জামায়াত নেতা পল্লী চিকিৎসক আব্দুল হামিদ তাঁর পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৩
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন

জামায়াত নেতা পল্লী চিকিৎসক আব্দুল হামিদ তাঁর পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৩

জামায়াত নেতা পল্লী চিকিৎসক আব্দুল হামিদ তাঁর পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৩
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে সরকারি পুকুর ইজারা নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো ক্ষুর, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে চালানো এই হামলায় কোনাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি ও স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল হামিদ (৩৮)-সহ তাঁর ছোট ভাই ও চাচাতো ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার পাশাপাশি নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে চকরিয়া থানাধীন কোনাখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের শহর আলী পাড়া স্টেশনের পূর্ব পাশে তৌহিদের চা দোকানের সামনের রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত জামায়াত নেতা পল্লী চিকিৎসক আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।


হামলায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন— কোনাখালী ইউনিয়নের নয়া ঘোনা এলাকার মোস্তাক আহমদের ছেলে এবং ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি আব্দুল হামিদ (৩৮),


তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদ সিফাত (২২) এবং তাঁদের চাচাতো ভাই শেখ সালাহউদ্দিন। আহতরা বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


থানায় এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— শহর আলী পাড়ার আমির হোসেনের ছেলে নুরুল আলম নুরু (৩৮), নতুন খোনা পাড়ার ফকির মোহাম্মদের ছেলে জাকের হোসেন প্রকাশ শুরাইয়া (২৪), আমির হোসেনের ছেলে শফি আলম (২৬), মৃত খাদেম আলীর ছেলে আহমদ হোসেন (৫৮), আমির হোসেনের ছেলে শামসুল আলম (৪২) এবং তার ভাই মনির আলম (২৮)।


এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনাখালী ইউনিয়নে বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেড ক্রিসেন্ট সাইক্লোন সেন্টারের পাশে দুটি সরকারি পুকুর রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, নুরুল আলম নুরু ও তাদের সহযোগীরা পুকুর দুটি গায়ের জোরে অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।


সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, চকরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সরকারি নিয়ম মেনে পুকুর দুটি ইজারা (লিজ) নেওয়ার জন্য আবেদন করেন জামায়াত নেতা ডাঃ আব্দুল হামিদ। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সাবেক সরকারি দলের সুবিধাভোগী ওই চক্রটি। তারা আব্দুল হামিদ ও অন্যান্য ইজারা প্রার্থীদের বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।


আজ ৩টার দিকে ডাঃ আব্দুল হামিদ তাঁর বসতবাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে নিজের চেম্বারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি শহর আলী পাড়া স্টেশনের পূর্ব পাশে তৌহিদের চা দোকানের সামনে পৌঁছানো মাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা আসামিরা দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর পথরোধ করে,তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ক্ষুর দিয়ে তাঁর মুখের বাম পাশে ও গালে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে।


এদিকে আব্দুল হামিদের শোর-চিৎকার শুনে তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদ সিফাত ও চাচাতো ভাই শেখ সালাহউদ্দিন তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাঁদের ওপরও ঝাঁপিয়ে পড়ে ধারালো ক্ষুর দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের মুখের নিচে ও ঠোঁটে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।


চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, কোনাখালীতে মারামারির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।