জামান পলিথিন স্টোরের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

জামান পলিথিন স্টোরের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

জামান পলিথিন স্টোরের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

ঈদগাঁওয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জাল চুক্তিপত্র তৈরি করে পৃথক ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। ম্যানেজার, তাঁর স্ত্রী ও দুলাভাইকে আসামি করে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ঈদগাঁও) আদালতে এ অভিযোগ দাখিল করেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) দাখিল করা মামলার বাদী আশরাফুজ্জামান বাবু ঈদগাঁও হাইস্কুল মার্কেটের “মেসার্স জামান পলিথিন স্টোর”-এর স্বত্বাধিকারী। 
মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদের পশ্চিম মুহুরীপাড়ার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ মহিউদ্দিন, তাঁর স্ত্রী মিসকাতুল জান্নাত রিফা এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার করায়ানগর ইউনিয়নের ছোট বারোদুনার আদু মুহুরী পাড়া গ্রামের আলী আহমদের ছেলে আবদুল শুক্কুর। মহিউদ্দিন ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ছিলেন। আবদুল শুক্কুর মহিউদ্দিনের দুলাভাই। মামলায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪০৮, ৪০৯, ৪১১, ৪১৪, ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ৫০৬(২), ১২০খ, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব জব্দ করে অর্থ আদায়ের প্রার্থনা করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, পিতার মৃত্যুর পর আশরাফুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি চাকরির প্রয়োজনে চট্টগ্রামে থাকায় তিনি মহিউদ্দিনকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দোকানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। মালামাল ক্রয়-বিক্রয়, বিক্রয়লব্ধ অর্থ গ্রহণ ও জমা, গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওনা আদায়, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেনসহ যাবতীয় আর্থিক কার্যক্রমের দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। বাদীর অভিযোগ, মালিকের অজ্ঞাতসারে ও অনুমোদন ছাড়া মহিউদ্দিন বিক্রয়লব্ধ অর্থ ও গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা টাকার বড় অংশ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত হিসাবে জমা না দিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুরু করেন। এই কার্যক্রম আড়াল করতে তিনি প্রতিষ্ঠানের গোডাউনকে নিজের নামে ভাড়া নেওয়া দেখিয়ে একটি জাল ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র তৈরি করেন।
মামলায় বলা হয়, জাল চুক্তিপত্রের বিষয়টি জানার পর বাদী গোডাউনের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি কোনো ভাড়া চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, আবদুল শুক্কুরের সহায়তায় মহিউদ্দিন ওই জাল দোকান ভাড়া চুক্তিপত্র তৈরি করেন এবং চুক্তিপত্রে আবদুল শুক্কুর সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। বাদীর দাবি, ওই চুক্তিপত্র ব্যবহার করে ২০২৪ সালে ৪নং ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে “মেসার্স আনান এন্টারপ্রাইজ” নামে পৃথক একটি ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়, যা পরে নিয়মিত নবায়ন করা হয়। সর্বশেষ নবায়ন হয় ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে মহিউদ্দিন ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের ঈদগাঁও শাখায় “এম/এস আনান এন্টারপ্রাইজ” নামে দুটি চলতি হিসাব খোলেন। ইসলামী ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৪ কোটি ৮৭ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং পূবালী ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৪১ লাখ ২৯ হাজার টাকা জমা করে পরে তা সরিয়ে ফেলে আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া মহিউদ্দিনের স্ত্রী একজন গৃহিণী এবং তাঁর কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও তাঁর নামে ইসলামী ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবে প্রায় ৪৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা জমা করা হয়। একইভাবে ইউনিয়ন ব্যাংকে মহিউদ্দিনের নিজ নামের হিসাবে প্রায় ১ কোটি ৬৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা এবং পূবালী ব্যাংকে তাঁর নিজ নামের আরেকটি হিসাবে প্রায় ২৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জমা ও স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া নামে-বেনামে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন বাদী।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, আত্মসাৎকৃত অর্থের একটি অংশ আবদুল শুক্কুরের মাধ্যমে ঈদগাঁও ইসলামপুরের মিতালী সল্টসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীর মাধ্যমে লবণের ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। আবদুল শুক্কুর অর্থের উৎস জেনেও তা গ্রহণ করে ব্যবসায় খাটিয়েছেন এবং উৎস গোপনে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ। মহিউদ্দিনের স্ত্রী জেনেশুনে নিজের হিসাবে অর্থ গ্রহণ ও রক্ষণ করেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর হিসাবে, আত্মসাতের মোট পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা। এর মধ্যে মহিউদ্দিন তিন দফায় ৩০ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ফেরত দিয়েছেন। বাকি অর্থ উদ্ধার হয়নি। এর বাইরে ম্যানেজার থাকাকালে মালিকের অজ্ঞাতসারে বিভিন্ন পার্টির কাছ থেকে মালামাল কিনে প্রায় ৯৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার দেনা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা বকেয়া পাওনা আছে।
মামলায় বলা হয়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) বিভিন্ন সূত্রে বাদী “মেসার্স আনান এন্টারপ্রাইজ” ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে জানতে পারেন। বিষয়টি জানাজানি হলে মহিউদ্দিন আর্থিক অনিয়মের কথা স্বীকার করে পাঁচটি হিসাবের স্টেটমেন্ট বাদীকে দেন। ওই স্টেটমেন্ট ও দোকানের হিসাব পর্যালোচনা করে বাদী হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের অসংগতি পান। অভিযোগে বলা হয়, একই দিন আসন্ন বিপদ বুঝতে পেরে মহিউদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের “আনান এন্টারপ্রাইজ” হিসাব থেকে নগদ ৯ লাখ টাকা তুলে নেন। এ ছাড়া পূবালী ব্যাংকের দুটি হিসাব থেকে সিটি জোন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্থানান্তর করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজের আত্মীয়ের ব্যাংক হিসাবেও আত্মসাৎকৃত অর্থ পাঠিয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, গত ৯ অক্টোবর (২০২৬) সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মহিউদ্দিন অর্থ আত্মসাতের সমস্ত দায় স্বীকার করে একটি অঙ্গীকারনামা ও দায়স্বীকারপত্র সম্পাদন করেন। তাতে তিনি ৯৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার দেনা ব্যক্তিগত দায় হিসেবে স্বীকার করেন এবং ক্রেতাদের কাছে পাওনা অর্থ আদায় করে প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। শর্ত ভঙ্গ হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও তিনি সম্মত হন। জামানত হিসেবে তিনি ইউনিয়ন ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের দুটি স্বাক্ষরিত চেক বাদীকে দেন।
মামলায় বলা হয়, অঙ্গীকারনামা অনুযায়ী পুনরায় দোকানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পর মহিউদ্দিন ১০ ও ১১ অক্টোবর, মাত্র দুই দিন ব্যবসা পরিচালনা করেন। এরপর থেকে তিনি বিনা নোটিশে অনুপস্থিত আছেন। এতে ব্যবসা পরিচালনায় ব্যাপক বিঘ্ন ও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে বাদীর দাবি। বাদীর আশঙ্কা ছিল, মহিউদ্দিন প্রতিষ্ঠানের দেনা-পাওনা, মজুদ মালামাল, হিসাবপত্র ও নথিপত্রের ক্ষতিসাধন বা গোপন করতে পারেন, কিংবা আত্মগোপনে যেতে পারেন। এ আশঙ্কায় গত ২২ অক্টোবর আইনগত অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাদী ঈদগাঁও থানায় লিখিতভাবে বিষয়টি জানান (এসডিআর নং ১৬২০)। মামলায় অভিযোগ করা হয়, থানা থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মহিউদ্দিন ফোন রিসিভ করেননি এবং বাড়িতে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অভিযুক্তরা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল দলিল আসল হিসেবে ব্যবহার ও ষড়যন্ত্রের মতো অপরাধ করেছেন।
মামলাটি দাখিলের পর আদালত তা আমলে নিয়েছেন এবং ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) কক্সবাজারকে। আদালত সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। 
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




