চুল কাটতে বের হওয়া রায়হান ফিরল এক পা হারিয়ে
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

চুল কাটতে বের হওয়া রায়হান ফিরল এক পা হারিয়ে

চুল কাটতে বের হওয়া রায়হান ফিরল এক পা হারিয়ে
ছবি: এক পা হারানো রায়হান।

লোহাগাড়ায় নিখোঁজের সাত মাস পর এক পা হারানো অবস্থায় মো. রায়হান (১২) নামে এক শিশুর সন্ধান মিলেছে। শনিবার রাতে চুনতির ১৯ দিনব্যাপী সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল এলাকায় ভিক্ষা করার সময় স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন। দীর্ঘদিন পর সন্তানকে ফিরে পেলেও তার শারীরিক অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা।

রায়হান উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি হেফজখানার শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও রায়হানের ভাষ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় চুল কাটার জন্য বাবার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে স্থানীয় একটি সেলুনে যাওয়ার পথে একটি গাড়িতে ওঠে সে। পরে গাড়িটি কক্সবাজারের দিকে গেলে রায়হান সেখানে চলে যায়। সেখানে সমুদ্রসৈকতে বডি ম্যাসাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত সে। পরে এক ব্যক্তি খাবার দেওয়ার কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়।

রায়হানের দাবি, ঢাকায় নেওয়ার পর কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি একটি টিনের ঘেরা কক্ষে তাকে কথিত নানী সালমার কাছে তুলে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে ভিক্ষা করতে বাধ্য করা হতো। ওই কক্ষে বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্রও দেখেছে বলে জানায় রায়হান।

তার ভাষ্য, ভিক্ষা করে আয় কম হওয়ায় দুই-তিন মাস পর এক রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার একটি পা কেটে দেওয়া হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে একটি পা না থাকার বিষয়টি দেখতে পায় সে। পরে তাকে বলা হয়, ট্রেন দুর্ঘটনায় তার পা কাটা গেছে। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলে তাকে আবার কমলাপুর রেলস্টেশনে ভিক্ষা করতে নামিয়ে দেওয়া হয়।
রায়হান বলেন, আমাকে খাবার ও টাকা দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। পরে ঢাকায় নিয়ে একটি জায়গায় আটকে রাখে। এরপর আমার পা কেটে দেয়। সুস্থ হওয়ার পর আমাকে ভিক্ষা করতে নামিয়ে দেয়।

প্রায় সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর শনিবার চুনতির সীরাত মাহফিল এলাকায় ভিক্ষা করার সময় রায়হানকে দেখতে পান তার স্বজনরা। পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, সাত মাস ধরে ছেলেকে কোথায় খুঁজিনি। অনেক জায়গায় খোঁজ করেছি। অবশেষে ছেলেকে পেলেও সুস্থ অবস্থায় পাইনি। যারা আমার ছেলের এ অবস্থা করেছে, তাদের খুঁজে বের করে বিচার চাই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রায়হানকে আটকে রাখার সময় তার একটি কিডনি নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিশুটির পেটে অস্ত্রোপচারের মতো চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে চিকিৎসা পরীক্ষা ছাড়া কিডনি অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

স্থানীয়রা জানান, সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর শিশুটিকে এক পা হারানো অবস্থায় ভিক্ষা করতে পাওয়া যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা, তার অবস্থান এবং পা হারানোর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত তদন্তের দাবি জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ নুরুচ্ছফা বলেন, ছেলেটির এমন অবস্থা দেখে আমরা মর্মাহত। সে কোথায় ছিল, কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল এবং কীভাবে তার পা হারাল—সবকিছু তদন্ত করে বের করা দরকার।

আইনজীবী নওশাদ আলী বলেন, শিশুটির বক্তব্যের পাশাপাশি তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য, পরিবারের করা জিডি বা মামলা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি এবং তাকে কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—সবকিছু তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। কিডনি অপসারণের অভিযোগ সত্য কি না, তা চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক বলেন, শিশু রায়হানকে উদ্ধারের পর তার বাবা থানায় এসেছিল ছেলে পা হারানোর বিচার চাইতে। ঘটনা যেহেতু ঢাকায় ঘটনাটি তাদেরকে সেখানে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সাত মাস আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়া একটি শিশু কীভাবে এক পা হারিয়ে ভিক্ষারত অবস্থায় ফিরে এল—এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন রায়হানের পরিবার ও স্থানীয়রা। পাশাপাশি তাকে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল, পা হারানোর প্রকৃত কারণ কী এবং কিডনি অপসারণের অভিযোগের কোনো সত্যতা আছে কি না, এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে এলাকায়।
 




বাঁশখালীতে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারকালে দুজন গ্রেপ্তার

বাঁশখালীতে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারকালে দুজন গ্রেপ্তার
বাঁশখালী থেকে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারকালে আটক মোহাম্মদ আলী ও তফজল আলী সোহেল।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারকালে দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে দুটি ট্রাক, ফিশিং বোট ও সিমেন্ট।

তাছাড়া উপজেলার খানখানাবাদ ও ছনুয়াসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিতই মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে সিমেন্ট পাচার করে সেই দেশ থেকে ইয়াবা চালানের নিরাপদ রুট হিসেবে বাঁশখালীকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের চৌধুরীঘাট এলাকা থেকে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৪১০ বস্তা সিমেন্টসহ দুটি ট্রাক এবং দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। জব্দ করা সিমেন্টের মধ্যে চৌধুরীঘাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৪ ব্যাগ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মো. হোসেনের ছেলে মো. আলী (২৭) এবং পটিয়া উপজেলার কালারপুল চাপড়ী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আলিমের ছেলে তফজল আলী সোহেল (৩৭)।

বাঁশখালী থানা-পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের চৌধুরীঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোররাতে অভিযান চালায়। এ সময় খানখানাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড চৌধুরীঘাট এলাকায় বাংলাদেশি পণ্য (সিমেন্ট) ট্রাকে করে ঘটনাস্থলে এনে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে সাগর ও নদীপথে মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা কালে মোহাম্মদ আলী ও তফজল আলী সোহেল নামের দুজনকে হাতেনাতে আটক করে। অভিযানকালে তাঁদের হেফাজত থেকে ১টি ফিশিং ট্রলার ও দুটি ট্রাকসহ ৩৪ ব্যাগ ডায়মন্ড সিমেন্ট জব্দ করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সর্বমোট ৪১০ ব্যাগ সিমেন্ট উদ্ধার করে পুলিশ।

বাঁশখালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোহাম্মদ আরিফ জানান, এ ঘটনায় আটক দুজনসহ অজ্ঞাতনামা সাত-আট জনের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫বি/২৫ডি ধারায় একটি মামলা (নম্বর-৪৩, তারিখ- ৩০/০৯/২০২৬) রুজু করা হয়েছে।




তৃণমূল পর্যায়ে এনসিপিকে সংগঠিত করতে কাজ করছি: সাজ্জাদ হোসাইন

তৃণমূল পর্যায়ে এনসিপিকে সংগঠিত করতে কাজ করছি: সাজ্জাদ হোসাইন
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মানুষের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমে আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসাইন।

১ অক্টোবর সকালে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের মানুষের অধিকার, প্রত্যাশা ও কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে এনসিপি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, নতুন কর্মী সম্পৃক্তকরণ, সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এনসিপি জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি অংশগ্রহণমূলক ও জনমুখী রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার জন্য ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হবে। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করতে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন।

সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, “এনসিপিকে একটি সমৃদ্ধ, শক্তিশালী ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন নাগরিক, তরুণ প্রজন্ম এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ইতিবাচক সহযোগিতা আমরা প্রত্যাশা করি।”

তিনি জানান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচি জোরদার করা হবে। সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব তৈরি, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, মানুষের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করাই হবে তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।




ইভটিজিং মামলায় জামিনে বেরিয়ে বাদীর ওপর হামলা, আহত ২

ইভটিজিং মামলায় জামিনে বেরিয়ে বাদীর ওপর হামলা, আহত ২
আহত রুবেল ও তার পিতা তমিজ উদ্দিন

আনোয়ারায় ১২ বছরের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের মামলায় গ্রেপ্তার আসামি জামিনে এসে আবারও বাদীর পরিবারের ওপর দুফা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মামলার বাদী মোহাম্মদ রুবেল (৩৮) ও তার পিতা তমিজ উদ্দিন (৬০) গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বুধবার বিকেলে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের হেটিখাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই রাতে এক কিশোরীর চাচার দোকানের সামনে উত্ত্যক্ত করার ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন তার চাচা মোহাম্মদ রুবেল। এর জেরে অভিযুক্তরা ওই কিশোরীর চাচার দোকানে ভাঙচুর চালায় এবং ঘটনার পর দিন কিশোরীর বাড়িতেও হামলা করে। এতে নারী-পুরুষসহ পাঁচজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ওই এলাকার অভিযুক্ত রোকনকে (২৫) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। সম্প্রতি রোকন জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। বুধবার বিকেলে রোকন দলবল নিয়ে মামলার বাদীকে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে কুপিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁদের ওপর আবারও হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।

আহত বৃদ্ধ তমিজ উদ্দিন (৬০) বলেন, ‘বিকেলে রোকন ও শিবলু দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। এ সময় আমরা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ আসে। অভিযুক্তরা পুলিশের সামনেই আমাকে হামলা করে পালিয়ে যায়।’

আহত মোহাম্মদ রুবেলের বড় ভাই মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, ‘অভিযুক্তরা জেল থেকে বেরিয়ে ইভটিজিংয়ের মামলা তুলে নিতে বারবার চাপ সৃষ্টিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় তারা আমার পরিবারের ওপর দুই দফায় হামলা করে। এতে আমার ভাই ও বাবা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় আরেকটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়ালি উল্লাহ বলেন, গুরুতর আহত দুই ব্যক্তিকে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’