টেকনাফে শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে পড়া গ্রামে চেয়ারম্যানের নিজ উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন

টেকনাফে শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে পড়া গ্রামে চেয়ারম্যানের নিজ উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা

টেকনাফে শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে পড়া গ্রামে চেয়ারম্যানের নিজ উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলায় শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে পড়া অবহেলিত অজপাড়া গ্রামে বিজয়ের দিনে উদ্বোধন করা হয়েছে কোমলমতি শিশুদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়।

২নং হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ৬নং ওয়ার্ডে 'লেচুয়াপ্রাং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়' নামে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে এই প্রথম কোনো একটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হলো ওই ওয়ার্ডে। প্রতিষ্ঠানের জমি ও অর্থ দাতা হলেন, হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাকের আহমদের সভাপতিত্বে সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় এ উপলক্ষে একটি উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হ্নীলা ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ রফিক, আলী আকবর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার আমান উল্লাহ, উলুচামরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মাস্টার আব্দুর রহমান, নয়াপাড়া মোচনী আদর্শ বিদ্যাপীঠ-এর পরিচালক লোকমান হাকিম, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী শহীদ উল্লাহ, সমাজসেবক নুরুল আবছার, হোছন আহমদ, মাস্টার শাহজাহান, আব্দুল্লাহ মনির, জালাল উদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন হেলাল উদ্দিন, ফরিদ আলম, জুহুর আলম, আব্দুর রহমানসহ আরও অনেকে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আলী বলেন, "এই ওয়ার্ডের কোমলমতি শিশুদের লেখাপড়ার দুঃখ-দুর্দশা দেখে আমি নিজে থেকেই উদ্যোগী হয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছি। এই এলাকার মানুষ খুবই গরিব-অসহায়, তাঁদের পক্ষে এত বড় উদ্যোগ সম্ভব নয়, তাই নিজেই এলাকাবাসীকে নিয়ে শিক্ষিত সমাজ গড়তে এই প্রতিষ্ঠানটি করেছি। তাই এই এলাকার উপযুক্ত সকল শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, তবেই এই উদ্যোগ সফল হবে।"

অনুষ্ঠানে শিশুদের হাতে বই তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হ্নীলা ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই ৬ নং ওয়ার্ডে প্রায় ৪-৫ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।