চরম ঝুঁকি: বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাতিলের মেয়াদ ফের বাড়াল কাতার
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

চরম ঝুঁকি: বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাতিলের মেয়াদ ফের বাড়াল কাতার

চরম ঝুঁকি: বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাতিলের মেয়াদ ফের বাড়াল কাতার
ছবি সংগৃহীত।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির (ফোর্স মেজার) মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে কাতারএনার্জি। এর ফলে এলএনজির সরবরাহ আগামী অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল হতে পারে বলে ইউরোপীয় ও এশীয় ক্রেতাদের জানিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কাতারএনার্জির তেল সরবরাহ বাতিলের এই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।

কাতারি সংবাদমাধ্যম দোহা নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে যেসব ক্রেতা দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ইতালি। এই পরিস্থিতিতে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায় ও বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারএনার্জি বাংলাদেশের জন্য এলএনজি সরবরাহে জারি করা এই নির্দেশনার মেয়াদ সেপ্টেম্বর মাসের পরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অপরদিকে পাকিস্তানি ক্রেতাদের চলতি সপ্তাহে জানানো হয়েছে, আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত কার্গো বাতিল প্রক্রিয়া জারি থাকবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের ক্রেতারাও এ সংক্রান্ত নোটিশ পাওয়া শুরু করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সও ইতালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।

শুক্রবার ইতালীয় প্রতিষ্ঠান এডিসন বলেছে, কাতারএনার্জি দেশটিতে এলএনজি সরবরাহের স্থগিতাদেশ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এডিসন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ইতালির আদ্রিয়াটিক এলএনজি রিসিভিং টার্মিনালের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত পাঁচটি এলএনজি কার্গো পাঠাতে পারবে না বলে কাতারএনার্জি এডিসনকে জানিয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক ফোর্স মেজারের সময়সীমা এপ্রিলের শুরু থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

এডিসন বলছে, এখন পর্যন্ত বাতিল হওয়া মোট কার্গোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। তারা নিজেদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিকল্প উৎসের ব্যবস্থা করছে বলে উল্লেখ করেছে।

এই বাধার কারণে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহ খুঁজতে, অন্য জ্বালানিতে স্থানান্তরিত হতে কিংবা গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঠিক কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

প্রধান এই নৌপথে নিয়মিত এলএনজি কার্গো পরিবহন কার্যক্রম প্রায় বন্ধই রয়েছে। কাতার গত মার্চ মাসে প্রথমবার এই বিশেষ স্থগিতাদেশ বা ফোর্স মেজার জারি করে এবং এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে প্রতি মাসে তা নবায়ন করছে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির বৈশ্বিক গবেষণা ফেলো অ্যান-সোফি করবেউ ইউরোনিউজকে বলেন, কোনো রাজনৈতিক সমাধান বা প্রধান অংশীদারদের সমঝোতা ছাড়া মনে হচ্ছে আমাদের আরও বেশ কিছু দিন এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যেতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাভাবিক রপ্তানি প্রক্রিয়া আবার কবে শুরু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে কাতারএনার্জির কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। এ কারণে তারা প্রতি মাসে সরবরাহ বাতিলের সিদ্ধান্তের মেয়াদ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জ্বালানি রপ্তানির বিশ্ব মানচিত্র থেকে কাতার একপ্রকার অদৃশ্য হয়ে পড়েছে। আইসিআইএসের তথ্য বলছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে দেশটি মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। অথচ আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি।

ইউরোনিউজ বলছে, গ্যাস বিক্রিতে কাতারের আনুমানিক রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি (২৪ বিলিয়ন) ডলার।

এই ঘাটতি আংশিকভাবে পূরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশগুলো। এছাড়া নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়ায় উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তা সত্ত্বেও, সার্বিক ঘাটতি পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এশিয়ার কিছু বাজার ব্যবহার কমিয়ে কিংবা বিকল্প জ্বালানিতে চলে গিয়ে এর সাথে মানিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে ইউরোপ স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ মূল্যে গ্যাস না কিনে নিজেদের জমানো গ্যাসই খরচ করছে।

