গণমাধ্যমের নতুন সমস্যাকে উপলব্ধি করে সমাধান উদ্ভাবন করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

গণমাধ্যমের নতুন সমস্যাকে উপলব্ধি করে সমাধান উদ্ভাবন করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যমের নতুন সমস্যাকে উপলব্ধি করে সমাধান উদ্ভাবন করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান যুগের গণমাধ্যমের সংকট ও চ্যালেঞ্জ অতীতের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এ যুগে গণমাধ্যমের সামনে যে নতুন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা গভীরভাবে উপলব্ধি করে উদ্ভাবনী উপায়ে তার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ১৬ জুন ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডিইউজের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

এসময় বিএনপি চেয়ারম্যানের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসন কায়েম করে গণমাধ্যমকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল।

৫১ বছর পর আজ সংবাদপত্রের সেই কালো দিবসের সালতামামি করতে গিয়ে আমাদের বুঝতে হবে, এখনকার সংকট আর তখনকার সংকট এক নয়। তৎকালীন রাষ্ট্র চোখ রাঙিয়ে কথা বলত, কিন্তু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গণমাধ্যমের সমস্যা সমাধানে অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়।
বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এখনকার তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রতিনিয়ত অসত্য ও বিকৃত তথ্য উৎপাদিত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শতকোটি মানুষের কাছে তা মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের নামে বিকৃত চিত্র ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তাই শুধু অতীতের সমস্যার আলাপে আটকে না থেকে, সংকটের এই নতুন চেহারাকে অনুভব করে সমাধানের পথ তৈরি করতে হবে।

গণমাধ্যমকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার ওপর জোর দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার যতই স্বাধীনতা দিক, মালিক পক্ষ যদি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, সঠিক বেতন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ না দেয়, তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। একটি নির্বাচিত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র শুধু তাকিয়ে দেখতে পারে না। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি জানান, গণমাধ্যমের সামগ্রিক সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’ (জাতীয় কর্মপরিকল্পনা)-এর খসড়া তৈরি করতে আগামী ১৮ জুন অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এডিটরস কাউন্সিল, অ্যাটকো ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই বিএফইউজে, ডিইউজে ও প্রেসক্লাবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে একটি নীতি-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল জায়গায় দাঁড় করানোর জন্য সঠিক নীতিমালা প্রয়োজন। গণমাধ্যম সঠিক ভূমিকা পালন করলে রাষ্ট্র ও ক্ষমতা সবসময় জবাবদিহিতার মুখে থাকবে। ফলে দেশের মানুষ এর সুফল পাবে। এই নীতিগত বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়কে গাইড করার জন্য সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম থাকা প্রয়োজন বলে তিনি প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ডিজিটাল যুগে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা নাগরিক সাংবাদিকতার বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে (যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন) এ সংক্রান্ত আইন ও খসড়া তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেও প্রিন্ট, টেরিস্ট্রিয়াল, ডিজিটাল ও স্যাটেলাইট মিডিয়াসহ সমস্ত মাধ্যমকে সুশৃঙ্খল করতে হবে। গণমাধ্যমকে যারা শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করবেন, তাদের প্রচলিত আইন মেনে কর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সৎ ও সৃজনশীল শিল্প উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্র ইনসেনটিভ বা বিশেষ সহযোগিতা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

তথ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জুডিশিয়াল ক্ষমতাসহ একটি শক্তিশালী ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করা সম্ভব হলে এটি হবে ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশের নতুন যাত্রার সবচেয়ে শক্তিশালী ও যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান।




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।