চট্টগ্রামে কোচিং সেন্টারগুলোতে ভর্তি-বাণিজ্য: দিশেহারা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিংয়ের জোর তৎপরতা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নগরীর চকবাজার, অলংকার, হালিশহর, বহদ্দারহাট, আন্দরকিল্লা, জামালখান ও জিইসি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলো মেতে উঠেছে গলাকাটা ভর্তি-বাণিজ্যে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় 'ক' ইউনিট, 'খ' ইউনিট কিংবা মেডিকেল-প্রকৌশল প্রস্তুতি কোর্সের নামে কোর্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার থেকে শুরু করে ২৩ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হয় এককালীন। কম-বেশির কোনো অভিযোগ চলে না তাদের কাছে। এর বাইরে লেকচার শিট, মডেল টেস্ট ও বিশেষ ক্লাসের বাহানায় নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। অনেক কোচিং সেন্টার আগাম ভর্তিতে ছাড়ের লোভনীয় প্রস্তাব দিলেও কার্যত মূল টাকার চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্থ পকেটে পুরছে।
চট্টগ্রামে একাডেমিক, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বেশ কিছু কোচিং সেন্টার রয়েছে—উদ্ভাস-উন্মেষ-উত্তরণ, রেটিনা ও মেডিকো, ফোকাস ও আইকন প্লাস, প্যারাগন ও অমেকা। একাডেমিক ও স্কুল/কলেজ কোচিংয়ের মধ্যে রয়েছে সায়েন্স ফিলিপস, মডুলাস, মুনাস একাডেমি। এছাড়া বেস্ট কেয়ার ক্যাডেট কোচিং, সৌদিয়া ক্যাডেট কোচিং এবং ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য রয়েছে সাইফুর'স, মেন্টরস, স্পিকার্স কাউন্সিল ও ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ নাম না জানা আরও শতাধিক কোচিং সেন্টার। তবে এই প্রতিযোগিতায় উদ্ভাস-উন্মেষ প্রথম স্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর অভিভাবকেরা বাধ্য হয়েই জমি বা গবাদিপশু বিক্রি কিংবা ঋণ করে কোচিং সেন্টারের দাবি মেটাচ্ছেন। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পড়াশোনা এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার পর কোচিং না করালে সন্তান পিছিয়ে পড়বে—এই ভীতি তৈরি করে আমাদের থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।"
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা তদারকি না থাকায় কোচিং ব্যবসার মালিকেরা ইচ্ছামতো ফি হাঁকাচ্ছেন। এছাড়া অনেক কোচিং সেন্টারে চটকদার বিজ্ঞাপন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামিদামি শিক্ষার্থীদের দিয়ে ক্লাস নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে পাওয়া যাচ্ছে মানহীন পাঠদান।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবক ফোরাম দ্রুত চট্টগ্রামের এসব অনিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নজরদারি, নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ এবং জিম্মিদশা থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।













