জনবহুল সড়ক বেহাল, বরাদ্দের টাকা খরচ হচ্ছে নির্জন পথে!
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

জনবহুল সড়ক বেহাল, বরাদ্দের টাকা খরচ হচ্ছে নির্জন পথে!

জনবহুল সড়ক বেহাল, বরাদ্দের টাকা খরচ হচ্ছে নির্জন পথে!
ছবি সংগৃহীত।
  • কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বচ্ছতা
  • নাম ভুল, কাজ ভুল—এলজিইডির প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় বড় প্রশ্ন
  • পাহাড় কাটায় পরিবেশ অনুমতি নেই—তবুও চলছে সড়ক নির্মাণ!
  • প্রকল্পের নামে ব্যক্তিস্বার্থ—রিসোর্ট ও বাগানেই সুবিধা পাচ্ছে নতুন সড়ক
  • পর্যটন উন্নয়ন নাকি সরকারি অর্থ অপচয়; টাইগার পাড়া–রুপালি ঝরনা সড়ক নিয়ে বিতর্ক

বান্দরবানের নীলাচল সড়কে জনবসতিবহুল 'যৌথ খামার এলাকা থেকে টাইগার পাড়া পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন' শিরোনামে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এক ওটিএম টেন্ডার আহ্বান করেছিল। প্রকল্পে উল্লেখ ছিল মোট ৩ কিলোমিটার ২৭০ মিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে টেন্ডারে উল্লেখিত সড়ক নয়, বরং উন্নয়ন কাজ চলছে সম্পূর্ণ জনবসতিহীন এলাকায়।

টাইগার পাড়া হয়ে সিনিয়র পাড়া পর্যন্ত জনবসতিশূন্য এলাকায় প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ এই সড়কের দু’পাশে নেই কোনো গ্রাম, নেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস বা কোনো স্থাপনা। ফলে এ সড়কটি সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসবে না বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের আওতায় ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে যৌথ খামার থেকে টাইগার পাড়া পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ৩ কিলোমিটার ২৭০ মিটার এ সড়ক উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৩২ হাজার ২৩৭ টাকা। হিমু কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন আওয়ামী লীগ নেতা মিলন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, টেন্ডারে জনবসতিবহুল সড়কের নাম ব্যবহার করলেও, কোটি কোটি টাকার কাজ করছে অন্য এলাকায়। যেখানে নেই কোনো গ্রাম, নেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নেই সরকারি-বেসরকারি কোনো স্থাপনা। এই সড়ক নির্মাণ বরং উপকার করছে এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মালিকানাধীন রিসোর্ট ও বাগানগুলোতে যাতায়াতে। এ ধরনের কাজ সরকারি অর্থের অপচয় এবং উন্নয়নের নামে অতিরিক্ত সুফল বেসরকারি কিছু ব্যক্তির সুযোগ তৈরি করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ঠিকাদার বলেন, প্রকল্পের চুক্তিপত্রে যৌথ খামার থেকে টাইগার পাড়া সড়ক পর্যন্ত উন্নয়নের কথা থাকলেও কাজ করছে অন্যত্র, যা টেন্ডারের শর্ত পরিপন্থী বলে জানান।

টাইগার পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা কালাচাং তঞ্চঙ্গ্যা ও সোহেল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, নীলাচল সড়কে যৌথ খামার থেকে টাইগার পাড়া পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিদিন স্থানীয় মানুষসহ হাজার হাজার পর্যটক এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। দুই জায়গায় ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত হয়েছে তবু নেই সংস্কার।

তাঁরা আরও বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল সড়ক বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকলেও, এ সড়কের বরাদ্দের টাকায় কাজ করছে জনবসতিহীন এলাকায়। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য।

সুমন তঞ্চঙ্গ্যা নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, টাইগার পাড়া থেকে রুপালী ঝরনা পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়ে নেই কোনো গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি স্থাপনা।

তিনি আরও বলেন, রুপালী ঝরনায় যেতে সাধারণ মানুষ কখনোই এই সড়ক ব্যবহার করে না। রেইচা বাজারের প্রধান সড়ক থেকে মাত্র এক কিলোমিটার পথ পার হলেই ঝরনায় যাওয়া যায়। তাই টাইগার পাড়া হয়ে রুপালী ঝরনায় যাতায়াতের প্রয়োজনই পড়ে না। এ পথ স্থানীয়দের কোনো কাজে আসে না বলে জানান।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টাইগার পাড়া থেকে রুপালী ঝরনা বা সিনিয়র পাড়া পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। কোথাও পাহাড় কেটে সমান করা হচ্ছে, আবার কোথাও সাইট ওয়ালের পাশের পাহাড় কেটে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। পুরো সড়কজুড়ে কমবেশি পাহাড় কাটার স্পষ্ট চিত্র দেখা যায়।

পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, সড়ক নির্মাণে পাহাড় কাটার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। আমি বান্দরবানে দেড় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছি। এই সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান পাহাড় কাটার জন্য অনুমতি নেয়নি। এর আগে অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা তা সরেজমিনে গিয়ে যাচাই করতে হবে। পাহাড়ি এলাকায় সড়ক উন্নয়নে কিছু পাহাড় কাটতে হয়, তবে এর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন পড়ে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তাসাউর বলেন, পার্বত্য জেলাগুলোর সিস্টেম হলো আগে রাস্তা নির্মাণ করা হয়, পরে ধীরে ধীরে জনবসতি গড়ে ওঠে। বর্তমানে যে সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে, তা টাইগার পাড়া হয়ে রুপালি ঝরনা হয়ে রেইচা মেইন সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। রাস্তাটি হলে রেইচা দিক দিয়েও যাতায়াত করা যাবে, আবার টাইগার পাড়ার দিক দিয়েও যাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, সড়কের পাশে কারো ব্যক্তিগত রিসোর্ট বা কোনো নেতার বাগান রয়েছে কিনা, তা আমার দেখার বিষয় নয়। এ সড়কটি ২০১৩ সালেই এলজিইডির গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে এটা ভুল হয়েছে, রাস্তার নাম 'যৌথ খামার-টাইগার পাড়া' হওয়া উচিত ছিল না। রাস্তার নাম হওয়া উচিত ছিল 'টাইগার পাড়া-রুপালি ঝরনা-রেইচা মেইন সড়ক'। এই দুই সড়কে দুইটি আইডি রয়েছে, আইডি অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে আম্মাজান কমিউনিটি সেন্টারের কাছে সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ধাওয়া করা হলে চালক ও ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি ইজিবাইক এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ইজিবাইকসহ তিন কার্টনে ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও ইজিবাইক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ

এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবানের বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠান 'ফারুক কোচিং হোম' (এফসিএইচ)-এর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এফসিএইচ-এ তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের পর অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে। কেউ কেউ মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে।

এফসিএইচ-এর সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, নিয়মিত পড়াশোনার তদারকি এবং এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম ফারুক বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের দিনে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখার চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। তাদের সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও অর্জন। এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর রহমত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানো নয়; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য যোগ্য, সৎ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তারা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় যেন সফল হতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এফসিএইচ-এর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিচর্যা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় ভালো ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এফসিএইচ-এর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও একাডেমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ফারুক কোচিং হোম।




লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫

লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশে ফলাফল বিপর্যয়ের মাঝে প্রতিবারের মতো এবারও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে উপজেলার মধ্যে জিপিএ-৫ এবং পাসের হারে শীর্ষ স্থান বজায় রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি (মাধ্যমিক) শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭১ জন শিক্ষার্থী সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বোচ্চ ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৪.৬৭ শতাংশ।

পুরো লামা উপজেলায় মাধ্যমিক শাখায় সর্বমোট ২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক (১৩ জন) পেয়েছে একাই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

এছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন পাস করেছে, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন এবং পাসের হার ৯৪.২০ শতাংশ।

উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, এসএসসি মাধ্যমিক শাখায় ১,১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫২৫ জন (পাসের হার ৪৭.০৯ শতাংশ), দাখিল শাখায় ১২৩ জনের মধ্যে ৫৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৪৭.১৫ শতাংশ) এবং কারিগরি/ভোকেশনাল শাখায় ১১৬ জনের মধ্যে ৯৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৮২.৭৬ শতাংশ)।

কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের এই ধারাবাহিক ও অভাবনীয় ফলাফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আলো ছড়িয়ে লামার সুনাম দেশজুড়ে উজ্জ্বল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বিদ্যালয়টি।

অন্যদিকে লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষজনক সাফল্য অর্জন করেছে। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে বিদ্যালয়টির মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬.৪৭ শতাংশ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবারের এসএসসি ফলাফল সেই প্রচেষ্টারই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।