চকরিয়ায় ২১ কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

চকরিয়া পৌরসভার হালকাকারা নবারুন ক্লাব থেকে মাতামুহুরী নদী পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণ কাজে ভয়াবহ অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি অর্থায়নে ২১ কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইমু কনস্ট্রাকশন ইচ্ছাকৃতভাবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছে, যার ফলে পুরো প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ।
এই বড় প্রকল্পের দায়িত্বরত পৌরসভার প্রকৌশলীসহ তদারককারীদের অবহেলার কারণে এসব অনিয়মের সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন নাগরিকদের।
প্রকল্পটি “দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (SCRDP)”–এর আওতায় বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী ১ দশমিক ৬০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আরসিসি ড্রেন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৭০ টাকা। কাজের চুক্তি হয় ১৩ এপ্রিল ২০২৫, এবং কাজ শুরু হয় ৭ মে ২০২৫। ঠিকাদারি কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ২৭ অক্টোবর ২০২৬।
সরেজমিনে দেখা যায় , নির্মাণ কাজে নির্ধারিত মানের কংক্রিট, রড এবং অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে না। কংক্রিটের সাথে প্রতি বালতিতে মাটি মিক্স করা হচ্ছে ।
কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য যেসব নির্দেশনা রয়েছে, তা উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থানে ড্রেনের বেস স্ল্যাবে ফাটল, অপর্যাপ্ত কভার ব্লক, অপর্যাপ্ত গভীরতা ও প্রস্থ দেখা যাচ্ছে । কিছু জায়গায় মাটি সমতল না করেই ঢালাই করার অভিযোগও উঠেছে । এলাকাবাসীর মতে, কোটি টাকার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মদক্ষতা ও মান নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির কারণে ভবিষ্যতে অল্প বৃষ্টিতেই ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প তদারকি কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী (চকরিয়া পৌরসভা) নিয়মিত মাঠে তদারকি করেন না । এ কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছেমতো নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে । এ বিষয়ে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এত টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন হলেও বাস্তবে টেকসই কিছু হচ্ছে না । যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই ড্রেন নষ্ট হয়ে যাবে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম বন্ধ করে গুণগত মানসম্পন্ন কাজ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
চকরিয়া পৌরসভার প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত তদারকি করছি, কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক কাঞ্চন জয়ের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি ।











