জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এবারের পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ– এই দুই গ্রেডে মোট ৪৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে।
এখন থেকে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ লিখে ফল জানতে পারবে। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালেও ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।

ফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।


জানা গেছে, এ বছর সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে গত ২৮ ডিসেম্বর একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন বাংলা, ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি এবং ৩০ ডিসেম্বর গণিত বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে ৩১ ডিসেম্বরের বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষা ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ডভিত্তিক আনুপাতিক হারে এবং উপজেলা পর্যায়ে নির্ধারিত কোটার ভিত্তিতে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

ঢাকা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বোর্ডের অধীনে মোট ৮৭ হাজার ৯৪৯ শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮০ হাজার ২১৮ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯১ দশমিক ২ শতাংশ। নিবন্ধিতদের মধ্যে ৭ হাজার ৭৩১ জন (৮ দশমিক ৮ শতাংশ) পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

এ ছাড়া পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সব বিষয়ে পরীক্ষা দেয়নি ১০ হাজার ৩০ জন। সব বিষয়ে অংশ নেয় ৭৭ হাজার ৯১৯ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পরীক্ষা দেয়নি।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় (প্রায় ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ)। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লায় ৪০ হাজার ২১৯ জন (প্রায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুরে ৪০ হাজার ২৩১ জন (প্রায় ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ) পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। এই দুই বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর ২৩ শতাংশের বেশি।

এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরে ৩৮ হাজার ৬৭৬ জন (প্রায় ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ), মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামে ২৯ হাজার ৫ জন (প্রায় ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ) পরীক্ষার্থী ছিল।

নতুন ও অপেক্ষাকৃত ছোট বোর্ডগুলোর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহে ২৩ হাজার ২০০ জন (প্রায় ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটে ২৩ হাজার ২২ জন (প্রায় ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ) পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এই দুই বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর ১৩ শতাংশের বেশি।

সবচেয়ে কম পরীক্ষার্থী ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালে। এ বোর্ডে ২০ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় (প্রায় ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ)।




শিক্ষক নিয়োগ ইস্যুর আন্দোলন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী: ‘চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কানে হাত দিয়ে দেখছে না’

শিক্ষক নিয়োগ ইস্যুর আন্দোলন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী: ‘চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কানে হাত দিয়ে দেখছে না’
ছবি সংগৃহীত।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, “চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কানে হাত দিয়ে দেখছে না কানটি রয়েছে কি না। একটি সভার সিদ্ধান্তের (রেজোলিউশন) আলোচনার অংশবিশেষ কেটে প্রচার করা হয়েছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। মন্ত্রীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা থাকলেও সেই অংশ বাদ দিয়ে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।”

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে ‘সমৃদ্ধ অর্থনীতির বিনির্মাণে শিক্ষা: দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা ও বৈশ্বিক গতিশীলতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না। গতকাল রাতে শুনলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল হচ্ছে। একটি মিটিংয়ের সিদ্ধান্তের আলোচনার জায়গাটি কেটে কোনো এক গুপ্ত ব্যক্তি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট অংশটি দেখিয়েছে। কিন্তু তার নিচে যে অংশ রয়েছে—মন্ত্রী সেটি দেখবেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন, তারপর সেটির প্রজ্ঞাপন জারি হবে। সেই বিষয়টি কিন্তু ওই প্রজ্ঞাপন বা চিঠির মধ্যেই রয়েছে। সেটুকু বাদ দিয়ে পত্রিকায় ছাপিয়ে দিল, আর তা নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা মিছিল শুরু করে দিল।”

সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা আলোচনার টেবিলে আলোচনা করা হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত হয়ে আমার কাছে আসবে। সেই খসড়া সিদ্ধান্তই কি মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটি কি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত? এটি কি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটি কি দলীয় সিদ্ধান্ত? একবারও ভেবে দেখল না! চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কিন্তু কানে হাত দিয়ে দেখছে না নিজের কানটি আছে কি না।”

এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “২০০৪ সালে আমি নিজে শিক্ষকদের মর্যাদা দেওয়ার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করে এই এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার এসে এনটিআরসিএ থেকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া শুরু করে। তারা ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ দিতে পারছে না, কারণ তাদের বয়স পার হয়ে গেছে। আমি রাস্তায় গাড়ি দিয়ে যাওয়ার সময় তারা আমার গাড়ির নিচে এসে মাথা দিয়ে দেয়—তাদের বয়স নেই। ১৮তম নিবন্ধনে প্রায় ১ লাখ শিক্ষককে এনটিআরসিএর লাইসেন্স ও সনদ দিয়েছে, কিন্তু চাকরি দেয়নি। তাদেরও বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ৭৭ হাজার পদ শূন্য হয়ে রয়েছে।”

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “তারা যেভাবে নিয়োগগুলো দিয়েছিল—নোয়াখালীর শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কুষ্টিয়ায়, রংপুরের শিক্ষককে খাগড়াছড়িতে, আর খাগড়াছড়ির শিক্ষককে লালমনিরহাটে। এই বদলি প্রক্রিয়া যে কতটা জটিল কাজ!”

৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “৯ হাজার শিক্ষককে নিয়োগ দিতে হবে। ৭৭ হাজার থেকে ৯ হাজার চলে গেলে বাকিদের আবার নথি বের করতে হবে এবং তাদের পরীক্ষা নিতে হবে।”

শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না জানিয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “একজন ছাত্র যখন শিক্ষকের সনদ পাবে, তাকে নিয়োগ দিতেই হবে। এখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি চলবে না।”




চট্টগ্রাম বোর্ডে শতভাগ পাস ২১ বিদ্যালয়ে, ৮টিতে কেউ পাস করেনি

চট্টগ্রাম বোর্ডে শতভাগ পাস ২১ বিদ্যালয়ে, ৮টিতে কেউ পাস করেনি
ছবি সংগৃহীত।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ২১টি বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে আটটি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ফলাফল ঘোষণা করেন।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ২১৮টি বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে শূন্য থেকে ১০ শতাংশ পাস করেছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০টি। ১১ থেকে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে ৪৬৮টি বিদ্যালয়ে। আর ৫১ থেকে ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে ৬৯৩টি বিদ্যালয়ে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২১৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। তাদের মধ্যে মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। 
এর আগে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।

এবার বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৪ হাজার ১২৩ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ২৭৫ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে।

এদিকে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে বান্দরবান। এ জেলায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং রাঙামাটিতে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ, মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং মহানগরসহ চট্টগ্রাম জেলায় ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।




পাসের হারে ৩ পার্বত্য জেলায় এগিয়ে বান্দরবান

পাসের হারে ৩ পার্বত্য জেলায় এগিয়ে বান্দরবান
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফলে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে বান্দরবান।

এ জেলায় ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলায় ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং রাঙামাটি জেলায় ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ফলাফল ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এছাড়া মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং মহানগরসহ জেলার পাসের হার ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। এর বাইরে বোর্ডের অধীন কক্সবাজার জেলার পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

ফলাফলে দেখা গেছে, এবার সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। এর আগে ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩, ২০২৪ সালে ১০ হাজার ৮২৩, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৫০ এবং ২০২২ সালে ১৮ হাজার ৬৬৪ জন।

এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২১৮টি কেন্দ্রে ১ হাজার ২১৮টি বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। এবার ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ১২৩ জন ছাত্র এবং ৫ হাজার ২৭৫ জন ছাত্রী।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে, আটটি বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি। এছাড়া শূন্য থেকে ১০ শতাংশ পাস করেছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০টি, ১১ থেকে ৫০ শতাংশ পাস করেছে ৪৬৮টি এবং ৫১ থেকে ৯৯ শতাংশ পাস করেছে ৬৯৩টি বিদ্যালয়।