এক অফিসে প্রায় ৩ বছর, বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খালেদা বেগম

এক অফিসে প্রায় ৩ বছর, বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খালেদা বেগম
ছবি সংগৃহীত।

একই কর্মস্থলে দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে কর্মরত থেকে নানা অনিয়ম ও বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং নিজের পদবিকে ‘কর্মকুত্তা’ বলে ব্যঙ্গ করার কারণে ইতিপূর্বে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব। একের পর এক এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ জনগণ।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত তহশিলদার খালেদা বেগমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি, কাজের দীর্ঘসূত্রতা এবং নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় ও সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে নামজারি, খাজনা প্রদান, ভূমি উন্নয়ন কর ও খতিয়ানসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করার পরও কখনো কাগজপত্রের ঘাটতি, আবার কখনো নানা অজুহাতে সেবাপ্রার্থীদের দিনের পর দিন অফিসে ঘোরানোর অভিযোগ রয়েছে।

নুরুল করিম নামের এক ভুক্তভোগীর দাবি, সাধারণ মানুষ সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে সেবা নিতে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চাপ তৈরি করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এই ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন সেবা দ্রুত করে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের কিছু কার্যক্রমে ওই চক্রের প্রকাশ্য প্রভাব রয়েছে। ভূমি অফিসে সেবার প্রতিটি ধাপ, সরকারি ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা প্রকাশ্যে টানিয়ে দিলে এ ধরনের হয়রানি অনেকাংশে কমবে।

চিরিংগা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত তহশিলদার) খালেদা বেগম বলেন, “এসব অভিযোগ সত্য নয়, বরং এগুলো আমার বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”

চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভূমি অফিসে সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।




কক্সবাজারে ৩৫ টির বেশি দেশের অংশগ্ৰহণে দুইটি আন্তর্জাতিক আইইইই সম্মেলন

কক্সবাজারে ৩৫ টির বেশি দেশের অংশগ্ৰহণে দুইটি আন্তর্জাতিক আইইইই সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩৫টির বেশি দেশের অংশগ্ৰহণে বিইউবিটির আয়োজনে দুটি আন্তর্জাতিক আইইইই সম্মেলন। শহরের একটি তারকা হোটেলের কনফারেন্স হলে ১ নভেম্বর অনলাইনে টেকনিক্যাল সেশনের মধ্য দিয়ে তিনদিন ব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হয়।

