চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ম ভেঙে ছাত্রী ভর্তি, ক্ষুব্ধ অভিভাবক মহল

চকরিয়া উপজেলার একমাত্র সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ছাত্রী ভর্তির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের "আর্থিক সমস্যা"কে অজুহাত দেখিয়ে প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্তে এই ভর্তি প্রক্রিয়া চলায় স্থানীয় সুধী সমাজ ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়টি মূলত শুধুমাত্র ছেলেদের পাঠদানের জন্য প্রতিষ্ঠিত। ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৫০০ জন ছাত্র এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিল। যেখানে তীব্র শিক্ষক ও জনবল সংকট রয়েছে, সেখানে কোনো প্রকার সরকারি প্রজ্ঞাপন বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই ছাত্রী ভর্তি করানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান শিক্ষক নিজের খেয়ালখুশিমতো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকা আক্তার ছিদ্দিকার কাছে জানতে চাইলে তিনি ছাত্রী ভর্তির বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন:
"স্থানীয় অভিভাবকদের ব্যাপক চাপ রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কিছু আর্থিক সমস্যা রয়েছে। মূলত এই সংকট কাটিয়ে উঠতেই আমরা ছাত্রী ভর্তি করাচ্ছি।" তবে একটি সরকারি বালক বিদ্যালয়ে আর্থিক সমস্যার দোহাই দিয়ে কীভাবে সহশিক্ষা (Co-education) চালু করা সম্ভব, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ঐতিহ্যবাহী এই পাইলট স্কুলে হঠাৎ করে বালিকা ভর্তি করার বিষয়টি নিয়ে চকরিয়ার সুশীল সমাজের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেক অভিভাবক মনে করছেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং জনবল ছাড়া এভাবে ছাত্রী ভর্তি করা হলে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, "বালক বিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।"
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, "সরকারি বালক বিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তির বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে নেই। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। যদি নিয়ম ভেঙে এমনটা করা হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
সরকারি নীতিমালার বাইরে গিয়ে এই ভর্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।










