হালিশহরকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিভাগীয় কীটতত্ত্ববিদ মো. মফিজুল হক শাহ বলেন, জরিপে পাওয়া লার্ভার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির। পানি সংকটের কারণে বাসাবাড়িতে জমিয়ে রাখা পানির পাত্র এবং নির্মাণাধীন ভবনকে এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মশা নিধনে ব্যয় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও মশক নিধন কার্যক্রমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ব্যয়ও কম নয়। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে শুধু মশার ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কিনতে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এর বাইরে ওষুধ ছিটানোর কাজে নিয়োজিত ৩৫৫ জন অপারেটরের বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে মশা নিয়ন্ত্রণে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ এই খাতে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

২০০০ সাল থেকে চসিক মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে প্রায় ৪৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এর মধ্যে গত এক দশকেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

তবে এত অর্থ ব্যয়ের পরও নগরীর চান্দগাঁও, মোহরা, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, হামজারবাগ, জামালখান, চকবাজার ও হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা মশার উপদ্রব কমেনি বলে অভিযোগ করছেন।

৭০ লাখ মানুষের জন্য ৩৫৫ কর্মী

চসিকের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ৩৫৫ জন কর্মী। সংস্থাটির দাবি, প্রতিটি ব্লকে ৭২ ঘণ্টা পরপর ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে নগরবাসীর অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হয় না। কোথাও কোথাও দীর্ঘদিনেও মশার ওষুধ ছিটানোর কর্মীদের দেখা যায় না।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, নগরীর প্রায় ৭০ লাখ মানুষকে মাত্র সাড়ে তিনশো কর্মী দিয়ে সেবা দেওয়া কঠিন। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, পূর্ণবয়স্ক মশা মারার চেয়ে লার্ভা ধ্বংস করা বেশি কার্যকর। তাই ফগার মেশিনে ধোঁয়া ছিটানোর চেয়ে মশার লার্ভা ধ্বংসের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের তাগিদ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কোন এলাকায় কোন প্রজাতির মশা রয়েছে, তাদের প্রজননস্থল কোথায় এবং কোন কীটনাশক কার্যকর এসব তথ্য নিয়মিত পরীক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. আহসান হাবিব সিয়ামের মতে, চসিকের মশা নিধন কার্যক্রমে বড় ঘাটতি হলো কীটতত্ত্ববিদের পর্যাপ্ত সম্পৃক্ততা না থাকা। বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ছাড়া বড় বাজেট বরাদ্দ করেও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

নগর পরিকল্পনাবিদ মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, দীর্ঘদিনের ব্যবহারে মশার মধ্যে প্রচলিত কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলে কোন ওষুধে লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক মশা কার্যকরভাবে ধ্বংস হচ্ছে, তা নিয়মিত পরীক্ষাগারে যাচাই করা প্রয়োজন।

চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ৬০ সদস্যের বিশেষ দল কাজ করছে। পাশাপাশি ছয় মাসের জন্য পর্যাপ্ত লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড মজুত রয়েছে।




গুজব ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ

গুজব ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ
ছবি সংগৃহীত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে আগেই তা শনাক্ত করে প্রতিরোধ করতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এজন্য সাইবার মনিটরিং টিমকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি গুজব শনাক্ত, তথ্য যাচাই ও দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচারের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুরোনো ছবি-ভিডিও বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়’ শীর্ষক অনলাইন সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সভাপতিত্বে জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তা, অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, ওসি ডিবি ও সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশ নেন।

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য ঘটনা হিসেবে নেওয়ার আগে সেটি সত্য কি না যাচাই এবং গুজবের উৎস শনাক্ত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। কোনো ছবি, ভিডিও বা পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর সেটি সত্য ধরে না নিয়ে এর উৎস, সময় ও প্রেক্ষাপট যাচাই করতে বলা হয়েছে। পুরোনো বা অন্য কোনো ঘটনার ছবি-ভিডিও নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দুর্গাপূজা, পূজামণ্ডপ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টে। ধর্মীয় উসকানি বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে—এমন কোনো কনটেন্ট নজরে এলে সেটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাই করতে বলা হয়েছে।

সভায় পুলিশ সুপার গুজব শনাক্তকরণ, তথ্য যাচাই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ, প্রয়োজন হলে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচার—এই ধারাবাহিকতায় কাজ করার নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজ, সময়সহ অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

জেলা পুলিশ জানায়, শুধু গুজব শনাক্ত করে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; গুজবের বিপরীতে দ্রুত সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াও জরুরি। এ কারণে কোনো ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে সংশ্লিষ্ট থানা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করে সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী তথ্য প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এজন্য থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরাধের উপাদান পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সভায় জনগণের প্রতিও যাচাই ছাড়া কোনো পোস্ট বা তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেয়ে আগেই শনাক্ত করে তা প্রতিরোধ করা এবং দ্রুত সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সাইবার মনিটরিং কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।




জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় আইসিডির চার্জে ৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি

জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় আইসিডির চার্জে ৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি
ছবি সংগৃহীত।

ডিজেলের দাম ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানোর পর বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) থেকে দেওয়া ডিজেল নির্ভর বিভিন্ন সেবার চার্জ ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইসিডিএ)।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিআইসিডিএর জেনারেল সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়। বর্ধিত চার্জ একই দিন থেকে কার্যকর হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, সরকার ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতে ডিজেলের দাম বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে বেসরকারি আইসিডিগুলোর পরিচালনায় জ্বালানি-নির্ভর বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে সর্বশেষ পর্যালোচিত হারের ওপর ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ জ্বালানি সারচার্জ বাড়ানো হয়েছে।

