জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায় যুক্তরাষ্ট্র: ওয়াশিংটন পোস্টের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

বাংলাদেশে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াশিংটন পোস্ট' বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন কূটনীতিকরা ঢাকায় কর্মরত এক নারী সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা একটি অডিও রেকর্ডে দেখা যায়, ঢাকাভিত্তিক একজন মার্কিন কূটনীতিক বলছেন, "আমরা চাই জামায়াত আমাদের বন্ধু হোক।" আলাপকালে ওই কূটনীতিক মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকেছে এবং আগামী নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ছাত্রশিবিরের নেতাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আনা এবং তাঁদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়েও আগ্রহ দেখান তিনি।
তবে শরীয়াহ আইন প্রবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কঠোর। ওই কূটনীতিক স্পষ্টভাবে জানান, জামায়াত যদি ক্ষমতায় এসে শরীয়াহ আইন চালু করে বা নারীদের কর্মসংস্থানে বাধা দেয়, তবে পরদিনই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, "জামায়াত এটি করবে না, কারণ তারা জানে অর্থনীতি ধ্বংস হলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না। আমরা তাদের স্পষ্ট বার্তা দেব।"
ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই এ প্রসঙ্গে জানান, গত ডিসেম্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি নিয়মিত বৈঠকের অংশ ছিল এই আলোচনা। এটি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, জামায়াতের আন্তর্জাতিক মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর ওয়াশিংটন ও ঢাকায় মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁদের একাধিক বৈঠক হয়েছে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, ভারত জামায়াতকে অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।












