জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের: ঘুষ না পেয়ে ৭০ বছরের নারীসহ পুরো পরিবারকে অপহরণ মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের: ঘুষ না পেয়ে ৭০ বছরের নারীসহ পুরো পরিবারকে অপহরণ মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের: ঘুষ না পেয়ে ৭০ বছরের নারীসহ পুরো পরিবারকে অপহরণ মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

চাচা জাফর আলমের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ আছে নাছির উদ্দিনের পরিবারের। সেই বিরোধের মানসিক চাপ সইতে না পেরে তাঁর বাবা ছুরত আলম ইতোমধ্যে মারা গেছেন। কিন্তু জাফর আলমের শত্রুতা যেন শেষই হচ্ছে না। এবার তিনি ছুরত আলমের পুরো পরিবারকে সাজানো অপহরণ ও ৩২ লাখ টাকা চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। আর তাঁদের সহযোগী হয়ে মাঠে নেমেছেন কক্সবাজারের রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আনোয়ার। এই এসআই আনোয়ার মামলা রুজু হওয়ার আগেই তদন্তের নামে নাছির উদ্দিনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে মালামাল তছনছ ও নগদ টাকা নিয়ে এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ হলো—তিনি ওই মামলার প্রধান আসামি আরিফ উল্লাহকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে এনে থানায় না নিয়ে দুটি বাড়িতে রেখে রাতভর অমানুষিক নির্যাতন করেছেন। ওই সময় মামলার বাদী জাফর আলমের নিকটাত্মীয় তারেকসহ তিনজনের হাতে আরিফ উল্লাহকে নির্যাতনের জন্য তুলে দেওয়া হয়।

এছাড়াও ৬ লাখ টাকা ঘুষ দাবির পাশাপাশি অর্ধলক্ষাধিক নগদ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন জব্দতালিকায় না দেখিয়ে আত্মসাৎ করে ফেলেছেন এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার।

যদিও যাকে ঘিরে অপহরণ ও টাকা চুরির মামলা সাজানো হয়েছে, সেই আনসারুল করিম নিশান তার ফেসবুক আইডিতে ভিডিও বার্তা দিয়ে বলেছে—তাকে কেউ অপহরণ করেনি, সে নিজের ইচ্ছায় ঘর ছেড়েছে।

রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের তেচ্ছিপুল মুন্সীপাড়ার মৃত ছুরত আলমের ছেলে নাছির উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে এমন সব অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, "আমরা ইয়াবা ব্যবসায়ী চাচা ও তাঁর নিকটাত্মীয় সিন্ডিকেটের মিথ্যা মামলা এবং এসআই আনোয়ারের নিপীড়ন ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাইছি।"

তাঁর ভাষায়, "আমাদের সাথে একটি পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাচা জাফর আলমের বিরোধ চলে আসছিল। সেই জমিটি জবরদখল করার জন্য চাতুরীর আশ্রয় নেন জাফর আলম। তিনি তাঁর ছেলে নিশানকে অপহরণ ও বাড়ির দরজা ভেঙে ৩২ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ তুলে গত ১২ এপ্রিল আমার ভাই তৈয়ব উল্লাহ, মা তাহেরা বেগম, বোন রাবেয়া বসরী ও ভাই আরিফ উল্লাহকে আসামি করে রামু থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় অভিযোগ তোলা হয়, আমার ভাই আরিফ উল্লাহ অস্ত্রের মুখে বাদী জাফর আলমের ছেলে আনছারুল করিম নিশানকে অপহরণ ও বাড়িতে ঢুকে তালা ভেঙে ৩২ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। কিন্তু যার বিরুদ্ধে অপহরণ ও টাকা চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে, আমার সেই ভাই আরিফ উল্লাহ কথিত ঘটনার এক সপ্তাহ আগে থেকেই এলাকার বাইরে ছিল।"

নাছির উদ্দিনের অভিযোগ, তাঁর চাচা জাফর আলম একজন পানদোকানি। তাঁর দৃশ্যমান অন্য কোনো ব্যবসা বা আয়ের উৎস নেই। কিন্তু তাঁর ঘরে ৩২ লাখ নগদ টাকা! তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এটা কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য?"

নাছির আরও অভিযোগ করেন, চাচা জাফর আলম সাজানো মামলাটির এজাহার জমা দিয়েছেন ১২ এপ্রিল। ওই দিনই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। অথচ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রামু থানার এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার কীভাবে ১০ এপ্রিল কোনো নোটিশ ছাড়াই তাঁর চট্টগ্রামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসায় তদন্তের নামে তল্লাশি ও জিনিসপত্র তছনছ করতে পারেন? ঘটনা কিন্তু তাই হয়েছে। যদিও মামলায় আসামি হিসেবে তাঁর নাম নেই।

ওই সময় এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার তাঁর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তল্লাশির সময় তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নগদ ২৪ হাজার টাকা নিয়ে যান তিনি, যা মামলার জব্দতালিকায় দেখানো হয়নি।

এছাড়াও আরিফ উল্লাহকে গ্রেপ্তারের সময় নগদ ৯ হাজার টাকা ও বিকাশ থেকে ১৮ হাজার টাকা এবং একটি স্যামসাং আল্ট্রা এস২৪ মোবাইল সেটও জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু মামলার জব্দতালিকায় সেসবও দেখানো হয়নি।

এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আনোয়ার। তিনি দাবি করেন, মামলার তদন্তের বাইরে সামান্যও বেশি কিছু করেননি।

তাঁর ভাষায়, "আমি ভালো কাজ করছি। তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "ছয় লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। নিশানের নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির বিষয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে নাছিরদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের টাকা-পয়সা চাওয়া হয়নি।"




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।