চকরিয়ায় ২১ কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

চকরিয়ায় ২১ কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

চকরিয়ায় ২১ কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

চকরিয়া পৌরসভার হালকাকারা নবারুন ক্লাব থেকে মাতামুহুরী নদী পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণ কাজে ভয়াবহ অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি অর্থায়নে ২১ কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইমু কনস্ট্রাকশন ইচ্ছাকৃতভাবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছে, যার ফলে পুরো প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ।

এই বড় প্রকল্পের দায়িত্বরত পৌরসভার প্রকৌশলীসহ তদারককারীদের অবহেলার কারণে এসব অনিয়মের সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন নাগরিকদের।

প্রকল্পটি “দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (SCRDP)”–এর আওতায় বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী ১ দশমিক ৬০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আরসিসি ড্রেন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৭০ টাকা। কাজের চুক্তি হয় ১৩ এপ্রিল ২০২৫, এবং কাজ শুরু হয় ৭ মে ২০২৫। ঠিকাদারি কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ২৭ অক্টোবর ২০২৬।

সরেজমিনে দেখা যায় , নির্মাণ কাজে নির্ধারিত মানের কংক্রিট, রড এবং অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে না। কংক্রিটের সাথে প্রতি বালতিতে মাটি মিক্স করা হচ্ছে ।

কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য যেসব নির্দেশনা রয়েছে, তা উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থানে ড্রেনের বেস স্ল্যাবে ফাটল, অপর্যাপ্ত কভার ব্লক, অপর্যাপ্ত গভীরতা ও প্রস্থ দেখা যাচ্ছে । কিছু জায়গায় মাটি সমতল না করেই ঢালাই করার অভিযোগও উঠেছে । এলাকাবাসীর মতে, কোটি টাকার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মদক্ষতা ও মান নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির কারণে ভবিষ্যতে অল্প বৃষ্টিতেই ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প তদারকি কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী (চকরিয়া পৌরসভা) নিয়মিত মাঠে তদারকি করেন না । এ কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছেমতো নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে । এ বিষয়ে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এত টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন হলেও বাস্তবে টেকসই কিছু হচ্ছে না । যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই ড্রেন নষ্ট হয়ে যাবে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম বন্ধ করে গুণগত মানসম্পন্ন কাজ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

চকরিয়া পৌরসভার প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত তদারকি করছি, কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক কাঞ্চন জয়ের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি ।




সরকারি হাসপাতালে সেবার সংকট, ঝুঁকি নিয়ে ধাত্রীর দিকে ঝুঁকছেন প্রসূতিরা

সরকারি হাসপাতালে সেবার সংকট, ঝুঁকি নিয়ে ধাত্রীর দিকে ঝুঁকছেন প্রসূতিরা
ছবি সংগৃহীত।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের পরিবর্তে ধাত্রীদের মাধ্যমে প্রসূতিদের চিকিৎসা ও প্রসব করানোর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া এবং বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে অতিরিক্ত খরচের কারণে ঝুঁকি জেনেও অনেকে ধাত্রীদের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

অভিযোগের তীর হোসনে আরা বেগম নামের এক ধাত্রীর দিকে। স্থানীয়দের দাবি, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশে একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে প্রসূতিদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে নিয়মিত প্রসব করানোর পাশাপাশি জটিল রোগীদের শেষ মুহূর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক রোগীকে তুলনামূলক স্বাভাবিক অবস্থায় ওই বাসায় নেওয়া হলেও পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। এতে প্রসূতি ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

শুধু হোসনে আরা বেগম নন, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে আরও কয়েকজন ধাত্রী নিয়মিত প্রসূতিদের সেবা ও প্রসব করাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসকসংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রসবসহ বিভিন্ন চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বেসরকারি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে অনেক পরিবার তুলনামূলক কম খরচের আশায় ধাত্রীদের দ্বারস্থ হচ্ছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অনেকে বাসায় প্রসবের পথ বেছে নিচ্ছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, প্রসূতি ও নবজাতকের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত চিকিৎসক ছাড়া কেউ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করলে তার দায়ভার কে নেবে?

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা, বৈধ অনুমোদন এবং কোন ধরনের চিকিৎসা বা প্রসবসেবা দেওয়ার আইনগত অধিকার রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে হোসনে আরা বেগম দাবি করেন, তিনি প্রসবপূর্ব বা প্রসবপরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা (চেকআপ) ছাড়া কোনো চিকিৎসা করান না।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, ধাত্রীরা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার আওতাধীন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভাবে অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কক্সবাজারের জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাবের আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসূতি ও নবজাতকের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি অনুমোদনহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।