চকরিয়ায় ছোটভাইয়ের দা'য়ের কোপে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন

চকরিয়ায় ছোটভাইয়ের দা'য়ের কোপে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

চকরিয়ায় ছোটভাইয়ের দা'য়ের কোপে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বসতভিটার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিরোধ মুহূর্তেই রূপ নেয় রক্তাক্ত সংঘর্ষে। এতে ছোটভাইয়ের ধারালো দা'য়ের কোপে নিহত হয়েছেন বড় ভাই নুরুল ইসলাম (৫২)। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছোটভাই আব্দুর রহিম (৪২) পলাতক রয়েছে।


শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।


স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত নুরুল ইসলাম মৃত আলী হোছেনের ছেলে। পারিবারিক কারণে তিনি আলাদা হয়ে একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিখোলা এলাকায় বসবাস করলেও পৈত্রিক বসতভিটায় তাঁর মালিকানা দাবি ছিল। শুক্রবার সকালে ছোটভাই আব্দুর রহিম ওই বসতভিটার কয়েকটি গাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে কাটতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নুরুল ইসলামকে জানান।


খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার প্রতিবাদ করেন। এ সময় দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আব্দুর রহিম ক্ষিপ্ত হয়ে হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে নুরুল ইসলামের পা, হাঁটু ও ঘাড়ে একের পর এক কোপ দেয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


স্থানীয় ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পৈত্রিক সম্পত্তি ও গাছ বিক্রি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।


স্থানীয় চেতন মহলের দাবি, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এলাকায় মাঝেমধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিরোধটি আগেই আইনগত বাসামাজিকভাবে মীমাংসা করা গেলে হয়তো একটি প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।


ঘটনাটি এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।