চকরিয়ায় বসতভিটা জবরদখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের আশংকায় থানায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন

চকরিয়ায় বসতভিটা জবরদখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের আশংকায় থানায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ

চকরিয়ায় বসতভিটা জবরদখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের আশংকায় থানায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে পৈত্রিক ভিটা জোরপূর্বক দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লুৎফুর রহমান চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের পশ্চিম কৈয়ারবিল হামিদুল্লাহ সিকদার পাড়ার বাসিন্দা লুৎফুর রহমানের পৈত্রিক ওয়ারিশি ভিটা জমি দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি কৈয়ারবিল মৌজার বিএস ৮৩৫ নং খতিয়ানের বিএস ৬৩ দাগের আওতাধীন প্রায় ৫৫ শতকের মধ্যে বিরোধীয় ১৫ শতক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


লুৎফুর রহমান অভিযোগ করেন, একই এলাকার মোহাম্মদ আবুছালাম , জাহেদা বেগম, মোহাম্মদ এরফান, মো. সায়েম ও কামরুল হাসানসহ আরও কয়েকজন ওই জমির উপর জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।


শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্তরা কয়েকজন অজ্ঞাতনামা লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ধারালো দা, লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জমিতে এসে ইট, বালি, সিমেন্ট ও লোহার রড এনে পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এসময় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন।


ভুক্তভোগী আরও জানান, বিষয়টি আগে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।


এ ব্যাপারে লুৎফুর রহমান বলেন, “জমিটি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি এবং আমাদের নামে রেকর্ড রয়েছে। তবুও প্রভাব খাটিয়ে জোর করে দখলের চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।


ঘটনার বিষয়ে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জোরপূর্বক নির্মাণকাজ বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোছাইন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।