চকরিয়ায় লাইসেন্স ও নবায়ন ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

চকরিয়ায় লাইসেন্স ও নবায়ন ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

চকরিয়ায় লাইসেন্স ও নবায়ন ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক ও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নবায়ন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে বহু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। এতে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১৩টি বেসরকারি হাসপাতাল, ৩০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ৬টি ডেন্টাল ক্লিনিক ও ১টি ফিজিওথেরাপি সেন্টার লাইসেন্সপ্রাপ্ত। তা ছাড়া প্রায় অর্ধশতাধিক ল্যাব ও ডেন্টাল চেম্বার রয়েছে, যেগুলোর কোনো লাইসেন্সই নেই। অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৈধ লাইসেন্স নেই অথবা লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কয়েকটি হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর সেগুলো নবায়ন করা হয়নি। এরপরও এসব প্রতিষ্ঠানে আগের মতোই রোগী ভর্তি, অস্ত্রোপচার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা এবং বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে অভিযান বা পরিদর্শন চালালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা লোকদেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে লাইসেন্সবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

এ বিষয়ে জানতে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. সাবের আহমদ বলেন, "যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই অথবা নবায়ন করা হয়নি, তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ চিকিৎসাসেবা পাবেন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।