গবেষক করবেউ বলছেন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দীর্ঘদিন এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হতে থাকলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।

আদানিকারী দেশগুলোর ওপর এই সংকটের প্রভাব সব জায়গায় সমান নয়। তবে তার মতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে জাপান তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। কারণ তারা কাতার থেকে বেশ কম এলএনজি কেনে এবং তাদের বেশিরভাগ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি তেল বা মার্কিন গ্যাসের দামের সাথে নির্ধারিত।

ইউরোনিউজকে করবেউ বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

ইরানে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই জলপথ দিয়ে কিছু তেলবাহী ট্যাঙ্কার এখনো চলাচল করছে। তবে এলএনজিবাহী জাহাজগুলো তেমন সহজলভ্য নয়। এসব জাহাজ বেশ বিশেষায়িত এবং এর বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন। যা চলমান সংঘাতের মধ্যে এসব জাহাজকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট, প্রধান নির্বাহী ও কাতার সরকারের জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সায়াদ শেরিদা আল-কাবি বলেছেন, রাস লাফানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা অন্তত ১৭ শতাংশ কমে গেছে।

সূত্র: দোহা নিউজ, ইউরো নিউজ।




হুথিরা অরাজকতা বেছে নিয়েছে, নিজের নিরাপত্তায় ছাড় দেবে না সৌদি: প্রিন্স সালমান

হুথিরা অরাজকতা বেছে নিয়েছে, নিজের নিরাপত্তায় ছাড় দেবে না সৌদি: প্রিন্স সালমান
ছবি সংগৃহীত।

হুথিদের হামলার মুখে সৌদি আরব তার নিজস্ব নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, হুথিরা অরাজকতা ও ধ্বংসকে বেছে নিয়েছে। এরমাধ্যমে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ ও এ অঞ্চলকে তারা ঝুঁকিতে ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সূরা কাউন্সিলে বাদশাহ সালমান বিন আব্দুলআজিজ আল সৌদের পক্ষে কথা বলেন প্রিন্স সালমান।

তিনি বলেন, “সৌদির নিরাপত্তা বিনষ্টকারী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব দিতে সৌদি আরব একটুও দ্বিধা করবে না।”

এছাড়া গত আগস্টে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে হওয়া মক্কা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন প্রিন্স সালমান। তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদির নেতৃবৃন্দের ইচ্ছার প্রকাশ ঘটেছে। যারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করতে চান, সৌদিকে উত্তেজনা ও সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে চান এবং এসব বিষয়ে সমন্বয় করতে চান।

সামরিকভাবে প্রস্তুতি নিলেও সৌদি আরব উত্তেজনা প্রশমনে সব ধরনের চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সালমান বলেন, “উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে সৌদি আরব সব ধরনের চেষ্টা করছে। তবে এক্ষেত্রে নিজেদের নিরাপত্তাকে একটুও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।”

এসবের সঙ্গে লোহিত সাগরে জাহাজে হুথিদের হামলা ও এগুলো প্রতিরোধে বহুজাতিক প্রতিরক্ষা মেরিটাইম জোটের কথাও বলেন প্রিন্স সালমান। তিনি বলেন, লোহিত সাগর ও বাব এল মান্দেবকে কোনোভাবেই রাজনীতির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

এদিকে এক মাসের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিদের লড়াই চলছে। এরমধ্যে হুথিরা সৌদির বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে সৌদির বিমানবাহিনী শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা




প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে পাঠাল মালয়েশিয়া

প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে পাঠাল মালয়েশিয়া
ছবি সংগৃহীত।

১ হাজার ৪৭৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। গত কাল ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায়ার নৌবাহিনীর উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় ঘাঁটি লুমুত নাভাল বেইস থেকে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর ৩ টি জাহাজে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর নাম ইউএমএস মাউত্তামা, ইউএমএস কিং সিন ফিউ শিন এবং ইউএনএস থানলউইন।

মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিন এফপিকে জানিয়েছেন, ১ হাজার ৪৭৬ জন রোহিঙ্গার এই দলটিতে ১ হাজার ৩৭০ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন কিশোর, ৭ জন মেয়েশিশু রয়েছে। এই মেয়েশিশুদের বয়স ৬ থেকে ৮ বছরের মধ্যে।

এক প্রতিবেদন এএফপি জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের ১৪টি শরণার্থী শিবির থেকে এই রোহিঙ্গাদের বাছাই করা হয়েছে। গত কাল তাদের মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করতে লুমুত নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে আনা হয়েছিল। কড়া পুলিশ প্রহরায় কয়েক ডজন বাসে স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা হয়েছিল তাদের। কোনো সংবাদিককে এ সময় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে কয়েকটি পুলিশ স্টেশন এবং সেনা ছাউনিতে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। পরে সেই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা। আরসার দায় স্বীকারের পর রাখাইনের রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

সেনাসদস্যদের হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের সামনে টিকতে না পেরে বাড়িঘর ছেড়ে দলে দলে রোহিঙ্গারা দেশান্তরি হতে শুরু করে। এই রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় দলটি এসেছে বাংলাদেশে— ২০১৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা এসেছে বাংলাদেশে।

মালয়েশিয়াতেও আশ্রয় নিয়েছিল রোহিঙ্গারা। কুয়ালালামপুরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন।

গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছিলেন, মিয়ানমারের সরকার ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিন জানিয়েছেন, যে ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর কথা হয়েছে মিয়ানমারের সঙ্গে, তার প্রথম দলটিকে পাঠানো হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর।

“এই রোহিঙ্গাদের সবাই স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। কোনো প্রকার চাপপ্রয়োগ বা জোর-জবরদস্তি করা হয়নি। মিয়ানমারের সরকারও তাদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে”, এএফপিকে বলেছেন মাখজান।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই কার্যক্রমে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। সেই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে সেখানে শরণার্থীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মতো পরিস্থিতি এখনও বিদ্যমান নেই।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ইউএনএইচসিআরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, “শরণার্থীদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন অবশ্যই স্বেচ্ছায় ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে হতে হবে এবং তা হতে হবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে।”

এই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত আসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে রাখাইন নিবাসী রোহিঙ্গাদের সংস্থা আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিলও (এআরএনসি)। সংস্থাটির কো চেয়ারম্যান নায়ে সান লোউইন আলজাজিরাকে বলেছেন, “রাখাইনের বেশিরভাগ এলাকা এখন আর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেই। রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় আরাকান আর্মির সঙ্গে এখনও যুদ্ধ চলছে সেনাবাহিনী। এই অবস্থায় এই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর মানে হলো সংঘাত পরিস্থিতির দিকে তাদের ঠেলে দেওয়া।”

সূত্র : আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি




বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের বিশেষ ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের বিশেষ ওষুধে ১০০% শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৯টি দেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিশেষ ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯টি দেশ বাদে অন্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে এ ওষুধ বা এগুলোর উপকরণ রপ্তানি করলে মূল্যের অনুপাতে শুল্ক দিতে হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই ১৯ দেশের তালিকা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে। আজ মঙ্গলবার থেকেই এই দেশগুলো বাদে বাকি দেশগুলোর নির্দিষ্ট বিশেষ ওষুধ বা উপকরণের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ কার্যকর হবে।

গত ২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয় পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যালস, বায়োলোজিকস এবং এর সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো আমদানি করলে মূল্যের অনুপাতে ১০০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রেই এসব ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহী করতে তিনি শুল্ক আরোপ করেন।

শুল্কমুক্তযোগ্য ওষুধ পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সব ওষুধ, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, সেল থেরাপি, জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি ড্রাগ কনজুগেটস এবং প্রাণীদের ওষুধ। এরসঙ্গে এসব ওষুধের উপকরণেও ১৯টি দেশের পণ্য শুল্ক সুবিধা পাবে।

বাংলাদেশসহ এই সুবিধা পাওয়া অন্য দেশগুলো হলো ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভেদর, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, গুয়েতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসেডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব দেশগুলো এই শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তি আছে বা ভবিষ্যতে হবে।

সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড