চুয়েটের নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাখ্যান
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

চুয়েটের নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাখ্যান

চুয়েটের নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাখ্যান
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে লাল কার্ড প্রদর্শন ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকালে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকেন তারা। এছাড়া নতুন উপাচার্যের প্রবেশ ঠেকাতে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে পালাক্রমে পাহারাও দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, তাদের গ্রাফিতি কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া। দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চললেও দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা হতাশ।

তারা বলেন, ‘আমরাও দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চাই। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই ক্যাম্পাসে গ্রাফিতি আঁকা হচ্ছে। তাঁর দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ভালোভাবে কাজ করছিলেন উল্লেখ করে ওই শিক্ষার্থী বলেন, তাঁকে কাজ করার জন্য আরও সময় দেওয়া প্রয়োজন ছিল।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। রাতে নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে সেখানে পাহারায় বসেন তাঁরা।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনও।

গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া শাটডাউন কর্মসূচির কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। বন্ধ রয়েছে ক্লাস ও পরীক্ষা।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগ দেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ওই দিন রাতে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে নতুন উপাচার্যকে চুয়েটে না চাওয়ার কথা জানান শিক্ষক সমিতির সভাপতি।

চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম গত ২৭ জুলাই উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে মূল ফটকে তালা দিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ, যার প্রভাবে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।




ফটিকছড়িতে ফসল ঘরে তোলার আগেই সর্বনাশ, ঋণের চাপে কৃষক

ফটিকছড়িতে ফসল ঘরে তোলার আগেই সর্বনাশ, ঋণের চাপে কৃষক
ছবি সংগৃহীত।

সবজি বাজারে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আশিষ চন্দ্র দাশ। ১৬ কানি জমিতে পেঁপে, শসা, বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু ও মরিচসহ বিভিন্ন আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেছিলেন তিনি। লক্ষ্য ছিল মৌসুমের শুরুতেই ফসল বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া। চাষাবাদে নিজের পুঁজির পাশাপাশি ব্র্যাক থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন আশিষ। সব মিলিয়ে তাঁর বিনিয়োগ ছিল প্রায় নয় লাখ টাকা।

কিন্তু ফসল বিক্রির আগেই আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে তাঁর অধিকাংশ আবাদ। মাসের পর মাসের শ্রম ও বিনিয়োগ এখন পানির সঙ্গে ভেসে গেছে। আশিষ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকার সবজি বিক্রি করতে পেরেছি। এরপরই পাহাড়ি ঢল এসে অধিকাংশ আবাদ নষ্ট করে দিয়েছে। এখন পাঁচ লাখ টাকার ঋণ কীভাবে পরিশোধ করব, সেটিই বড় চিন্তা।’

আশিষের মতো একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের দুই শতাধিক কৃষক। তাঁদের কেউ সঞ্চয়ের টাকা, কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আগাম সবজি চাষ করেছিলেন। ফসল বিক্রি করে লাভ করার বদলে এখন তাঁদের ক্ষতির হিসাব কষতে হচ্ছে।

কাঞ্চননগরের হলিপাড়া এলাকার কৃষক মোহাম্মদ সুমন ও মুরশেদ আলম লালশাক, লাউ ও মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছিলেন। পাহাড়ি ঢলে তাঁদের আবাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাল্লানপাড়া চরের কৃষক মো. রফিক আগাম সবজি চাষের জন্য এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনখানি জমিতে চাষ করেছিলেন। ধুরুং খালের চরে তাঁর জমিগুলো পাহাড়ি ঢলের স্রোতে ভেঙে ও তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কৃষক মকবুল আহমেদ প্রায় আড়াই কানি জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেছিলেন। ঢলের পানিতে তাঁর আবাদি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিরাজুল হক, মো. কাসেম, শংকর দাশ, স্বপন দাশ ও সুজিতসহ অনেক কৃষক এবার আগাম সবজি চাষে অর্থ ও ঋণ বিনিয়োগ করেছিলেন। তাঁদের কারও ঋণ ৩০ হাজার, কারও ৪০ বা ৫০ হাজার, আবার কারও দুই লাখ টাকা পর্যন্ত।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ও বুধবারের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে কাঞ্চননগরের মানিকপুর থেকে কাঞ্চননগরহাট পর্যন্ত ধুরুং খালের দুই পাড়ের চরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম রবি ও শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছিল। ঢলের পানিতে এসব জমির বড় অংশের ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দুই শতাধিক কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘গত দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাঞ্চননগরের মানিকপুর থেকে পাইন্দংয়ের বেড়াজালী পর্যন্ত প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও আগাম সবজি ও বিক্রয় উপযোগী ফসল বালির নিচে চাপা পড়েছে। অনেক জমিতে দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত বালি জমেছে। প্রাথমিক হিসাবে এ অঞ্চলে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাঁদের সহায়তা ও প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলে কাঞ্চননগর এলাকার কয়েক শ কৃষকের আগাম সবজি চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’




ফটিকছড়িতে দুই মন্দিরে চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন, চার গ্রেপ্তার; মালামাল, নগদ টাকা ও সিএনজি উদ্ধার

ফটিকছড়িতে দুই মন্দিরে চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন, চার গ্রেপ্তার; মালামাল, নগদ টাকা ও সিএনজি উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়িতে পৃথক দুটি মন্দিরে চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামাল, নগদ টাকা ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের সার্বজনীন শ্রী শ্রী শিব ও মগধেশ্বরী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে লেলাং ইউনিয়নের শ্রী শ্রী মা মঙ্গল চণ্ডী মন্দিরেও চুরি হয়। পৃথক এসব ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় মামলা করা হয়।

ঘটনার পর ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার দাউদকান্দির মো. ইউসুফ (৩২), ফটিকছড়ির উত্তর ধুরুং এলাকার মো. হাশেম (৪২), ফটিকছড়ি পৌরসভার উত্তর রাঙ্গামাটিয়া এলাকার মো. সাহাব উদ্দিন (৪১) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার চন্দ্রপুর এলাকার রুহুল আমিন (২৯)। রুহুল আমিন বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর আই কলোনিতে বসবাস করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে তিনটি পিতলের ঘট, দুটি পিতলের পঞ্চপ্রদীপ, দুটি ত্রিশূল, একটি পিতলের ঘণ্টা, ছয়টি পিতলের সরই, ছয়টি স্টিলের ছোট-বড় প্লেট, দুটি চামচ, একটি পিতলের বড় ঘট, দুটি পিতলের কোষা, একটি বদনা, একটি কাঁসার গামলা, একটি গ্লাস, ছয়টি পিতলের ছোট থালা, একটি আরতি, একটি দুর্গামূর্তি ও চারটি পিতলের বাটি।

এ ছাড়া প্রণামী বাক্সে থাকা ১ হাজার ২০০ টাকা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরের দানবাক্সসহ অন্যান্য মালামাল চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে চুরি প্রতিরোধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।




ফটিকছড়িতে মন্দিরে চুরি, স্বর্ণালংকারসহ পূজার সামগ্রী লুট

ফটিকছড়িতে মন্দিরে চুরি, স্বর্ণালংকারসহ পূজার সামগ্রী লুট
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর বণিকপাড়ার শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরে প্রবেশ করে পূজার বিভিন্ন সামগ্রী, তিনটি ঘট এবং ঘটের সঙ্গে থাকা তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের লকেট নিয়ে যায়।

মন্দির কমিটির সভাপতি ও পরিচালক বিশ্বনাথ ধর বলেন, মন্দিরের পূজার জিনিসপত্র, তিনটি ঘট এবং ঘটের গলায় থাকা তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের লকেট নিয়ে গেছে। আনুমানিক দুই থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণ ছিল। এমনকি আজকের পূজার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও তারা রেখে যায়নি।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা অমর কান্তি দে বলেন, দুর্গাপূজার আগে এমন চুরির ঘটনায় আমাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর একই এলাকার দারোগা আলী তালুকদার বাড়ির ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বাহাদুরের ঘরে ঢুকে আলমারির তালা ভেঙে প্রায় সাড়ে আট ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় চোরের দল। আলমগীর হোসেন বাহাদুর লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেনের বড় ভাই। এর একদিন আগে সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া ব্রাহ্মণ সড়কে অবস্থিত শ্রী শ্রী মগধেশ্বরী মায়ের বিগ্রহ মন্দিরের তালা ভেঙে দেবদেবীর গহনা, পূজার সামগ্রী ও দানবাক্সের টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে পাইন্দং ইউনিয়নের যুগিনীঘাটা এলাকায় নুরুল আলম ফোরম্যানের বাড়ির খোরশেদুল আলমের ঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের হাত-মুখ বেঁধে জিম্মি করে ডাকাত দল সাড়ে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।