বর্ধিত চার্জের আওতায় রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ও আইসিডির মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন বা হলেজ, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) ও আইসিডির মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন, খালি কনটেইনার ওঠানো-নামানোর (লিফট-অন/লিফট-অফ) চার্জ এবং রপ্তানি পণ্য স্টাফিং ও হ্যান্ডলিং প্যাকেজ।

এ ছাড়া রপ্তানি বোঝাই কনটেইনারের ভেরিফায়েড গ্রস মাস (ভিজিএম) বা ওজন নির্ধারণের চার্জও ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে লোড ইয়ার্ডে কনটেইনার ওঠানো, ওজন মাপার স্থানে নেওয়া, ওজন নির্ধারণ এবং পুনরায় লোড ইয়ার্ডে পরিবহন ও নামানোর মতো সেবা রয়েছে।

আমদানি পণ্য ডেলিভারি প্যাকেজ চার্জও এই বৃদ্ধির আওতায় এসেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর বা পিসিটি থেকে আইসিডিতে আমদানি বোঝাই কনটেইনার পরিবহন, আইসিডিতে কনটেইনার নামানো, ডেলিভারি ইয়ার্ডে স্থাপন এবং শ্রমিকসহ কনটেইনার থেকে ট্রাকে আমদানি পণ্য সরবরাহের সেবা অন্তর্ভুক্ত।

সার্কুলারে সংশ্লিষ্ট আইসিডিগুলোকে নিজ নিজ গ্রাহকদের সর্বশেষ পর্যালোচিত হারের ওপর ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ চার্জ বৃদ্ধির বিষয়টি অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার  বলেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আইসিডিগুলোর অপারেশনাল ব্যয় সরাসরি বেড়েছে। এ কারণে ডিজেলনির্ভর সেবাগুলোর বিপরীতে বর্ধিত চার্জ কার্যকর করা হয়েছে।




নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম

নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম
ছবি সংগৃহীত।

দেশব্যাপী নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনে বড় ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম। এ জেলায় নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকায় নিবন্ধন করেছে ৫৯ হাজার ৫৮০ জন। অর্থাৎ ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামে ১ লাখ ২১ হাজার ৫৬০ জন বেশি নিবন্ধন করেছে।

প্রতিযোগিতাটি নিয়ে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা ইতিহাস গড়ব।

চট্টগ্রামে বিপুলসংখ্যক নিবন্ধনের পেছনে খেলাধুলার প্রতি স্থানীয়দের আগ্রহের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রচার-প্রচারণা এবং উদ্যোগের প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাদের প্রচার-প্রচারণা এবং প্রচেষ্টার কারণেও নিবন্ধনে প্রভাব পড়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগের ভূমিকা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা ছিল—কে কত বেশি নিবন্ধন করাতে পারে।

চট্টগ্রামে খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন ক্রীড়া সচিব। তার ভাষ্য, চট্টগ্রামে খেলাধুলার অনেক আয়োজন রয়েছে। জাতীয় পর্যায়েও এ জেলা থেকে অনেক ভালো খেলোয়াড় উঠে আসেন।

জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবদুল বারী বলেন, শুরু থেকেই জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিকল্পিত প্রচারণার পাশাপাশি উপজেলা, ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ধারাবাহিক সমন্বয় করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একাধিক সভা করার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে সভা করা হয়।

ইউনিয়ন পর্যায়েও নিবন্ধন কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়। নির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী ইউনিয়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এসব কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা ক্রীড়া অফিসের কর্মকর্তারাও এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

আবদুল বারী বলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সময়ে সময়ে দেওয়া নির্দেশনা নিবন্ধন বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। নিবন্ধন বাড়ানোর কার্যক্রম প্রতিদিন চালানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাঠপর্যায়ের প্রচারণার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালানো হয়। স্থানীয় সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি ফেসবুকে প্রতিযোগিতার তথ্য প্রচার করা হয়। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকেরাও এতে যুক্ত হন। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য অফিসও প্রচারণায় সহযোগিতা করে।

এ কার্যক্রমে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা।

জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে চট্টগ্রামের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। তৃতীয় স্থানে কুমিল্লা—সেখানে নিবন্ধন করেছে ৫১ হাজার ৮৪৮ জন। চতুর্থ স্থানে বরিশালে ৫১ হাজার ৫৮০ এবং পঞ্চম স্থানে পটুয়াখালীতে ৪৯ হাজার ৫৬৫ জন নিবন্ধন করেছে।

শীর্ষ ২০ জেলার তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে দিনাজপুরে ৪১ হাজার ৬৯৯, সপ্তম স্থানে সিলেটে ৪০ হাজার ৫৩৬, অষ্টম স্থানে ময়মনসিংহে ৪০ হাজার ৫৪, নবম স্থানে কক্সবাজারে ৩৬ হাজার ৫৪৬ এবং দশম স্থানে বগুড়ায় ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন নিবন্ধন করেছে।

গত আসরে আটটি ইভেন্ট থাকলেও এবার আরও দুটি যুক্ত করে মোট ১০টি ইভেন্ট রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে দল গঠনের পর উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, মার্শাল আর্ট ও টেবিল টেনিসে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।