জিআই ট্যাগ বানালো সরকার, ব্যবহার করতে হবে পণ্যের প্রচার-বাজারজাতে
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন

জিআই ট্যাগ বানালো সরকার, ব্যবহার করতে হবে পণ্যের প্রচার-বাজারজাতে

জিআই ট্যাগ বানালো সরকার, ব্যবহার করতে হবে পণ্যের প্রচার-বাজারজাতে
ছবি সংগৃহীত।

দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করতে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) ট্যাগ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জিআই ট্যাগ তৈরি করা হয়েছে। এ ট্যাগ ব্যবহার করে পণ্যের প্রচার, বাজারজাতকরণ এবং প্রদর্শনী কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশীয় পণ্যের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়ে। তবে, এ ট্যাগ বিকৃতি করলে পড়তে হবে শাস্তির মুখে।

ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) বিধিমালা সংশোধন করে ট্যাগের ডিজাইন এবং এর ব্যবহারসংক্রান্ত নিয়ম-কানুন যুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে এ সংশোধিত বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জিআই পণ্য এমন একটি পণ্য, যার বিশেষ গুণ, মান বা খ্যাতি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অর্থাৎ কোনো পণ্য যদি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে উৎপাদিত হয় এবং সেই অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া, ঐতিহ্য বা কারিগরি দক্ষতার কারণে আলাদা বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, সেটিই জিআই পণ্য।

বাংলাদেশে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর পণ্যের জিআই সনদ দিয়ে থাকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে ৬২টি পণ্যকে জিআই সনদ দেওয়া হয়েছে। দুটি পণ্যের (রাজবাড়ীর চমচম ও সাতক্ষীরার মাটির টালি) জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে, আর দুটি পণ্যকে (মানিকগঞ্জের হাজারি গুড় ও জয়পুরহাটের লতিরাজ কচু) জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট জারির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ট্যাগ চালুর ফলে দেশের জিআই পণ্যের একটি অভিন্ন পরিচিতি তৈরি হবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা বাড়াবে। একই সঙ্গে ভেজাল বা নকল পণ্য শনাক্ত করাও সহজ হবে।

এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আমরা ২০১৫ সালের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) বিধিমালায় সংশোধন এনেছি। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী জিআই পণ্যে ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে। ট্যাগটিও আমরা তৈরি করে দিয়েছি।’

‘সংশোধিত বিধিমালায় জিআই পণ্যে নির্ধারিত ট্যাগ ব্যবহারের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। অনুমোদিত এ ট্যাগ ব্যবহার করে জিআই পণ্যের মান ও স্বকীয়তা চিহ্নিত এবং রপ্তানি সহজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’— শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান

তিনি বলেন, ‘জিআই পণ্যকে চেনার জন্য একটা লোগো লাগে, সারা ওয়ার্ল্ডেই আছে। এটা আমরা নিজেরা একটা ঠিক করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি ভেটিংয়ের জন্য। তারা সেটি অনুমোদন দেওয়ার পর সংশোধিত বিধিমালাটি জারি হয়েছে।

যাদের আমরা জিআই পণ্যের মালিকানা দিয়েছি, এদের আমরা বলবো যে এই জিআই পণ্যের সাথে এই ট্যাগটা যেন ব্যবহার করে। মানুষ যেন জানতে পারে যে এটা জিআই পণ্য এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন পণ্য। এটার জন্যই ট্যাগটা করা হয়েছে। বিদেশে যদি রপ্তানি করে, তাহলে এই ট্যাগটা লাগিয়ে বিদেশে রপ্তানি করবে।’

পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, আমরা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দিচ্ছি, কিন্তু এটা যে জিআই পণ্য মোড়কে সেই সংক্রান্ত কোনো প্রামাণ্য কিছু ছিল না। এখন থেকে যারা জিআই পণ্য উৎপাদন করবে তারা এ ট্যাগটা ব্যবহার করবে। সবাই ট্যাগটা দেখলেই বুঝতে পারবে, এটি একটি জিআই পণ্য।

ট্যাগের ডিজাইন, রং কী হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে বিধিমালায় বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

২০১৫ সালের বিধিমালা সংশোধন করে ২৮ এর পর নতুন তিনটি বিধি (বিধি ২৮ক, ২৮খ ও ২৮গ) যুক্ত করা হয়েছে। জিআই ট্যাগের ডিজাইনও দেওয়া হয়েছে।

যেমন হবে জিআই ট্যাগ
বিধিমালায় বলা হয়, ভৌগোলিক নির্দেশক ট্যাগে ‘G’ বর্ণ দিয়ে Geographical (ভৌগোলিক) শব্দকে নির্দেশ করবে এবং ‘i’ বর্ণ দিয়ে indication (নির্দেশক) শব্দকে নির্দেশ করবে। এ ট্যাগে সবুজ রঙের ‘G’ ব্যবহৃত হবে এবং ‘i’ এর উলম্ব অংশটি লাল রঙের ও উপরে সবুজ রঙের বৃত্তাকার ফোঁটার ভেতরে সাদা রঙে বাংলাদেশের মানচিত্র থাকবে। ট্যাগ লাইন হিসেবে ‘UNIQUE TREASURE OF BANGLADESH’ শব্দগুলো ব্যবহৃত হবে এবং ট্যাগ লাইনটি ট্যাগের বাম পাশের পাদদেশ থেকে শুরু করে ঘড়ির কাঁটার দিকে মুদ্রিত হয়ে ‘G’ এর ওপরের অংশে শেষ প্রান্ত বরাবর সমাপ্ত হবে। ‘G’ এর নিচে বক্রাকার অংশের বামপাশে এবং ট্যাগ লাইনের ভেতরের দিকে নির্দেশক চিহ্ন হিসেবে নিম্নমুখী তীরের দুইটি ফলা থাকবে, যার নিচের ফলাটি সবুজ ও ওপরের ফলাটি লাল রঙের হবে। ভৌগোলিক নির্দেশক ট্যাগটি বর্গাকৃতির (অনুপাত ১:১) হবে।

নিবন্ধিত ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের লেবেলিং ও মোড়কে জিআই ট্যাগ এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে তা সহজেই দৃশ্যমান হয়। অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের জিআই ট্যাগ ব্যবহারের পাশাপাশি নিজস্ব ব্র্যান্ডের নাম বা লোগো ব্যবহার করতে হবে।

কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে ট্যাগ
ভৌগোলিক নির্দেশক ট্যাগ নিবন্ধিত স্বত্বাধিকারী, অনুমোদিত ব্যবহারকারী, সরকার, বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশন বা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া কোন কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে বিধিমালায়।

ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের নিবন্ধিত স্বত্বাধিকারী বা অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা নিবন্ধিত ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য প্রচার, প্রসার, বাজারজাতকরণ বা বাণিজ্যিকীকরণ; শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অন্যান্য দপ্তর তাদের দাপ্তরিক ও প্রচার কার্যক্রম; সরকারি উদ্যোগে পর্যটন শিল্প বিকাশে বিমান বন্দর ও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রচার এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিক্রি ছাড়া প্রকাশ, প্রচার বা প্রদর্শনী কার্যক্রমে জিআই ট্যাগ ব্যবহার করা যাবে।

জিআই ট্যাগ ব্যবহারের নিয়মাবলি
সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের লেবেলিং ও মোড়কে জিআই ট্যাগ হুবহু ব্যবহার করতে হবে। এতে কোনো ধরনের পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংযোজন বা বিয়োজন করা যাবে না।

নিবন্ধিত স্বত্বাধিকারী নিশ্চিত করবে যে, জিআই ট্যাগ অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের দিয়ে বাংলাদেশে তার নিবন্ধিত জিআই পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। জিআই ট্যাগযুক্ত বা প্রত্যেক পণ্যের লেবেল বা মোড়কের পেছনের অংশে নিচের বাম দিকে রঙিন কালিতে প্রদর্শন করতে হবে এবং অন্যান্য প্যাকেট বা মডেলের ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে রঙিন কালিতে প্রদর্শন করতে হবে।

জিআই ট্যাগ বিকৃত, অবৈধ বা জনস্বার্থের পরিপন্থি কোনো কার্যে ব্যবহার করা যাবে না। কেই এটা করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

ভৌগোলিক নির্দেশক ট্যাগের স্বত্বাধিকার শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর সংরক্ষণ করবে।

জিআই পণ্য
বাংলাদেশের নিবন্ধিত ৬২টি জিআই পণ্যের মধ্যে রয়েছে— কালিগঞ্জের তোয়ালে, মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি, ফরিদপুরের পাট, মেহেরপুরের হিমসাগর আম, ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি, নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি, মেহেরপুরের মেহের-সাগর কলা, ঢাকাই ফুটি কার্পাস তুলার বীজ ও গাছ, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের জামুর্কির সন্দেশ, নওগাঁর নাক ফজলি আম, মুন্সিগঞ্জের পাতক্ষীর, দিনাজপুরের বেদানা লিচু, কুমারখালির বেডশিট, বরিশালের আমড়া, অষ্টগ্রামের পনির, কিশোরগঞ্জের রাতা বোরো ধান, গাজীপুরের কাঁঠাল, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি, শেরপুরের ছানার পায়েস, সুন্দরবনের মধু এবং গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনা।

এ তালিকায় আরও আছে— ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী মিষ্টি, কুমিল্লার খাদি, ঢাকাই ফুটি কার্পাস তুলা, মিরপুরের কাতান শাড়ি, সিলেটের মনিপুরি শাড়ি, সিরাজগঞ্জের গামছা, মাগুরার হাজরাপুরী লিচু, ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দই, মধুপুরের আনারস, নরসিংদীর লটকন, টাঙ্গাইল শাড়ি, জামালপুরের নকশিকাঁথা, গোপালগঞ্জের রসগোল্লা, রাজশাহীর মিষ্টি পান, নরসিংদীর অমৃত সাগর কলা, যশোরের খেজুরের গুড়, মুক্তাগাছার মণ্ডা, মৌলভীবাজারের আগর আতর, মৌলভীবাজারের আগর, রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আম এবং কুষ্টিয়ার তিলের খাজা।

এছাড়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে— কুমিল্লার রসমালাই, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম, বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, নাটোরের কাঁচাগোল্লা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশ্বিনা আম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া আম, শেরপুরের তুলশীমালা ধান, বগুড়ার দই, বাংলাদেশের শীতল পাটি, বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম, ঢাকাই মসলিন, রাজশাহী সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি, বাংলাদেশ কালিজিরা, দিনাজপুর কাটারিভোগ, বিজয়পুরের সাদা মাটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম, বাংলাদেশ ইলিশ এবং জামদানি শাড়ি।




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।