টেকনাফে অপহরণ ও পাচার আতংক, সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ফেরার তাড়া
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

টেকনাফে অপহরণ ও পাচার আতংক, সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ফেরার তাড়া

টেকনাফে অপহরণ ও পাচার আতংক, সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ফেরার তাড়া
ছবি সংগৃহীত।

টেকনাফ কক্সবাজারের টেকনাফ এখন এক আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ঘেরা ও হ্নীলা ইউনিয়নের রোহিঙ্গা ক্যাম্প গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষের জীবন কাটছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই জনশূন্য হয়ে পড়ছে রাস্তাঘাট, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট। অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, খুন এবং সাগরপথে মানব পাচারের এক ভয়ংকর সিন্ডিকেট পুরো এলাকাকে জিম্মি করে ফেলেছে, যার ফলে পাহাড়ি, উপকূলীয় অঞ্চল ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার প্রায় ৩৫-৪০ হাজার মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। শুধু যে স্থানীয় বাংলাদেশীরা আতঙ্কে তাই নই; সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝেও এই আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিশেষ করে ​স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক মুসল্লি ফজর ও এশার নামাজ জামাতে পড়তে মসজিদে যাওয়ার সাহস না পেয়ে বাড়িতেই নামাজ আদায় করছেন। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরা থাকছেন চরম উৎকঠায়, যতক্ষণ না তারা নিরাপদে ঘরে ফিরছে। বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতা জালাল আহমদ বলেন, অনেকেরই চোখেমুখে এখন ভয়ের ছাপ। তারা বলছেন, সন্ধ্যা নামলে অনেকের সন্তানদের বাইরে যেতে দেওয়া এখন বড় ঝুঁকির কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে অপহরণের ঘটনা।

​গত ২২ এপ্রিল শিলখালী এলাকায় ট্রিপল মার্ডারের পর নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান চললেও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য দমানো সম্ভব হয়নি। অভিযানের ঠিক পরদিন ২৩ এপ্রিল নোয়াখালী পাড়া থেকে সিরাজ নামের এক শ্রমিককে সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এলাকাবাসীর সাহসিকতা ও প্রতিরোধের কারণে সে যাত্রা তিনি রক্ষা পেলেও জনমনে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা এখন সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে হয় মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করছে, আর না হয় তাদের আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের হাতে বিক্রি করে দিচ্ছে। একজনকে পাচারকারীদের হাতে তুলে দিতে পারলে ২০-২৫ হাজার টাকা পেয়ে যে কেউ। ফলে অনেকে লোভের বশির্ভূত হয়ে এ কাজে নেমে পড়েছে।

পাহাড়ে গড়ে তুলেছে যতসব অপরাধের আস্তানা।

​পাহাড়ের গহীন অরণ্যে গড়ে ওঠা অপরাধীদের গোপন আস্তানাগুলো যেন এক একটি জ্যান্ত নরক। সেখান থেকে পালিয়ে আসা একজন হচ্ছে দমদমিয়া এালাকার বাদল নামের এক তরুণ তার লোমহর্ষক বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে সে স্বেচ্ছায় সাগর পথে মালয়েশিয়া যেতে আরো ৪-৫ জন তরুণ বন্ধুদের সাথে এক দালালের সাথে কথা বলে টেকনাফ পৌরসভার বাস স্টেশনে যান। সেখানে অপর এক দালালের মাধ্যমে টমটম গাড়ি যোগে বাহারছড়ার একটি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছতেই তাদের চোখ কাপড় দিয়ে এবং হাত রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়েছে। এ অবস্থায় আরো ৫-৭ জন লোক অস্ত্র ঠেকিয়ে গভীর পাহাড়ের একটি আস্তানায় নিয়ে গিয়ে চোখের কাপড় খুলে দেয়। এ অবস্থায় তারা ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। সেখানে অন্ধকার আস্তানায় আরো অনেক মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এক পর্যায়ে প্রশ্রাবের কথা বলে পাহাড়ের খাদ থেকে লাফ দিয়ে সে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে, তার অপর ৩ বন্ধু ইতিমধ্যে সাগর পথে মালয়েশিয়া পৌঁছে গেছে।

সে আরো জানায়, অসংখ্য মানুষকে মুক্তিপণের জন্য নির্যাতন চালায়।  যারা টাকা দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের দালালের মাধ্যমে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডে পাচার করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় ৯ জন উদ্ধার এবং বহু নিখোঁজের ঘটনা এই পাচার চক্রের ভয়াবহতাকেই আবারও সামনে এনেছে।

​আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার উপকূল দিয়ে পাচারকালে অন্তত তিন হাজার ১৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ১১৭টি মামলায় এক হাজার ১০৭ জনকে আসামি করা হলেও অপরাধের মাত্রা কমেনি। গত এক বছরেই বাহারছড়া, জাহাজপুরা ও হ্নীলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১৮৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মাত্র তিন দিনেই ৩০ জনকে তুলে নেওয়ার ঘটনা পুরো এলাকায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয়রা কেবল সাময়িক অভিযান নয়, বরং পাহাড়ি অঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।