১১তম আইইইই এশিয়া-প্যাসিফিক কনফারেন্স অন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং-আইইইই সিএসডিই এবং ১২তম আইইইই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাসটেইনেবল টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-আইইই আই-কোস্ট সম্মেলনে 
পাঁচটি কিনোট-টক, ৮৬টি অনলাইন টেকনিক্যাল সেশন, ২১টি অন-সাইট সেশন এবং যৌথ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান রয়েছে।

সম্মেলনে আলোচকরা হলেন, আইইইই ফেলো অধ্যাপক ড. ইয়াং শিয়াং, অধ্যাপক ড. ইউই-নাম হুহ, অধ্যাপক ড. ওয়াং লিমসুন, এসিএম ফেলো অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান এবং অধ্যাপক ড. শামস রহমান।

তাঁদের উপস্থাপনায় উদীয়মান প্রযুক্তি, গবেষণার চ্যালেঞ্জ এবং কম্পিউটিং ও টেকসই প্রকৌশলের অগ্ৰগতি সম্পর্কে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

সম্মেলন দুটিতে মোট ৫৫৪টি নিবন্ধিত গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে আইইইই আই-কোস্ট ২০২৬-এ ২১৭টি এবং আইইইই সিএসডিই ২০২৬-এ ৩৩৭টি গবেষণাপত্র রয়েছে। গবেষণাপত্রগুলোর বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার বিজ্ঞান, ডেটা সায়েনস, কৃত্ৰিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি, স্মার্ট কৃষি, ইন্টারনেট অব থিংস, সাইবার নিরাপত্তা, শিল্প অটোমেশন ও রোবোটিক্স।

অংশগ্ৰহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রৰ, যুক্তরাজ্য, চীন, ইন্দোনেশিয়া, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, ফিজি, রুয়ান্ডা, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, জাপান, আফগানিস্তান, ইউক্রেন, মরিশাস ও পাকিস্তানসহ প্রায় ৩৫টি দেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভাসিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ নাফে আস-সাবের।

বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) অধ্যাপক এবং আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান এবং চ্যাপ্টারের চেয়ার-ইলেক্ট এবং উভয় সম্মেলনের পুরস্কার কমিটির চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিইউবিটির উপাচার্য এবং উভয় সম্মেলনের পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ড. এ বি এম শওকত আলী।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম সোহেল রহমান আইইইই সিএসডিই ২০২৬-এর জেনারেল চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ আইইইই আই-কোস্টের জেনারেল চেয়ার হিসেবে রয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক কনফারেন্স দুটির উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য এবং ড. মুহাম্মদ আমিনুর রহমান উভয় সম্মেলনের অৰ্গানাইজিং চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আইইইই সিএসডিই-এর জেনারেল কো-চেয়ার এবং আইইইই আই-কোস্টে-এর টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম কমিটির (টিপিসি) চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব জানান, কক্সবাজার ও বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের নীল-অর্থনীতির উন্নয়নে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা জোরদার করা সম্মেলন দুটির অন্যতম লক্ষ্য। এ আয়োজন একাডেমিক গবেষণার সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগের সংযোগ স্থাপন এবং কক্সবাজারের টেকসই উন্নয়নে প্ৰযুক্তিনি্ভর সমাধানকে উৎসাহিত করছে। পাশাপাশি অংশগ্ৰহণকারীদের পেশাগত যোগাযোগ গড়ে তোলা ও ভবিষ্যৎ যৌথ গবেষণার সুযোগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্ৰ তৈরি করছে।

সহযোগী সংস্থা ও পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে রয়েছে বিইউবিটি, আইইইই, আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টার, আইইইই সিস্টেমস কাউন্সিল, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, বিডিএআই এবং মার্কো রোবোটিক্স বিডি।

আগামী ৩ নভেম্বর যৌথ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক এই সম্মেলন দুটি সমাপ্ত হবে।




চকরিয়ায় ১০টার পর অফিসে আসেন ভূমি কর্মকর্তা, প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের সঙ্গে তর্ক

চকরিয়ায় ১০টার পর অফিসে আসেন ভূমি কর্মকর্তা, প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের সঙ্গে তর্ক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়মিত দেরিতে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার খালেদা বেগমের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন সকাল ১০টার পর অফিসে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি অনুসন্ধানে চিরিংগা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান দৈনিক সাঙ্গুর চকরিয়া প্রতিনিধি এইচ এম রুহুল কাদের। এ সময় খালেদা বেগমের কাছে প্রতিদিন সকাল ১০টার পর অফিসে আসার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। উল্টো সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন, “কেন প্রশ্ন করবেন?” তিনি বলেন, “১০টায় আসব নাকি কয়টায় আসব, সেটা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবে।” এ নিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সময়মতো কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা পেতে তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”