চকরিয়ার মাতামুহুরি নদীতে বালু লুটে যেন সর্বদলীয় ঐক্য, ৬ কিলোমিটারে ৬ অবৈধ বালুর ডিপো
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন

চকরিয়ার মাতামুহুরি নদীতে বালু লুটে যেন সর্বদলীয় ঐক্য, ৬ কিলোমিটারে ৬ অবৈধ বালুর ডিপো

চকরিয়ার মাতামুহুরি নদীতে বালু লুটে যেন সর্বদলীয় ঐক্য, ৬ কিলোমিটারে ৬ অবৈধ বালুর ডিপো
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ছিকলঘাট স্টেশন থেকে কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কজুড়ে মাতামুহুরি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ৬টি অবৈধ বালুর ডিপো গড়ে তুলে শেলো মেশিনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করলেও কিছুদিন পরই আবার প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একই স্থানে বালু উত্তোলন শুরু হয়।


অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ বালু উত্তোলন কেন্দ্র থেকে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বালু বিক্রি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মূলত গভীর রাতে নদী থেকে বালু উত্তোলন করেন এবং প্রতিদিন সকাল ১০টার আগেই উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে ফেলেন, যাতে প্রশাসনিক অভিযানের সময় কোনো আলামত পাওয়া না যায়।


স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসব বালুর ডিপো পরিচালনার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—কৈয়ারবিল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওসমান গনি, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আহমদ হোছাইন রাজু, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ডা. মানিক, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মিজান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবু তৈয়ব, আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম, জাতীয় পার্টির ইউনিয়ন সভাপতি দিদার, আওয়ামী লীগ নেতা কাউছার, আওয়ামী লীগ নেতা আশিক এবং জামায়াত নেতা কাইছার।


তবে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের অনেকেই বালু উত্তোলনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।


এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে মাতামুহুরি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং সড়কের স্থায়িত্বও হুমকির মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
 




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।