টেকনাফে গহীন পাহাড়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

টেকনাফে গহীন পাহাড়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার

টেকনাফে গহীন পাহাড়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

টেকনাফের গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, মর্টারের শেল, বোমা তৈরির উপকরণ এবং হ্যান্ড গ্রেনেডসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ৬৪ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড় ও বাহারছড়া ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাহাড়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই বেশ কিছু ডাকাত দল অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করে অবস্থান করছে। ওই ডাকাত দল স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অপহরণ, গুম, খুন এবং মানবপাচারসহ নানা অপরাধ করে আসছিল। শুধু তাই নয়, এ সমস্ত সশস্ত্র ডাকাত দল একই সঙ্গে সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানে সম্পৃক্ত রয়েছে। বিজিবির গোয়েন্দা দল বেশ কিছুদিন ধরেই এই ডাকাত দলগুলোর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে।

গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড় এলাকায় কিছু ডাকাত সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় রয়েছে। এ খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা তিন স্তরে বিভক্ত হয়ে একটি দল সীমান্ত এলাকায়, একটি দল রঙ্গীখালী পাহাড় এলাকায় এবং অপর একটি দল কক্সবাজারগামী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত ১১টার দিকে বিজিবি সদস্যরা ডাকাত দলকে রঙ্গীখালী এলাকার একটি পাহাড়ে দেখতে পান এবং সেখানে অবস্থানরত বিজিবি সদস্যরা তাদের সন্দেহজনক তৎপরতা লক্ষ্য করেন। পরে এলাকাটি ঘিরে ফেললে সশস্ত্র ডাকাত দলটি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি বর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। এ অবস্থায় ডাকাত দলটি তাদের অস্থায়ী ঘাঁটি ত্যাগ করে সংলগ্ন অপর একটি পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।

বিজিবি টহল দল উক্ত অস্থায়ী ঘাঁটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি G-3 রাইফেল, ১টি G-3 রাইফেলের অংশবিশেষ, একটি G-3 রাইফেলের ম্যাগাজিন, চারটি ওয়ান শুটার গান, একটি এলজি শুটার গান, ১টি MA-1 (Variant MK2), একটি একনলা গাদা বন্দুক (লং ব্যারেল), দুইটি সিলিং, তিনটি আর্জেস হ্যান্ড গ্রেনেড (লিভারসহ), ১টি মর্টারের গোলা, ১৭ কেজি গান পাউডার, ১০টি হাত বোমা তৈরির উপকরণ, ৮টি চাপাতি, ৫টি ছুরি, ১টি কাঁচি, ৩০২ রাউন্ড গুলি (১৪২ রাউন্ড এমজি, ১৩২ রাউন্ড রাইফেল/এসএমজি, ১ রাউন্ড পিস্তল, ৬ রাউন্ড ওয়ান শুটারের ছড়াগুলি এবং ২১ রাউন্ড M-1) ও ৫৪ রাউন্ড বিভিন্ন অস্ত্রের গুলির খালি খোসা উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে আসছিল।

উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ পতাকা উত্তোলনের পর থেকে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) চোরাচালান নিরোধ অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধার করে আসছে, যা এই অঞ্চলে প্রশংসার দাবি রাখে। এ পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৮২ হাজার ৬০ পিস ইয়াবা, ২৫.৪৬ কেজি গাঁজা, ২০.৭৫ লিটার বাংলা মদ, ১০০৮ ক্যান বিয়ার এবং ৩৫ বোতল ফেনসিডিলসহ ৮৮ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও ওয়ান শুটার গান-৪টি, বিদেশি রিভলবার-১টি, একনলা গাদা বন্দুক-৫টি, আর্জেস হ্যান্ড গ্রেনেড-১০টি, মর্টার শেল-২টি, একে-৪৭-১টি, এলজি গান-১টি, ক্রিচ লং বডি-২টি, বিদেশি অস্ত্র (UZI)-২টি, ম্যাগাজিন-১২টি এবং বিপুল পরিমাণের গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ জন আসামিকে ইতিপূর্বে আটক করা হয়।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।