চকরিয়ায় বসতভিটার জমি দখলের চেষ্টা: ৩ লাখ টাকার গাছ নিধন ও প্রাণনাশের হুমকি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ও ক্রয়কৃত বসতভিটার জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। জমি দখলের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর বাগানে থাকা ২০ থেকে ৩০টি গাছ কেটে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী হাফেজ আবুল কালাম (৫৫) ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কাথারী পাহাড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিএস ৪২৪ ও ৫৩৯ নম্বর খতিয়ানের আওতাধীন ২৩১৭ দাগের ১২.৫০ শতক জমি তিনি ১৯৮৮ ও ১৯৯০ সালের রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং জমির নামজারি ও খাজনা নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় আবদু শুকুর (৪৪), আবদুল মজিদ (৪০) ও আবদুল হামিদসহ (২৮) আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা (সি.আর মামলা নং-২৫৮৭/২০২৪) বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে গাছপালা কাটা শুরু করে। এতে বাধা দিলে তারা ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের সহায়তা চান। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। ভুক্তভোগী হাফেজ আবুল কালাম আক্ষেপ করে বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি অথচ তারা সন্ত্রাসী কায়দায় জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং আমার পরিবারকে নিরাপত্তাহীনতায় রাখছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোছাইন জানান, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










