চালুর ৪ মাসেই কাফকো বন্ধ, উৎপাদনের বাইরে সিইউএফএল ও ডিএপি
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

চালুর ৪ মাসেই কাফকো বন্ধ, উৎপাদনের বাইরে সিইউএফএল ও ডিএপি

চালুর ৪ মাসেই কাফকো বন্ধ, উৎপাদনের বাইরে সিইউএফএল ও ডিএপি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত বহুজাতিক সার কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) চার মাসের মাথায় আবার উৎপাদন বন্ধ করেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় থেকে কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, কাফকোতে এতদিন দৈনিক ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও সোমবার থেকে তা কমিয়ে সাড়ে ৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও কারখানার চাহিদার ভিত্তিতেই সরবরাহ কমানো হয়েছে।

কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণমাত্রায় সরবরাহ দেওয়া হবে।

তবে, কাফকো কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়াই উৎপাদন বন্ধের মূল কারণ নয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কারখানায় বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ বা ওভারহোলিং করা হয়। এবারও সেই নির্ধারিত কাজের অংশ হিসেবে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।

কাফকোর চিফ অব পার্সোনেল ফারুখ আহমেদ বলেন, প্ল্যান্টের সচলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন বছর পরপর এক থেকে দেড় মাসের জন্য ওভারহোলিং করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় টিউনিং শেষ হলে কারখানাটি আবার পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরবে।

এর আগে, দীর্ঘ প্রায় দুই মাস গ্যাস সংকটে বন্ধ থাকার পর গত ১ মে কাফকোতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। প্রস্তুতি শেষে ২ মে বিকেল থেকে উৎপাদন শুরু করে কারখানাটি। তখন দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছিল।

বর্তমানে কাফকোর দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ৩২ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়।

কাফকোর উৎপাদন বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) ওপরও। কারণ, ওই কারখানার উৎপাদনের জন্য কাফকো থেকে পাওয়া অ্যামোনিয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়।

সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ সিইউএফএল

কাফকোর পাশেই রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদনের বাইরে। গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরের ৪ মার্চ কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়। আগস্টের শেষ সপ্তাহেও কারখানাটি টানা সাড়ে পাঁচ মাস বন্ধ ছিল।

সিইউএফএলের কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিভিন্ন সময়ে কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। একসময় দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে কার্যকর সক্ষমতা কমেছে।

কারখানাটির উৎপাদন বন্ধের ইতিহাসও দীর্ঘ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিইউএফএল মাত্র পাঁচ দিন চালু ছিল। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হওয়ার পর ১৩ অক্টোবর চালু হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যায়। ২৬ ফেব্রুয়ারি চালুর পর দেড় মাসের মাথায় ১১ এপ্রিল গ্যাস সংকটে আবার বন্ধ হয়।

প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর গত বছরের ২ নভেম্বর চালু হলেও ওই দিনই আবার বন্ধ হয়ে যায়। পরে চলতি বছরের ২ মার্চ চালু করা হলেও দুই দিন পর ৪ মার্চ গ্যাস সংকটে ফের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ গত ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) সকালে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। এতে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা কারখানাটিতে শিগগিরই ইউরিয়া উৎপাদন শুরুর আশা ছিল কর্তৃপক্ষের। প্রায় ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও কারখানাটি সরবরাহ হওয়ার পর এখনো উৎপাদনে ফিরতে পারেনি।

ফসফরিক অ্যাসিডের সংকটে ডিএপি

আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানাটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। গত ১৮ এপ্রিল রাতে কারখানায় মজুত থাকা শেষ অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে গেলে প্রথম দফায় উৎপাদন বন্ধ হয়।

কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে সেখান থেকে অ্যামোনিয়া পেয়ে ৮ মে ডিএপি কারখানাটি আবার উৎপাদনে ফেরে। কিন্তু জর্ডান থেকে আমদানি করা ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে কারখানাটির উৎপাদন আবার পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

কারখানাটিতে দৈনিক প্রায় ৬০০ টন ফসফরিক অ্যাসিড প্রয়োজন হয় এবং সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন চালুর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডিএপিএফসিএলের দুটি ইউনিটে দৈনিক ৮০০ টন করে মোট ১ হাজার ৬০০ টন ডিএপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

দেশীয় উৎপাদনে চাপ, বাড়ছে আমদানি নির্ভরতা

কাফকো, সিইউএফএল ও ডিএপিএফসিএল, চট্টগ্রামের তিন গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানার উৎপাদন বারবার ব্যাহত হওয়ায় দেশের সার সরবরাহব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ছে। গ্যাস, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং আমদানিনির্ভর কাঁচামালের সংকটের কারণে কারখানাগুলো দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। সংসদে কৃষিমন্ত্রীও এই চাহিদার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে বিসিআইসির কারখানাগুলো থেকে প্রায় ১০ লাখ টন ইউরিয়া উৎপাদনের বিপরীতে বাকি প্রায় ১৬ লাখ টন আমদানির প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ফলে দেশীয় উৎপাদন বারবার ব্যাহত হলে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়বে। কাফকোর নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ দ্রুত শেষ করে উৎপাদনে ফেরানো এবং সিইউএফএল ও ডিএপিএফসিএলে প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে আসন্ন মৌসুমে দেশে সার সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব
ছবি সংগৃহীত।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠায়। বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিএফআইইউর পাঠানো ই-মেইল বার্তায় সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম (এওএফ), গ্রাহকের পরিচিতি-সংক্রান্ত তথ্য (কেওয়াইসি) এবং হিসাব বিবরণী (স্টেটমেন্ট) চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তার নামে থাকা হিসাবগুলোর কেওয়াইসি ও হিসাব বিবরণীর সফটকপি পাঠাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিএফআইইউর পাঠানো এক্সেল ফাইলে তার হিসাবসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এবং চিহ্নিত প্রতিটি হিসাবের সুদ আয় ও উৎসে কর (টিডিএস)-সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করে পাঠাতে বলা হয়েছে।

লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য তলবের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলেও বিএফআইইউর ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিএফআইইউর একটি পরিপত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে তলব করা তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। দুর্বৃত্তরা তার কার্যালয়ে ঢুকে বিভিন্ন আসবাব ও জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির প্রথমে অভিযোগ করেন, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা চেয়েছিল। তবে পরে তিনি জানান, তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি। তার বক্তব্যের পরিবর্তন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ-উর রহমান বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি ও ভাইরাল জনপ্রিয়তা পাওয়া ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন বলে তিনি আশা করেন।




নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানো যাবে

নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানো যাবে
ছবি সংগৃহীত।

বাংলা কিউআর স্ক্যান করে আগামী ১ নভেম্বর থেকে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে (পি-টু-পি) টাকা পাঠাতে পারবেন। নতুন এই ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআর কোডের ছবি আপলোড করে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানসহ পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলা কিউআরের ব্যবহার গত কয়েক মাসে দ্রুত বেড়েছে। গত জুনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর লেনদেন হতো। তখন লেনদেনের অর্থমূল্য ছিল ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার লেনদেন হচ্ছে। এসব লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআর লেনদেনের সংখ্যা গড়ে সাড়ে তিন গুণ এবং অর্থের পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন।

মার্চেন্টের হিসাবে টাকা জমা হবে তাৎক্ষণিক

বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বাড়াতে ১ অক্টোবর থেকে কিউআর কোডের মাধ্যমে পরিশোধ করা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। ফলে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের পর মার্চেন্টকে অর্থ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

একই দিন থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্টে অর্থগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর ব্যবহারের খরচ কমবে। ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্টদের বিনা খরচে অথবা কম খরচে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা দিতে পারবে।

ছোট লেনদেনে প্রণোদনা

বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ১ অক্টোবর থেকে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনে অর্থগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং অর্থপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই প্রণোদনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং সেবাদাতাদের মধ্যে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যর্থ হলে দ্রুত টাকা ফেরত

বাংলা কিউআরে লেনদেন ব্যর্থ হলে দ্রুত অর্থ ফেরতের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ছাড়া লেনদেন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলা কিউআর লেনদেন নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হাসপাতালের টিকিট ও বিভিন্ন ফি, স্কুলের বেতন, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে সড়ক ও সেতুর টোল পরিশোধে বাংলা কিউআর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এসব ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর চালু হলে ছোট অঙ্কের নগদ লেনদেন কমবে। একইসঙ্গে নগদ টাকা ও ভাংতির সমস্যাও কমবে।

বাংলা কিউআরকে নিরাপদ, সহজ, কম খরচের ও আন্তঃব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বাংলা কিউআরের অন্যতম বড় সুবিধা হলো আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানের কিউআর ব্যবহার করা হলেও অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেটি ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এতে আলাদা আলাদা কিউআর ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে।




একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি নতুন প্রকল্প, ৩টি সংশোধিত প্রকল্প এবং ২টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন; ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু; শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো যক্ষ্মা, এইচআইভি এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদার করা এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, পটুয়াখালী (১ম সংশোধিত)। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)”। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রাম-এ হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা”।

পানি মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী এবং বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)” এবং “মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা”। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)”।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প” এবং “মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় সংশোধন)”। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধন)”। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “র‍্যাব (এসআরবি)-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত)”। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ” এবং “তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ”।

একনেক সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর নিজস্ব ক্ষমতাবলে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১৫টি প্রকল্প সর্ম্পকেও অবহিত করা হয়। ওই প্রকল্পগুলো হলো- বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নির্ঝর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিদ্যমান ৩ তলা ভবনের উপর ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (৬ তলার ভিত) প্রকল্প; বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলা ঢাকায় বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প; আলীকদম সেনানিবাসে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্ব) প্রকল্প; ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ১০ জেলায় বিএসটিআইর আঞ্চলিক কার্যলয় স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; রূপসা ৮০০ মে. ওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প (১ম সংশোধিত); মিরপুর ইউসেপ-শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং মানসম্পদ উন্নয়ন (১ম সংশোধিত); ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়ার্টার ম্যানেজমেন্ট (সিএসএডাব্লিউএম) (বাপাউবো অংশ) প্রকল্প (১ম সংশোধিত); কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলাধীণ ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাম ও ডান তীর সংরক্ষণ (২য় সংশোধন); হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানী বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের সম্মুখে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীর প্রতিরক্ষা (২য় সংশোধন) প্রকল্প; ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; বাংলাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প (জিওবি আইডিবি) (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ভূয়াপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক (জেড-৪৮০১) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধপূর্বক পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন প্রকল্প।