টেকনাফে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, হাসি ফিরেছে কৃষক পরিবারে
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

টেকনাফে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, হাসি ফিরেছে কৃষক পরিবারে

টেকনাফে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, হাসি ফিরেছে কৃষক পরিবারে
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক পরিবারের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ধানের বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় কৃষকরা খুশি।

এ বছর তাঁরা ধানের মূল্যের পাশাপাশি খড় বা ‘বইজ্জ্যাল’-এর ভালো দাম পাচ্ছেন। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে খড়ের চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা তা বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। বোরো মৌসুমে আমন মৌসুমের চেয়ে বেশি লাভ হওয়ায় অনেক গ্রামীণ কৃষক এবারই প্রথম বোরো চাষ করেছেন।

নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন, এনজিওর মাধ্যমে খাল খনন ও বাঁধ নির্মাণের ফলে সেচ সুবিধা বাড়ায় টেকনাফ উপজেলায় বোরোর আবাদ বেড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সেচ মিটারের আওতায় আসায় উৎপাদন খরচ কমেছে। এ ছাড়া সরকারি প্রণোদনার আওতায় টেকনাফে ১ হাজার ২০০ কৃষককে ৫ কেজি বীজ ধান ও ২০ কেজি সার প্রদান করা হয়। এসব কারণে অন্য মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে আবাদ অনেক বেড়েছে।

হ্নীলার রঙ্গিখালী এলাকার কৃষক মফিজ আলম জানান, সময়মতো সেচ ও সার পাওয়ায় রেকর্ড পরিমাণ ফলন হয়েছে। হোয়াইক্যংয়ের কৃষক নূরুল আবছার বলেন, অনুকূল আবহাওয়ায় এবার সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। হাবিরছড়া এলাকার আব্দুল গফুর জানান, তিনি ব্রি ধান-৭৫ জাতের ধান রোপণ করে কানিপ্রতি ১০০ আড়ির ওপরে ফলন পেয়েছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে (২০২৫-২০২৬) টেকনাফে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। এ বছর ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৫০ হেক্টর বেশি। তথ্যমতে, হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ১ হাজার ৬৩০ হেক্টর, হ্নীলায় ১০০ হেক্টর, সাবরাং ও বাহারছড়ায় ৫০ হেক্টর করে এবং টেকনাফ সদর ইউনিয়নে ২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। সর্বোচ্চ আবাদ হয়েছে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে।

কৃষকরা ব্রি ধান-২৮, ৬৭, ৬৮, ৭৪, ৭৫, ৮৪, ৮৮, ৮৯, ৯২, ৯৯, ১০০, ১০১, ১০২, ১০৪, ১০৮ এবং বিনা-২৪ ও ২৫ জাতের ধানের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ব্রি ধান-৭৫-এর ফলন সবচেয়ে ভালো হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, আবাদকৃত জমি থেকে মোট ১১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে, যা থেকে প্রায় ৭ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন (৭৪ লক্ষ কেজি) চাল পাওয়া যাবে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং মাঠ পর্যায়ে সঠিক পরামর্শের কারণে এই সাফল্য এসেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, ইতিমধ্যে ৯৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই কৃষকরা প্রত্যাশিত ফলন ঘরে তুলতে পেরেছেন। আশা করা যায়, আগামী মৌসুমে আবাদ আরও বাড়বে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।